ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, আলোচনায় একাধিক নাম

প্রকাশিত: ১৮:২২, ২৫ জুলাই ২০২৬

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, আলোচনায় একাধিক নাম

জনকন্ঠ রিপোর্ট :
মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে নানা আলোচনা।
বিভিন্ন মহলে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় থাকলেও বিএনপি নিজেদের দলীয় নেতৃত্ব থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলটির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের আলোচনার পর।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি গ্রহণযোগ্য, নৈতিকতাসম্পন্ন এবং দলের প্রতি বিশ্বস্ত।
বর্তমানে সংবিধানের বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। অর্থাৎ জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যেসব নাম

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করছে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়া উচিত।

বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত ব্যক্তিকে চান নেতারা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, পরীক্ষিত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের অনুসারী। রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরও বলেন, পেশাজীবীরা সাধারণত নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যেমন সম্পৃক্ত থাকতে পারেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করতে পারেন। বিএনপিতে এমন অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির নেতৃত্ব

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দল আলোচনা করেই নেবে। মনোনয়ন দেওয়া হলে প্রার্থী দলেরই হবেন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে সংসদে ভোটের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।
তবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকেই।

×