মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন ও সাকিফ শামীম (বা থেকে)। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোলেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অনেক কার্যক্রম এখনও প্রচলিত কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় চেম্বার ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসার প্রস্তাব উঠেছে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সদস্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নীতি গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ—সবকিছু যদি একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা যায়, তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও তথ্যনির্ভর ও কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এবং বাজার সম্প্রসারণ এখন ক্রমেই তথ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও আধুনিক ও সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় এসেছে “ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম”—যেখানে দেশের চেম্বার ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর কার্যক্রম একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সদস্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নীতি গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্য, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থার সাথে যোগাযোগ—সবকিছু যদি একই ডিজিটাল অবকাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা যায়, তাহলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা পালন করতে পারবে।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও অর্থনীতিবিদ (এফএসিএইচই এফএলএমআই), ব্যবসায়ী নেতা ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল এন্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম।
তারা বলছেন, ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম হলো-এমন একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম ডিজিটালভাবে সংযুক্ত থাকবে। এতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থাকবে, যেখানে সদস্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য, শিল্পখাতভিত্তিক বিশ্লেষণ, বাজার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
এ প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ডিজিটাল রূপান্তর অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমেই তথ্যনির্ভর হয়ে উঠছে। যদি চেম্বারগুলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্য নীতি এবং বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাবে। এতে বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
তার মতে, এই ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম থাকলে আন্তর্জাতিক ব্যবসা সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক জেলা চেম্বার এখনও প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে। যদি একটি জাতীয় ডিজিটাল চেম্বার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যায়, তাহলে সব চেম্বার একই নেটওয়ার্কে কাজ করতে পারবে। এতে তথ্য আদান-প্রদান দ্রুত হবে এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সহজেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে বেসরকারি খাতের সংগঠনগুলো নীতি প্রণয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ব্যবসায়ী নেতা সাকিফ শামীম বলেন, ভবিষ্যতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো হবে তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ডেটা। যদি সদস্যদের ব্যবসা, বাজার প্রবণতা এবং বিনিয়োগ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে নীতি সুপারিশগুলো আরও বাস্তবসম্মত হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তারা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। জেলা চেম্বারের জন্য নতুন সুযোগ। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই চেম্বার অব কমার্স রয়েছে। তবে এসব চেম্বারের অনেকগুলোরই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গবেষণা সক্ষমতা সীমিত। ফলে জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণে তাদের তথ্য ও মতামত অনেক সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি জাতীয় ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম গড়ে উঠলে জেলা চেম্বারগুলো একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারবে। এতে স্থানীয় ব্যবসার তথ্য দ্রুত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাস্তব তথ্য ব্যবহার করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি-রপ্তানি নিয়মনীতি এবং নতুন বিনিয়োগ সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পেতে পারবেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি শক্তিশালী ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম গড়ে উঠলে দেশের ব্যবসা পরিবেশ আরও গতিশীল হতে পারে। এতে ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়বে, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত দ্রুত হবে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারে প্রবেশ করা সহজ হবে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ব্যবসা ও শিল্পের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা সহজ হবে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ডিজিটাল রূপান্তর এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাদের মতে, সরকার, বেসরকারি খাত এবং ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে একটি আধুনিক ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা গেলে তা বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও তথ্যনির্ভর, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ প্রসঙ্গে সাকিফ শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি