ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

‘ডোন্ট স্টিল দিস বুক’

এআই’র বিরুদ্ধে লেখকদের প্রতিবাদ

নওশাদ আহমাদ

প্রকাশিত: ১৯:২২, ১৩ মার্চ ২০২৬

এআই’র বিরুদ্ধে লেখকদের প্রতিবাদ

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই তরুণদের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করছে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা ছবি : এআই জেনারেটেড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির যুগে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সম্পর্ক নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। লেখক, শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীরা আশঙ্কা করছেন, তাঁদের বহু বছরের শ্রমে গড়ে ওঠা সাহিত্য ও শিল্পকর্ম অনুমতি ও পারিশ্রমিক ছাড়াই এআই কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি উন্নয়নের উপকরণে পরিণত হচ্ছে। এই উদ্বেগ থেকেই বিশ্বের হাজারো লেখক এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন- একটি বই প্রকাশ করে, যার পাতাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। ‘ডোন্ট স্টিল দিস বুক’ নামের এই প্রতীকী বইয়ে কোনো লেখা নেই; আছে শুধু প্রায় দশ হাজার লেখকের নাম, যারা এআই প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাতে একত্র হয়েছেন।
নোবেলজয়ী সাহিত্যিক থেকে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক- বিভিন্ন ধারার লেখকের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগটি সৃজনশীল অধিকার রক্ষার বৈশ্বিক আন্দোলনের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে। লন্ডন বুক ফেয়ারে বিতরণ করা এই ‘ফাঁকা’ বইটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানবসৃষ্ট সৃজনশীলতার ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিরও শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্য সরকার কপিরাইট আইনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে মূল্যায়ন করছে, যা এআই প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নোবেলজয়ী সাহিত্যিক কাজুও ইশিগুরো, ঔপন্যাসিক ও লেখক ফিলিপা গ্রেগরি এবং ব্রিটিশ লেখক ও উপস্থাপক রিচার্ড ওসমানসহ বিখ্যাত আরও অনেকেই আছেন এই অভিনব উদ্যোগের অগ্রভাগে। গত মঙ্গলবার লন্ডন বুক ফেয়ারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ফাঁকা’ বইটির কপি বিতরণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো লেখক ও শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে সাহিত্য ও প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন সুরকার ও শিল্পীদের কপিরাইট সুরক্ষার আন্দোলনকর্মী এড নিউটন-রেক্স। 

প্যানেল/মো.

×