ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ভারতের পরীক্ষা নেবে কে?

প্রকাশিত: ০০:০৫, ৩ নভেম্বর ২০২৩

ভারতের পরীক্ষা নেবে কে?

রকিবুল হাসানের 

প্রিয় পাঠক, কি দুর্দান্ত ছন্দেই না খেলে চলেছে ভারত। কোনোভাবেই রোহিত, কোহলি, সিরাজদের থামানো যাচ্ছে না। টানা সাত ম্যাচে জয় চাট্টিখানি কথা নয়। অথচ সব ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। কোনো বিভাগেই দলটির সঙ্গে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারছে না প্রতিপক্ষরা। বৃহস্পতিবার রাতে তো শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো বেইজ্জতি করেছেন ভারতীয় বোলাররা। 
টানা অপ্রতিরোধ্য ছন্দের কারণে এখন একটা প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সেটা হলোÑ এই অনিন্দ্য সুন্দর ভারতের পরীক্ষা নেবে কে? আদৌ কি তাদের পরীক্ষায় ফেলা সম্ভব। একটা বাজে দিন কি আসবে! সময়ই বলে দেবে এসবের উত্তর। তবে আপাতদৃষ্টিতে ভারত যেভাবে খেলছে তাতে আমার দৃষ্টিতে এবারের বিশ্বকাপ তাদের হাতে শোভা পেলেই বোধহয় বেশিরভাগ ক্রিকেটপ্রেমীর মনটা ছুঁয়ে যাবে ভালোলাগায়। 
প্রিয় পাঠক, ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে প্রতিপক্ষের এখন এই দশা হয়েছে, ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’। আমি এই কথাটি এজন্য বলছি যে, ভারতকে কোনো দিকে দিয়েই থামানো যাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ টস জিতলে বরং বিপাকে পড়ছে! টস জিতে গেলে ভারতকে আগে ব্যাটিং না বোলিংয়ে পাঠাবে সেটা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তাদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠালেও সমস্যা, তেমনি বোলিংয়ে পাঠালেও আতঙ্ক। গতকাল লঙ্কানদের এমনটা হয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছে পরে বোলিংয়ের সুবিধা নিয়ে যদি কিছু একটা করা যায়। কিন্তু আমরা কি দেখলাম। ভারত রানপাহাড় করল আবার বোলিংয়ে এসে দ্রুত ধসিয়ে দিল লঙ্কান লাইনআপ। এজন্য আমার মনে হচ্ছে, পরের ম্যাচগুলোতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা হয়তো টস জিততে চাইবেন না! তারা হয়তো ভাবতে পারেন, ভারত টস জিতে যেটা করে করুক!
একটা দল কতটা পরিপক্ব হলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না! ব্যাটিংয়ের গভীরতা যেমন, তেমনি বোলিংটা বৈচিত্র্যময়। কোহলি যেখান থেকে শেষ করে আবার সেখান থেকেই শুরু করে। বুমরাহ’র মতো ইয়র্কার এখন কেউ দিতে পারে না। স্পিনিং অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজাকে দেখুন। প্রায় প্রতি ম্যাচেই সে শেষ দিকে এসে দ্রুত রান করে। লঙ্কানদের সঙ্গেই দেখুন সাত নম্বরে নেমে ২৪ বলে করেন ৩৫ রান। এ রান করতে তিনি কিন্তু মাত্র একটি করে চার ও ছয় মেরেছেন। বাকি রানগুলো এক বা দুই করে নিয়েছেন। এমন একজন কুশলী ক্রিকেটার দলে থাকলে যে কোনো কাজ সহজ হয়ে যায়। সবমিলিয়ে ভারত এবার যেভাবে খেলছে তাতে তাদের কারা আটকাবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আদৌ আটকানো সম্ভব কিনা সেটাও আলোচনায় চলে এসেছে। 
প্রিয় পাঠক, এই মুহূর্তে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইও কিন্তু দারুণভাবে জমে উঠেছে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দিলে বাকি দুই স্থানের জন্য জম্পেশ লড়াই হবে। একজন হারবে তো অন্যজন জিতবে। এভাবে একজনের ভাগ্য খুলবে, আরেকজনকে হতাশায় ডুবতে হবে। ভারতের কাছে হারে শ্রীলঙ্কার আশা শেষ হয়ে গেছে। তবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে। আজ নেদারল্যান্ডস-আফগানিস্তান ম্যাচটি দুদলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটি যদি আফগানরা জিতে যায় তাহলে তারা কিন্ত সেমির দৌড়ে ভালোমতোই এগিয়ে যাবে। তাদের তখন আট পয়েন্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আফগানরা তাদের শেষ দুই ম্যাচ থেকে একটিতে জিততে পারলে সেমির টিকেট পেয়ে যেতে পারে। এটাই হয়তো এবারের বিশ্বকাপের বড় বিস্ময় হতে পারে!  
অনুলিখন : জাহিদুল আলম জয়

×