ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৯ মার্চ ২০২৩, ১৫ চৈত্র ১৪২৯

জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের রাখাইন সফর বাতিল করল মিয়ানমার

প্রকাশিত: ০৫:৩১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের রাখাইন সফর বাতিল করল মিয়ানমার

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সহিংসতাকবলিত রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের একটি পূর্বনির্ধারিত সফর কোন কারণ ছাড়াই বাতিল করে দিয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ আগস্ট সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে এটাই জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের প্রথম সফর হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সূত্রে এ কথা জানা গেছে। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ গ্রান্ডি বুধবার বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপক মানবিক সহাযতা প্রয়োজন। তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান। খবর বিবিসি ও সিএনএন অনলাইনের। রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন শুরু করলে জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তাদের সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে মিয়ানমার সরকার। ইয়াঙ্গুনে জাতিসংঘের এক মুখপাত্র বলেন, সরকার এ সফর বাতিল করার পেছনে কোন কারণ দেখায়নি। উগ্রপন্থী মগ ও সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে পলায়নের পরও রাখাইনে এখনও অনেক মানুষ উদ্ধাস্তু অবস্থায় আছেন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে তারা সেখানে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বুধবার সাংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থাগুলোর প্রধানদের রাখাইন সফরের কথা ছিল। ওই অঞ্চলে বাধাহীন ব্যাপকভাবে প্রবেশের এটাই প্রথম পদক্ষেপ হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। বিবিসি সাংবাদিক জোনাথন হেড বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের ব্যাপারে মিয়ানমারের জনমত একেবারে অন্ধ। সেনাবাহিনীকে সেখানকার জাতীয়তাবাদীরা একচোখা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মুসলিমবিরোধী মনোভাব যে কতটা ব্যাপক, তা বর্ণনাতীত। ব্রিটেনের লেবার দলীয় নেতা জেরেমি করবিনও সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সুচির প্রতি আহ্বান জানান। দলীয় এক সম্মেলনে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন। কয়েক দশক ধরে চরম দমন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন- গ্রান্ডি ॥ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ নিজ চোখে দেখে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপ গ্রান্ডি বলেন, রাখাইনে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সম্বল হিসেবে কিছুই নিয়ে আসতে পারেনি। তারা একেবারে নিঃসম্বল। তারা জীবন বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। তাদের কাছে কিছুই নেই। কাজেই তাদের সবকিছুই প্রয়োজন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলেন, তাদের বসতবাড়ি পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দেয়া হয়েছে। যেসব স্বজনকে তারা সেখানে রেখে এসেছেন, তাদের সঙ্গেও হয়ত কোনদিন দেখা হবে না।