ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

স্বাধীনতা দিবসে কৃতজ্ঞ জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ

​​​​​​​বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৫০, ২৬ মার্চ ২০২৩

উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার ৫২ বছর পূর্ণ হওয়ার ঐতিহাসিক দিনে রবিবার স্বাধীনতার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যয় জানিয়েছে বাংলাদেশ। এক অন্য রকম স্বস্তি, আনন্দ শপথে জেগে উঠেছিল বাঙালি। দেশের পথে-প্রান্তরে পত্ পত্ করে উড়েছে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের  জাতীয় পতাকা। আর পতাকা জানান দিয়েছে, একটি স্বাধীন দেশের জন্মদিনের কথা। যে দেশটি অর্জনে ত্রিশ লাখ মানুষকে আত্মবলি দিতে হয়েছে।

জাতিরাষ্ট্রের জন্মের দিনটি বর্ণিল আয়োজনে উদ্যাপন করেছে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫২ বছর পূর্তি উদ্যাপন করল বাংলাদেশ, যে দেশের মানুষের সামনে এখন সোনালি ভবিষ্যৎ। সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব গণজাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তস্না লাল সবুজের পতাকা হাতে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা জঙ্গিবাদমুক্ত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা। কালরাত্রির আঁধার পেরিয়ে আত্মপরিচয় অর্জন পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিনটি বাঙালি জাতি হৃদয়ের গভীরতা থেকে শ্রদ্ধার সঙ্গেই পালন করেছে নানা অনুষ্ঠানমালায়। স্বাধীনতা দিবসে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ৫২ বছর পূর্ণ করা বাংলাদেশে এবার স্বাধীনতা দিবস এসেছে নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে। কিছুদিন পর জাতীয় নির্বাচন। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিরা আবারও দেশকে ছোবল মেরে বিষাক্ত করতে ফণা তোলার চেষ্টা করছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের সকল পক্ষশক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপশক্তিকে আবারও পরাজিত করে বিতাড়িত করার নতুন শপথে বলীয়ান হয়েছে। তাদের চোখেমুখে ছিল সামনে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণে প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ছিল স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় শপথ।

করোনা মহামারি সংক্রমণ কমে আসার কারণে এবার মানুষের ঢল নেমেছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে। রাস্তায় বের হওয়া শিশু-কিশোর তরুণদের হাতে শ্রদ্ধার ফুল, কারও গালে কিংবা কপালে আঁকা ছিল রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শার্ট, পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েদের পরনে লাল সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি। সবাই অংশ নিয়েছিলেন এবারের মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবসের আনন্দ উৎসবে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে তরুণ প্রজন্মরা শুনেছে তাঁদের বীরত্বগাথা ইতিহাস, জেনেছে একাত্তরে রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের গণহত্যা, মা-বোনদের সম্ভ্রমহরণ বুদ্ধিজীবীদের হত্যার কালো ইতিহাস।

তাই, শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাধারণ মানুষই নয়, তরুণ প্রজন্মের চোখে-মুখে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা-ধিক্কারের বহির্প্রকাশ ঘটেছে সর্বত্র। রাজধানী থেকে শুরু করে শহর-বন্দর-গ্রামে দেশের ৫২তম জন্মদিনের প্রতিটি অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের ব্যাপক উপস্থিতি, তাদের চোখে-মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখার দৃপ্ত শপথ আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রচ-তা প্রত্যক্ষ করেছে দেশের মানুষ। নতুন প্রজন্মের এমন গণজাগরণ আশাবাদী সাহসী করে তুলেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে। রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই দৃঢ় আশাবাদী- ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নতুন প্রজন্মের এমন জাগরণ জানান দিচ্ছে, যতই ফণা তোলার চেষ্টা করুক, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রবিরোধী অন্ধকারের শক্তির দিন শেষ। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের নির্মূল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন এক জন্মভূমির যাত্রা শুরু হবেই।

আনন্দ, বেদনা বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ এবং সন্ত্রাস জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক স্বনির্ভর সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে রবিবার বাঙালি জাতি অন্য রকম স্বস্তি উৎসবের আমেজে পালন করল মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস। শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারের বেদিমূল। লাল সবুজ পতাকা হাতে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে একই স্লোগান- ‘মুজিবের বাংলায়, স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিদের ঠাঁই নাই, জামায়াত-শিবির-রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।

তবে স্বাধীনতা দিবসে আনন্দমুখর উৎসবে বরাবরের মতো এবারও অন্তস্রোতে বয়ে গেছে স্বজন হারানোর বেদনা। আর বাঙালির জাতীয় জীবনে আনন্দ-বেদনার এমন দ্বৈরথের ঘটনা খুব বেশি নেই। বাঙালি জাতি আনন্দ আর বেদনার মহাকাব্য স্বাধীনতার সংগ্রামে একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতা আর হাজারো নারীর আত্মত্যাগের বীরত্বগাথা। অন্যদিকে বর্বর পাকসেনা আর রাজাকার-আলবদরদের নীচুতা, শঠতা হিংস্রতার কলঙ্কময় ইতিহাস।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় ৫২ বছর আগের দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ভূখন্ডে মানুষ। তার পরের মাস পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর চক্র চালিয়েছে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ। তাই স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে দেশবাসী শ্রদ্ধা আর বেদনায় স্মরণ করে যুদ্ধে নিহত স্বজনদের আর অসম লড়াইয়ে বিজয়ী রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।

