ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের সমাধিতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ১৬ জুলাই ২০২৬

পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের সমাধিতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়ার মেহেরনামা মুরাপাড়া শহীদ ওয়াসিমের সমাধিস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। এ সময় তিনি বলেন, আমি জুলাই অভ্যুত্থানের একজন কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের যোদ্ধা হিসেবে চাই-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা এবং গত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক। ইশরাক বলেন, বিচার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আমি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। আজও সেই আন্দোলনের লাখো-কোটি মানুষ জীবিত আছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের জনগণ প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন-অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে পিছু হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগসহ দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমরা চাই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহীদ ওয়াসিমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই একটি সাম্য, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি বলে জানান নাসির উদ্দীন।শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, দুই বছর আগে আজকের এই দিনে আমার ছেলে চট্টগ্রামের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে। দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এখনো বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তবে আমরা আশাবাদী, এই সরকার আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, যারা আমার সন্তানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে-যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা গুলি চালিয়েছে এবং যারা সহযোগিতা করেছে—প্রত্যেকের সমান বিচার হতে হবে। শুধু একজনের বিচার হলে হবে না, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বেঁচে আছি। আমাদের সন্তানদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচারের দাবি থেকে সরে যাব না। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মানুষের ওপর এমন নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আর্থিক সহায়তা দেন।

×