ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

পার্বতীপুরে দুস্থদের ভাতায় রাজার ভাগ

প্রকাশিত: ০৪:১৩, ২ ডিসেম্বর ২০১৬

পার্বতীপুরে দুস্থদের ভাতায় রাজার ভাগ

শ.আ.ম হায়দার, পার্বতীপুর ॥ বেলাইচন্ডি ইউনিয়নে টাকা কেটে নিয়ে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবাভাতার টাকা প্রদান করা হয়েছে। ভাতাভোগী ক্ষতিগ্রস্তরা এলাকার সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। কিভাবে এ ঘটনা ঘটল তা বের করে দায়ীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও ভাতাভোগীদের ভাতার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নিতে তিনি ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইউএনও তরফদার মাহমুদুর রহমান ৩ ডিসেম্বর ভাতা বিতরণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর কার্যালয়ে ডেকেছেন। ইউএনও বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্রমতে, নতুন তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৮১। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী ৭৭, বয়স্ক ৮০ ও বিধবা ২৪ জন। যথাক্রমে প্রতিবন্ধীর প্রতিমাসে পাঁচ শ’ করে এক বছরে ৬ হাজার, বয়স্ক চার শ’ করে ৪ হাজার ৮শ’ ও বিধবা চার শ’ করে ৪ হাজার ৮শ’ টাকা পাওয়ার কথা। তবে ইউনিয়নের বান্নিরঘাট গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গীতারানী (বই নম্বর ১০২৯) দেড় হাজার, ব্রমোত্তর সোনাপুকুর গ্রামের বয়স্ক ভাতাভোগী সমশের আলী (বই নম্বর ৬৭৩৩), ১ হাজার ২শ’ ও কৈপুলকি দোলাপাড়ার ফাতেমা বিধবা ভাতাভোগী (বই নম্বর ২৬৭৬) ১২শ’ টাকা পেয়েছেন। একই অভিযোগ বহুজনের। তারা বলেছেন অমানবিকভাবে তাদের ভাতার টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। ইউএনও ভাতা বণ্টন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে চলে আসেন। এ অনিয়ম ও ভাতাভোগীরা কেন ভাতা কম পেল তার কারণ জানতে চাইল সোনালী ব্যাংক হুগলিপাড়াশাখার দায়িত্বরত অফিসার মিজানুর রহমান জানান, ভাতা বিলিবণ্টনে আমাদের পাশেই চেয়ারম্যান রাজা বসেছিলেন। বই দেখে স্বাক্ষর অথবা টিপ দিয়ে টাকাসহ বই ভাতাভোগীদের হাতে দেয়া হয়। তবে পরক্ষণেই চেয়ারম্যান তাদের হাত থেকে তা নিয়ে (বইসহ টাকা) টাকা কেটে নেয়। মিজানুর বলেছেন ভুল হয়ে গেছে। এ অবস্থা দেখে ব্যাংকের প্রতিনিধিরা কেন নিশ্চিপ থাকল। কর্তৃপক্ষকে জানালো না এ ব্যাপারে প্রশ্ন দেখা। হিসাব করে দেখা গেছে ভাতা কেড়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ সাত লাখ টাকার ওপর।