ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে আইএমএফ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:০২, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অনিরাপদ তারল্য দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর পাশাপাশি বিনিময় হার সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইএমএফ। বাংলাদেশের জন্য আর্টিক্যাল ফোর পরামর্শ কার্যক্রম শেষ করার পর গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে আইএমএফ।

বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এ বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। আইএমএফ বলেছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংক খাত সংস্কারের কৌশল দরকার। এ ধরনের কৌশলে মূলধনের ঘাটতির পরিমাণ নিরূপণ, রাজস্ব সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ ও আইনগতভাবে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনার রূপরেখা থাকতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা পরিচালনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এগিয়ে নেওয়া এবং সুশাসন ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটি বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমাতে কঠোর নীতির সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। বিনিময় হার সংস্কার পুরোপুরি ও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন এবং বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করতে হবে। দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতি নি¤œমুখী ধারায় না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতি কঠোর থাকা উচিত বলেও মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কের ঘর থেকে নেমে এলেও অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশে থাকবে এবং ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৬ শতাংশ হবে। আইএমএফ বলেছে, দুর্বল কর রাজস্ব ও আর্থিক খাতের ঝুঁকির কারণে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক-আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে দেরি হলে বড় ধরনের নি¤œমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংস্থাটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, মধ্য মেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে এবং প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্যানেল হু

×