ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

সংসদে ’ওয়াকআউট’ কী? কেন রাজনৈতিক দলগুলো তা করে?

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১২ মার্চ ২০২৬

সংসদে ’ওয়াকআউট’ কী? কেন রাজনৈতিক দলগুলো তা করে?

সংসদ মানেই বিতর্ক, যুক্তি আর ভোটাভুটি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। হঠাৎ বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে উঠে দাঁড়িয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করছেন। এই ঘটনাকে বলা হয় পার্লামেন্টারি ওয়াকআউট। এটি আসলে প্রতিবাদের এক বিশেষ সংসদীয় কৌশল, যার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত, বিল বা বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়।

বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক সংসদেই ওয়াকআউট দেখা যায়। কখনো কয়েক মিনিটের প্রতীকী প্রতিবাদ, আবার কখনো পুরো অধিবেশন বর্জন, দুইভাবেই এটি ব্যবহৃত হয়।

ওয়াকআউট কী এবং কেন?:

ওয়াকআউট হলো সংসদের কোনো বিষয়ে অসন্তোষ জানাতে সভাকক্ষ ত্যাগ করা। সাধারণত বিরোধী দল এই কৌশল ব্যবহার করে। উদ্দেশ্য হতে পারে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, সংসদের কার্যপ্রণালীর সমালোচনা বা জনমত তৈরি করা।

সংসদীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওয়াকআউট এক ধরনের রাজনৈতিক সংকেত। এতে সংসদের কার্যক্রম সবসময় বন্ধ না হলেও বিরোধীরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়।

কখনও কখনও এটি কৌশলগতও হয়ে ওঠে। যদি অনেক সদস্য একসঙ্গে বেরিয়ে যান, তবে উপস্থিত সদস্যসংখ্যা কমে গিয়ে কোরাম ভেঙে যেতে পারে, ফলে ভোট বা সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়।

বিভিন্ন দেশের সংসদে ওয়াকআউট:

বাংলাদেশ

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বহুবার ওয়াকআউট করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনও রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। এছাড়া নানা সময়ে বিভিন্ন বিল পাসের সময় বা সরকারের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দল কক্ষ ত্যাগ করেছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। 

ভারত

ভারতীয় পার্লামেন্টেও ওয়াকআউট একটি নিয়মিত রাজনৈতিক কৌশল। বিরোধী দল প্রায়ই বিতর্কিত বিল, তদন্ত দাবি বা রাজনৈতিক ইস্যুর প্রতিবাদে লোকসভা কিংবা রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে যায়।

পাকিস্তান

পাকিস্তান পার্লামেন্টেও বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। বিশেষ করে সরকারের নীতি বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

যুক্তরাজ্য

পার্লামেন্ট অফ ইউনাইটেড কিংডমে তুলনামূলক কম হলেও রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কক্ষ ত্যাগের নজির রয়েছে।

ইউএস কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায়ও ওয়াকআউট হয়েছে। কখনও কখনও বিরোধীরা কোরাম ভেঙে দিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুপস্থিত থেকেছেন।

মজার কিছু ঘটনা: 

বিশ্ব রাজনীতিতে ওয়াকআউট কখনও কখনও নাটকীয় রূপও নেয়।

২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় বিরোধী সদস্যরা একটি শ্রম আইন ঠেকাতে রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যান, যাতে কোরাম না হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা অধিবেশনে যোগ দেননি।

আবার ভারতে অনেক সময় বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করার আগে স্লোগান দেন, পোস্টার দেখান, তারপর একসঙ্গে বেরিয়ে যান। এতে সংসদের ভেতরে এক ধরনের নাটকীয় রাজনৈতিক দৃশ্য তৈরি হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াকআউট গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের স্বীকৃত পদ্ধতি হলেও এর সমালোচনাও রয়েছে। অনেকের মতে, অতিরিক্ত ওয়াকআউট সংসদীয় আলোচনাকে দুর্বল করে। কারণ সংসদের মূল কাজ হলো বিতর্ক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

তবে অন্যরা মনে করেন, যখন বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ কমে যায়, তখন ওয়াকআউটই তাদের শেষ রাজনৈতিক ভাষা হয়ে ওঠে।

সজিব

×