সম্প্রতি দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই জামালপুর জেলায় জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে মোটরবাইক চালকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহে চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় গড়ে প্রায় ২০ হাজার করে মোটরবাইক রয়েছে। সে হিসেবে জেলায় মোট মোটরবাইকের সংখ্যা দাঁড়ায় আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
এ হিসেবে যদি প্রতিটি মোটরবাইকে প্রতিদিন গড়ে ২ লিটার জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, তাহলে জেলায় প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়, মোটরবাইক নির্ভর এই জেলায় জ্বালানির চাহিদা কতটা ব্যাপক।
এ পরিস্থিতিতে কিছু সচেতন মহল থেকে বিকল্প উদ্যোগের প্রস্তাবও উঠছে। তাদের মতে, মোটরবাইক মালিক ও চালকরা সমবায় সমিতি গঠন করে জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে জ্বালানি তেল পাম্প স্থাপন করতে পারেন। এতে করে তারা নিজেরাই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে পারবেন এবং সংকটকালেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কোনো অস্থিরতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে, এ ধরনের উদ্যোগ মোটরবাইক চালকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সরকারি-বেসরকারি দাপ্তরিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক কার্যক্রম, ভ্রমণসহ ব্যক্তিগত নানা জরুরি প্রয়োজনে মোটরবাইক বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই খাতের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সার্বিক কর্মচাঞ্চল্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে প্রস্তাবিত এই সমবায়ভিত্তিক জ্বালানি পাম্প স্থাপনের বিষয়টি বাস্তবায়নে নীতিমালা, অনুমোদন ও বিনিয়োগসহ নানা দিক বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নোভা








