ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষমান সাধারণ মানুষ
ভয়াবহ গণবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেন-জি আন্দোলনের পর নেপালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। ছয় মাস আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকারের পতনের পর আয়োজিত এই ভোটকে দেশটির গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে প্রায় এক কোটি ৮৯ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষে ব্যালট সংগ্রহের পরপরই গণনা শুরু হওয়ার কথা। এই নির্বাচনকে নেপালের শাসন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক নীতির জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
হিমালয়বেষ্টিত দেশটির ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৪০৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট অনেকটাই পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন আছে কি না তার এক ধরনের গণভোট। একই সঙ্গে জেন-জি আন্দোলনের দাবি রাজনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, সেটিও নির্ধারণ করবে এ নির্বাচন। গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর তরুণদের নেতৃত্বে দুই দিনের তীব্র বিক্ষোভের মুখে কেপি শর্মা অলির সরকারের পতন ঘটে। ওই সহিংসতায় ৭৭ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।
পরে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌদেল সংসদ ভেঙে দেন এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। তিনি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কাঠমান্ডু মেয়র বালেন্দ্র শাহ। র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা ৩৫ বছর বয়সী এ নেতা ব্যালেন নামেই বেশি পরিচিত। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তিনি নিজেকে তুলে ধরেছেন। ঝাপা-৫ আসনে তিনি সরাসরি কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধে লড়ছেন। চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি আবারও ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন।
তবে আন্দোলনের মাধ্যমে তার সরকারের পতনের পর তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেসের সংস্কারপন্থি নেতা গগন থাপাকেও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে তার প্রচার বেশ জোরালো ছিল এবং তাকে নতুন ধারার নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচ-ও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহী এই নেতা ২০০৬ সালে মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্যানেল হু








