ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

যত চাপ আসুক না কেন ওই চাপে বাঙালি মাথা নত করে না

প্রকাশিত: ২০:১৬, ৭ জুন ২০২৩

যত চাপ আসুক না কেন ওই চাপে বাঙালি মাথা নত করে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশি-বিদেশি যত চাপ আসুক না কেন ওই চাপের কাছে বাঙালি মাথা নত করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার (০৭ জুন) ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

শেখ হাসিনা বলেন, দেশি-বিদেশি যত চাপ আসুক না কেন ওই চাপের কাছে বাঙালি মাথা নত করে না। আমার দেশের মানুষের ভোটের অধিকার আমরা সুরক্ষিত করব। আমরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করে গণতন্ত্র এনেছি। এই গণতন্ত্রিক অধিকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই আজকে বাংলাদেশে উন্নত হয়েছে। আর্থসামাজিক উন্নতি হয়েছে। আজকে মানুষের চিকিৎসার অভাব নেই। আমরা তাদেরকে বিনা পয়সায় ওষুধ দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। আমরা বিনামূল্যে ঔষধ দিচ্ছি। আমরা প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে মাত্র ১৪ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, সেই মর্যাদা আমরা তুলে এনেছি। আজকে আমাদের ইনশা আল্লাহ খাদ্যের কোনো অভাব নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ তারপরও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমরা দেশের বাইরেও রপ্তানি করতে পারব।পাশাপাশি আমাদের রপ্তানির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গার্মেন্টসের উপর নির্ভর করে থাকব না। আমরা আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। এই ডিজিটাল ডিভাইস আমরা এগুলো তৈরি করব। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগ আসছে। একশটা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ আসছে। আইসিটি, ডিজিটাল ডিভাইস এগুলো উত্পাদন করে আমরা রপ্তানি করব।

বিএনপির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এখন যদি তারা (বিএনপি) জ্বালাও-পোড়াও করে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, মানুষ খুন করে তাহলে আমেরিকার ভিসা পাবে না। ওটা নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নাই। 

শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলন করলে করতে দাও। আমার কোনো অসুবিধা নাই। আমি বলে দিয়েছি, যত আন্দোলন করে করুক। আমরা কিছু বলব না। আমাদের নজর রাখতে হবে, তারা অগ্নি সন্ত্রাস করেছে কিনা, মানুষকে পুড়িয়ে, হাত পা কেটেছে কিনা। সেটা যেন করতে না পারে। নিজের চোখ ক্যামেরা সবসময় ঠিক রাখতে হবে।

বিএনপিকে কেউ নাগরদোলায় বসিয়ে ক্ষমতা দিয়ে যাবে না উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের ক্ষমতা তারা বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে অন্য কোথাও থেকে এসে নাগরদোলায় চাপিয়ে কেউ তাদের ক্ষমতায় বসাবে। কেউ দেবে না। দেয় না। ব্যবহার করে। ব্যবহার করবে। কিন্তু দেবে না ক্ষমতা। এটা হচ্ছে বাস্তবতা। 

তিনি বলেন, ক্ষমতা একমাত্র জনগণ দিতে পারে। জনগণের এই অধিকার, সচেতনতা আমরা দিতে পেরেছি। এটা এ দেশে মানুষ জানে। 

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। দুর্ভাগ্য আমাদের। এক গেল করোনাভাইরাসের তিনটা বছর। সবকিছু চলাচল বন্ধ। অর্থনীতি একেবারে স্থবির। উন্নতি দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি। এরপরেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংশন। সবকিছু দাম এত বেড়ে গেছে!পণ্য ক্রয় ও পরিবহন দুই দিকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। 

শেখ হাসিনা জানান, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই হিসেব করে পণ্য কিনতে হয়। জনগণ চাইলেই বেশি পণ্য কিনতে পারছে না। সে দিক থেকে বাংলাদেশ ভালো আছে বলে জানান তিনি। 

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী আছে, যারা বুদ্ধি বেঁচে জীবিকা নির্বাহ করেন। বুদ্ধিজীবী। আমি বিদ্যুৎ দিয়েছি, তারা এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে বক্তৃতা দেয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নেয়। প্রাইভেট টেলিভিশনেও আওয়ামী লীগ সরকারই দিয়েছে। সেই টেলিভিশনের টক শোতে এসে আলোচনা করে- এই বাজেট আওয়ামী লীগ কোনোদিনও কার্যকর করতে পারবে না। আমি স্পষ্ট বলতে চাই, করতে পারব সেটা বুঝে শুনে আমরা বাজেট দিয়েছি। আমরা যা দিয়েছি আমরা তা করতে পারব।

এমএম

সম্পর্কিত বিষয়:

×