বৃদ্ধি, নতুন শিল্পায়ন, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বিকাশ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসার ধরন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকা শুধু প্রতিনিধিত্বে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, তাদেরকে হতে হবে তথ্যভিত্তিক, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর জন্য একটি ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও চেম্বারগুলো দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৬৫ শতাংশ কার্যক্রম এখন সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে UNCTAD-এর ২০২৩ সালের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ডিজিটাল বাণিজ্যের বাজার ইতোমধ্যে ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যমান অতিক্রম করেছে। এই বাস্তবতায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যদি এখনো ম্যানুয়াল বা আংশিক ডিজিটাল কাঠামোর ওপর নির্ভর করে, তাহলে তারা খুব দ্রুতই কার্যকারিতা হারাতে পারে।
বাংলাদেশেও ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার স্পষ্ট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মাসিক লেনদেন ১.৪ লাখ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ ব্যবসা ও অর্থনীতির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অধিকাংশ চেম্বার বা ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রশাসনিক ও সেবা কাঠামো এখনো পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি। একটি আধুনিক ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম বলতে বোঝায় এমন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম যেখানে সদস্য নিবন্ধন, সদস্য ডাটাবেস, নীতি-গবেষণা, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, ব্যবসায়িক তথ্য আদান-প্রদান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ-সবকিছু একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অনেক উন্নত দেশে চেম্বারগুলো ইতোমধ্যে এই মডেলে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশন তাদের সদস্যদের জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করেছে, যেখানে ব্যবসায়িক ডেটা, বাজার বিশ্লেষণ এবং নীতি আপডেট রিয়েল-টাইমে পাওয়া যায়। এই ধরনের একটি ইকোসিস্টেমের মূল শক্তি হলো ১০০% ইন্টিগ্রেশন। অর্থাৎ সদস্য ব্যবস্থাপনা, নীতি গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্য, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, আর্থিক তথ্য এবং সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ-সবকিছু একই ডিজিটাল অবকাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত থাকবে। এতে করে ব্যবসায়ীরা শুধু সেবা নেবেন না, বরং একটি ডেটা-চালিত নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে উঠবেন। বাংলাদেশে এই ইন্টিগ্রেশন কেন জরুরি, তা বোঝার জন্য বর্তমান কাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতা দেখা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই সদস্যদের তথ্য হালনাগাদ থাকে না মীতি সংক্রান্ত মতামত সংগ্রহ করতে সময় লাগে, আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্য দ্রুত সদসাদের কাছে পৌঁছায় না। ফলে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন। একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থাকলে এই সমস্যাগুলো অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি ইন্টিগ্রেটেড ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করা যায়, তাহলে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, রপ্তানি বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্রুত নীতিগত সুপারিশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
OECD-এর একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব ব্যবসায়ী সংগঠন ডেটা-চালিত নীতি প্রস্তাব তৈরি করে, সেসব সংগঠনের সুপারিশ সরকার দ্রুত গ্রহণ করে। অর্থাৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শুধু প্রশাসনিক সুবিধাই দেয় না, এটি নীতিনির্ধারণে প্রভাবও বাড়ায়। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক সংযোগ। বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একটি আধুনিক চেম্বার ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে সদস্যরা সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এতে করে ব্যবসার সুযোগও বাড়ে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে, তখন বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য এই ধরনের সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল চেম্বার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, একটি শক্তিশালী সদস্য ডেটাবেস তৈরি করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণের জন্য একটি ডিজিটাল ডেটা সেপ্টার থাকা দরকার। তৃতীয়ত, সরকার, ব্যাংকিং খাত এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে একটি ইন্টিগ্রেটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, সদস্যদের জন্য ট্রেনিং, মার্কেট ইনসাইট এবং ট্রেড তথ্য সরবরাহের জন্য একটি স্মার্ট প্ল্যাটফর্ম থাকা জরুরি। এই পুরো কাঠামোর মূল দর্শন হলো-চেম্বার শুধু একটি সংগঠন নয়, বরং একটি ডিজিটাল নেটওয়ার্ক। যেখানে সদস্য, নীতি, তথ্য এবং বাজার-সবকিছু একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। আগামী দশকে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা বাড়বে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে নিজেদের কাঠামোও আধুনিক করতে হবে। ডিজিটাল রূপান্তর এখানে বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুবই সরল যে বিশ্বে ব্যবসা, তথ্য এবং সিদ্ধান্ত সবকিছু রিয়েল-টাইমে চলছে, সেখানে আংশিক ডিজিটাল কাঠামো দিয়ে কি সত্যিই বাণিজ্য নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব?








