ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তরু মুন্সি(৫৬) নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মুনছুর আলী মুন্সির ছেলে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন, গান্না ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান আলী।
শুক্রবার দুপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম বৈঠক নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে তরুসহ উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হন। হামলায় কৃষকদল নেতা তরু মুন্সির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়। রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
জামায়াতের হামলায় আহতদের মধ্যে গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের তরু মুন্সির ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি, ভাই হোসেন আলী, ভাতিজা শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সি জানান, শুক্রবার দুপুরে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা তালিম করার জন্য জড়ো হয়। মহিলা কর্মীদের জড়ো হওয়া দেখে প্রতিবেশি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। জামায়াতের নারী কর্মীরা লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরাও হামলায় অংশগ্রহন করেন।
তিনি বলেন, এই হামলায় জামায়াতের ওহিদুল, তাবিবুর, আব্দুল হামিদ নিলু, মনিরুল, নাসির ও প্লাবন লাঠিসোটা নিয়ে অংশ গ্রহন করে। সংঘর্ষের পর জামায়াতের লোকজন গান্না ইউনিয়ন বিএনপির অফিস ও বিএনপি নেতা শাহজাহান, ইলিয়াস হোসেন, আবুল কালাম ও তরু মুন্সির বাড়ি ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীরা ইফতার পার্টির আয়োজন করছিল। এতে বিএনপিরা হামলা চালায়। জামায়াতের নারী কর্মীরা বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে জামায়াতের সমর্থকরা সেখানে যায়। বিএনপির হামলায় তাদেরও ৫/৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবঅ করেন।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে। এলাকায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত দোষি ব্যক্তিরা যাতে গ্রেফতার হয় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নোভা








