ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

শেষ দিনে নিবন্ধন করেছেন ৭৮৩ জন

হজের কোটা পূরণ হয়নি, এখনো খালি ১২ হাজার

আজাদ সুলায়মান

প্রকাশিত: ২৩:৫১, ২১ মার্চ ২০২৩

হজের কোটা পূরণ হয়নি, এখনো খালি ১২ হাজার

বারবার সময় বাড়ানোর পরও হজের কোটা পূরণ হয়নি

বারবার সময় বাড়ানোর পরও হজের কোটা পূরণ হয়নি। চতুর্থ দফার শেষ দিন মঙ্গলবারও হয়নি কোটা পূরণ। এদিন মাত্র ৭৮৩ জন নিবন্ধন করেছেন। এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট নিবন্ধিত হয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ হন। এখনো বাকি রয়ে গেছে প্রায় ১২ হাজার কোটা। 
হজ অফিস পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেছেন, আর সময় বাড়ানো হবে না। নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও এখনো সুযোগ রয়ে গেছে। সার্ভার খোলা থাকবে।

কেউ ইচ্ছে করলে নতুন করে প্রাক নিবন্ধন করেও নিবন্ধন করতে পারবেন। এভাবে যেদিন কোটা পূরণ হয়ে যাবে সেদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভার বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য আমরা আশাবাদী হয়তো শেষ পর্যন্ত বাকিগুলোও পূরণ হয়ে যেতে পারে। আমরাও মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি। যারাই এ বছর হজে যেতে আগ্রহী তারা যেন আমাদের কাছে আসেন। 
এদিকে আটাব জানিয়েছে- এবার অস্বাভাবিক বিমান ভাড়ার কারণে অনেকে হজে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছে। নির্ধারিত কোটা পূরণ না হওয়ায় ২১ মার্চ পর্যন্ত চতুর্থ দফা নিবন্ধনের সময় বাড়ায় হজ মন্ত্রণালয়। গত ১৬ মার্চ এ সময় বাড়িয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো অবস্থাতে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। কিন্তু চতুর্থ ও শেষ সময়েও নিবন্ধনের সাড়া মিলছে না।

বুধবার শেষ দিনেও যৎসামান্যই নিবন্ধন করেছেন। সর্বশেষ সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ জন এ নিবন্ধন করেন। হজচুক্তি অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। সে হিসেবে এখনো ফাঁকা রয়েছে প্রায় ১২ হাজার জনের কোটা। সার্ভার খোলা থাকলেও সামনের দিনগুলোতেও বাকি কোটা পূরণ হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রণালয়ের হজ বিভাগের কর্মকর্তারা। বরং আটাব উল্টো তথ্য জানিয়েছে।

যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের মধ্যে থেকেও কমপক্ষে শেষ পর্যন্ত শতকরা ৫ ভাগ মানুষ এবার হজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। শেষের দিকে প্যাকেজের টাকা কমতে পারে এমন বিশ্বাস থেকেও অনেকেই টানাটানি করে শুধু নিবন্ধনের টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্যাকেজের টাকা কিছুতেই কমানো হবে না বলে বিমানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করার পর অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের পক্ষে সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় করে হজে যাওয়া সম্ভব হবে না। সেটা বোঝা যাবে প্যাকেজের বাকি টাকা পরিশোধের সময়। 
এ বিষয়ে বেশ ক’টি হজ এজেন্সির মালিক বলেছেন, এবার হজের খচর বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই নিবন্ধনের ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু আমরা তো কাউকে ডেকে এনে নিবন্ধন করাতে পারি না। আমাদের আশা ছিল মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে যাবে। হজযাত্রীদের আশা ছিল হাইকোর্ট, ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মহলের চাপে বিমান ভাড়া হয়তো কমবে। কিন্তু গত রবিবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিমানের ভাড়া কমানো বা সমন্বয় করার কোনো সুযোগ নেই।

নিবন্ধনের সময় বাড়ানো সম্ভব হবে না জানিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলাম বলেন, সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করতে হবে। এছাড়াও হজযাত্রীদের ভিসা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি একদম শেষ সময়ে বেশি নিবন্ধন করেন হজযাত্রীরা। এজেন্সিগুলো অপেক্ষায় থাকে শেষ সময় সর্বোচ্চ বাড়ি ভাড়ার রেট দেখে নিবন্ধন করতে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হজ নিবন্ধন শুরু হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে হজে যেতে ইচ্ছুক দুই লাখ ৪৯ হাজার ২২৪ জন প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন। এদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন আট হাজার ৩৯১ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধন করেছিলেন দুই লাখ ৪০ হাজার ৮৩৩ জন।

×