ঢাকাসহ সারাদেশে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের জন্মের দিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতোই রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটি পালন করা হয়েছে জাতীয় দিবস হিসেবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেন এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সেখানে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার . শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানসহ পদস্থ সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পর স্পিকার প্রধান বিচারপতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সভাপতি হিসেবে আবারও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাধারণ ছুটির এই দিনে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোলা হয় জাতীয় পতাকা। ঢাকা দেশের বিভিন্ন প্রধান সড়ক সড়কদ্বীপগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবন স্থাপনায় গত কয়েক দিন ধরেই চলছে আলোকসজ্জা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফেডারেশন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি অগ্রগতি কামনায় দোয়া-প্রার্থনার পাশাপাশি মহানগর, জেলা উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিভিন্ন ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো সাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। জেলা উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর রবিবার মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরিদর্শন বইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবসে আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধা জানাই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের। হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর হাতে নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি জানাই আমার শ্রদ্ধা। বেদনা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি, আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা আমার তিন ভাই, ভ্রাতৃবধূসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদেরকে। আজকের এই দিনে আমি প্রত্যয় করছি যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলব। ইনশা আল্লাহ! মহান স্বাধীনতা জাতীয় দিবসে এটাই আমার প্রত্যয়।

স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল সাভার থেকে আমাদের প্রতিনিধি অঙ্গন সাহা জানান, রবিবার ৫২তম স্বাধীনতা দিবসে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। একই সঙ্গে দেশাত্মবোধক গানে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছিল স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ এবং কূটনীতিকরা স্মৃতিসৌধ এলাকা সকাল ৬টা ১৪ মিনিটে ত্যাগ করার পর স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে মানুষের ঢল নামে।

ভোর থেকে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন তারা তাদের ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে বেদিমূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক পেশাজীবী সংগঠনের লোকজন সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধভাবে স্মৃতিসৌধ বেদিতে পর্যায়ক্রমে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে থাকেন। সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও পরিবেশ সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল রাখার জন্য সাহায্য করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, . হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, . আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ নেতৃবৃন্দ।

সকাল আটটার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা সব সমস্যার সমাধান করতে পারব, যদি দেশটা টিকে থাকে। আর তার জন্য সাংবিধানিক ধারা রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক কর্তব্য পালন করার পাশাপাশি অন্য সকল সমস্যা আমরা মোকাবিলা করব।

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর পর আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক প্রবাসীরা দেশকে উন্নতির দিকে নিয়ে গেছে। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখনো আমরা গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করতে পারিনি।

সকাল নয়টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিন বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে-জাতীয় পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, গণবিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলসমূহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাবি অফিসার্স সমিতি, জাবি প্রেসক্লাব, কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন দুগ্ধ খামার, ভার্ক, সাভার পৌর মেয়র, শিক্ষক সমিতি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, ঢাবি কর্মচারি সমিতি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জাকের পার্টি, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান শিল্প গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, প্রশিকা, প্রজন্ম৭১, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোট, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ, ন্যাপ, বাংলা একাডেমি, টিআইবি সনাক সাভার, এপেক্স বাংলাদেশ, বিপিএটিসি, বিএলআরআই মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেদ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ আইন সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, গণবিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সড়ক জনপথ প্রকৌশলী সমিতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, সিআরপি, বিকেএসপি, জনতা ব্যাংক, পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ অজস্র সংগঠন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন স্বাধীনতা দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ  রবিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল জনারণ্য। অজস্র কৃতজ্ঞ বাঙালি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান স্বাধীন রাষ্ট্রের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগরণী দেশাত্মবোধক গান, স্লোগান আর মিছিলে মিছিলে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ দিনভর ছিল মুখরিত। হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন।

সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীর ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কিছু সময় কাটান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আমির হোসেন আমু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, শাজাহান খান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, কামরুল ইসলাম, . হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, মৃণাল কান্তি দাস, . আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আমিনুল ইসলাম আমিন, সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী এলাকা ত্যাগ করলে সর্বসাধারণের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অজস্র সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবসে রবিবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেদির পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর পর ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধুসহ৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায়   দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন তাঁরা।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আবুল বাশার খায়ের, সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ, পৌর মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রীর স্মারক উপহার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার স্বাধীনতা জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তাঁর শুভ কামনার স্মারক হিসেবে অতীতের মতো এবারও রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার গজনভী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন  কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য ফুল, ফল মিষ্টি পাঠান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)- গাজী হাফিজুর রহমান লিকু এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার--আলম সরকার তাঁদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিটি জাতীয় দিবসে এবং স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবে তাদের স্মরণ করার জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন এবং দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য শেখ হাসিনার  নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের প্রান্তিক জনগণ ভালো থাকে তাদের পরিবারসহ মুক্তিযোদ্ধারা ভালো থাকে বলে তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

×