ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ১১ মার্চ ২০১৭

সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী। এরপর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পাসপোর্ট ও ভূমি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টায় দুর্নীতিবিরোধী সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে দুদক আয়োজিত বিশাল মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে শিক্ষক, সরকারী কর্মকর্তা, বেসরকারী কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, এএফএম আমিনুল ইসলাম, সচিব আবু মোঃ মোস্তফা কামাল, ঢাকার জেলা প্রশাসক মোঃ সালাহ্উদ্দীনসহ কয়েক হাজার রাজপথে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। দুদকের তথ্যমতে, সারাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষসহ ৬৪টি জেলায় ২২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীসহ দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন করেছে দুদক। ৬৪ জেলাসহ সারাদেশে একযোগে শুক্রবার সকাল দশটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা মহানগরের উত্তরা থেকে ফার্মগেট, বাংলামোটর, শাহবাগ, মৎস্যভবন, কাকরাইল মোড়-বিজয়নগর হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পাসপোর্ট ও ভূমি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। এগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। তবে ক্রমেই এর পরিবর্তন হচ্ছে। এজন্য সবার আগে সিস্টেমের পরিবর্তন প্রয়োজন, আমরা সিস্টেম পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের জিডিপি ২ থেকে ৩ ভাগ দুর্নীতির কারণে নষ্ট হচ্ছে। তবে আমরা এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের ৫৪ শতাংশ ঘটনা শাস্তির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। এটা একটা মাইলফলক। নিজ প্রতিষ্ঠানের সমস্যার বিষয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, যে কোন প্রতিষ্ঠানেই সমস্যা থাকে, সেগুলো সমাধান করেই চলতে হয়। আমরা এখানে সরকারের অকুণ্ঠ সহযোগিতা পাচ্ছি। দেশের সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবাজদের পছন্দ করে না। সর্বস্তরের মানুষ দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে সহযোগিতা করছে। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি কোন একক দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশি^ক সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন আমাদের সকলের মানসিকতার পরিবর্তন। তবে এ কাজটি খুব সহজ নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে প্রবীণদের চেয়ে নবীনদের মানসিকতার পরিবর্তন সহজ তাই কমিশন তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজপথে নেমেছে। তিনি বলেন, আজ মহান স্বাধীনতার এই মাসে দেশব্যাপী সততা সংঘের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বানে প্রায় দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার শিক্ষার্থী (নবম ও দশম শ্রেণী), অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে রাজপথে নেমে এসেছেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতা কিংবা অর্থের জোরে কেউ আইন মানবেন না, সে সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনে আমরা ইতোমধ্যেই ভেঙ্গে দিয়েছি। আমরা কেউই আইনের উর্ধে নই। প্রত্যেককে আইন মানতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, কেবল দুর্নীতির কারণেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ২ থেকে ৩ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা কোনমতেই চলতে দেয়া যাবে না। সাংবাদিকগণের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমনে সরকারে কাছ থেকে আমরা আকুণ্ঠ সমর্থন পাচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সমর্থন পাচ্ছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সাজার হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছিল, ২০১৬ সালে কমিশনের মামলায় সাজার হার ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান, প্রতিনিয়ত তাদের তাৎপর্যপূর্ণ কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। দুদকের সকল কার্যক্রমে আমাদের আকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, দুদকের অগ্রিম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণেই এ বছর ঢাকার নামীদামী বিদ্যালয়ে কোন ভর্তি বাণিজ্য হয়নি। অতীতে প্রতিবছরই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি, কিন্ত কোনবারই এবারের মতো স্বচ্ছভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারিনি। দুদককে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এবার দুদকের কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ ফল পেয়েছি। মানববন্ধনে ঢাকার জেলা প্রশাসক মোঃ সালাহ্উদ্দীন বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান সামাজিক আন্দোলনে ঢাকা জেলা প্রশাসন কমিশনের পাশে থাকবে।