ইতালির রোমের অস্টিয়া এলাকায় এক বাংলাদেশি কিশোরীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও জোরপূর্বক বিয়ের চেষ্টার অভিযোগে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১৬ মার্চ ঘোষণা করা হবে। রোম আদালতের পঞ্চম সেকশন এ মামলার চূড়ান্ত রায় দেবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী স্কুলের একটি রচনায় নিজের ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা লিখে তার ইতালীয় শিক্ষিকার কাছে জমা দেয়। রচনায় সে উল্লেখ করে, তাকে বোরকা পরতে বাধ্য করা হতো এবং পরিবারের আরোপিত ধর্মীয় নিয়ম না মানলে তাকে লাথি, ঘুষি ও ঝাড়ু দিয়ে মারধর করা হতো। শিক্ষিকা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে, এক পর্যায়ে মেয়েটির মা তাকে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করলে তার মুখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবার তাকে বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে এক দেশীয় পাত্রের সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কিশোরীর প্রতিবাদ এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
মামলায় ইতালীয় প্রসিকিউটর আত্তিলিও পিসানি অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ ও জোরপূর্বক বিয়ের চেষ্টার দায়ে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছেন। আদালতে শুনানির সময় বাবা-মা তাদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও দাবি করেন, তাদের কঠোর শাসন পদ্ধতি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের অংশ ছিল।
ভিকটিম তরুণীর বর্তমানে বয়স ১৯ বছর। প্রাথমিকভাবে তাকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। পরবর্তীতে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটি ইতালিতে অভিবাসী পরিবারে সাংস্কৃতিক চর্চা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
রাজু








