অনলাইন ডেস্ক॥ বহুদিন আগে থেকেই আকাশে রহস্যময় আলো দেখে বহু মানুষই তাকে ভিনগ্রহের মানুষের উড়ন্ত যান বলে সন্দেহ করেন। যদিও রহস্যময় সেই আলোর কোনো কুলকিনারা করতে পারা যায়নি বহুদিন ধরেই। তবে সম্প্রতি একজন চীনা গবেষক এ বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যাকে ‘বল লাইটনিং’ থিওরি বলা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে মিরর।
আকাশে হঠাৎ রহস্যময় ভাসমান আলো দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। বজ্রপাতসহ ঝড়ের আগে এ বিষয়টি প্রায়ই দেখা যায়। যদিও এ রহস্যময় আলোর কোনো সমাধান করতে না পেরে একে অনেকেই ভিনগ্রহের প্রাণীদের বাহন হিসেবে মনে করতেন।
চীনা গবেষক এইচ.সি. উ যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তার ভিত্তিতে বলা চলে ইউএফও বা আনআইডেন্টিফাইড ফ্লাইং অবজেক্টের সঙ্গে বাস্তবে ভিনগ্রহের প্রাণীর কোনো সম্পর্ক নেই। আকাশে হঠাৎ হঠাৎ যে রহস্যময় আলো দেখা যায়, তা মূলত এক ধরনের রেডিয়েশনের ফলে সৃষ্ট আলো। একে ‘বল লাইটনিং’ বলা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি এ ‘বল লাইটনিং’ থিওরিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। কারণ ‘বল লাইটনিং’ থিওরি এ বিষয়টিকে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। চীনা গবেষক ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে অদ্ভুত এ আলোর উদ্ভব হয়। অন্য কোনো থিওরি এ বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়নি।
গবেষক বলছেন, সাধারণত ঝড়-বৃষ্টির আগে বজ্রপাত হওয়ার সময় তা মাটিয়ে পৌঁছালে ইলেক্ট্রন প্রবাহ প্রায় আলোর সমান গতিবেগ পায়। এ সময় প্রচুর মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন তৈরি হয়। এ রেডিয়েশনে বায়ুমণ্ডলে চার্জ প্রবাহিত হয়, যার প্রভাবে ‘গোলাকার প্লাজমা বুদবুদ’ তৈরি হয়, যা রেডিয়েশনকে ধারণ করে। আর এ জিনিসটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যা দূর থেকে দেখে ভিনগ্রহের প্রাণীদের বাহন বলে মনে করে অনেকেই।
বিশ্বের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি পাওয়া যায়, যাদের এ ধরনের অদ্ভুত আলো দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা জানান, আকাশে উজ্জ্বল একটি গোলাকার বস্তুকে চলতে দেখেছেন তারা। এছাড়া এ অদ্ভুত আলোর পাশাপাশি অদ্ভুত গন্ধের বিষয়ও অনেকে জানিয়েছেন। সম্পূর্ণ বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়ার পর অনেকেই এবার বলছেন, ইউএফও রহস্য তাহলে এই!






