ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ॥ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি

মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া

মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১০, ৯ জুন ২০২৩; আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৩

মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের এক সময়ের অবহেলিত মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। চলছে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণসহ সম্প্রসারণ কাজ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এক সময়ের অবহেলিত মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটিতে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এ সড়কটি অধিকাংশই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৯ থেকে ২৭ নং ওয়ার্ড এলাকায় পড়েছে। বর্তমানে এ সড়কটি প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ (সম্প্রসারণ কাজ) দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের জন্য সওজ কর্তৃপক্ষ সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট চওড়াকরণ, ৪টি ফোর লেন কালভার্ট নির্মাণ ও ১টি ফোর লেন ব্রিজ নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে।

সওজ কর্তৃপক্ষের দাবি এ সড়কটির উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যেই একটি ব্রিজ ছাড়া সড়কের সম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হবে বলে সওজ কর্তৃপক্ষ জানায়। দীর্ঘদিনের অবহেলিত মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি এখন প্রশস্তকরণ ও পুরাতন কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণসহ নানাবিধ উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর থেকে শুরু হয়েছে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক। এ সড়কটি ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ড থেকে ২৭ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ও বন্দর উপজেলার বন্দর, মুছাপুর, ধামগড়, মদনপুর ও কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরপুর ছিল। গত বছরের ১০ অক্টোবর বন্দরের মদনগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ সদরের সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৩৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ২ কিলোমিটার  দৈর্ঘের বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটি চালু হওয়ার পর মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে  গেছে। কারণ, পদ্মা সেতু পার হয়ে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে মুক্তারপুর হয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পার হয়ে যানবাহনগুলো কম সময়ে এ সড়কটি ব্যবহার করে সিলেট বা চট্টগ্রাম বিভাগে যেতে পারবে। সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে এ সড়কে যানবাহন চলাচলও বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন দিন এ সড়কটিতে যানবাহন চলাচল আরও বাড়বে। ফলে সওজ কর্তৃপক্ষ এ সড়কটি প্রশস্তকরণসহ উন্নয়ন কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সওজ সূত্রে জানা যায়, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি ছিল ১৮ ফুট চওড়া। এখন এ সড়কটির উভয় পাশে তিন ফুট বৃদ্ধি করে ২৪ ফুট চওড়া করা হচ্ছে। এছাড়াও গকুলদাশেরবাগ বাজার, ইস্পানী বাজার, নবীগঞ্জ বাজার ও বন্দর বাজার এলাকায় সড়কটি ১৮ ফুট থেকে ৩৬ ফুট চওড়া করা হচ্ছে। কল্যাণদিতে ফোর লেন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। বন্দর বাসস্ট্যান্ড ও নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আলাদা সিএনজি লেন তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের উভয় পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, নয়ামাটি ভাংতি ব্রিজ, লক্ষণখোলা, নবীগঞ্জ ও আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সামনের এলাকায় পুরাতন কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। কল্যাণদি এলাকায় একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। উত্তর লক্ষণখোলার বাসিন্দা শেখ ফরিদ বলেন, আগে মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি খানাখন্দে ভরা ছিল। এ সড়কটি আমাদের জন্য খুবই দুর্ভোগের ছিল। এখন সওজ কর্তৃপক্ষ সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ করছে। পুরাতন কালভার্টগুলো ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করছে। এতে আমরা নির্বিঘ্নে যানজটমুক্তভাবেই এ সড়কটি ব্যবহার করে চলাচল করতে পারব।

ধামগড় এলাকার বাসিন্দা ও অটোচালক দুলাল মিয়া বলেন, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক এ সড়কটি ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন। নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার দোকানি সালামত উল্লাহ বলেন, সড়কের পাশে আমার একটি দোকান ছিল। সওজ কর্তৃপক্ষ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের জন্য দোকানটি ভেঙে দিয়েছে। এতে আমার কোনো দুঃখ নেই।

রূপালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নূরে আলম বলেন, এ সড়কটি এক সময়ে অবহেলিত ছিল। সড়কটি খানাখন্দে ভরপুর ছিল এবং প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হতো। এখন সড়কটি প্রশস্তকরণসহ নানা উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এ সড়কে কোনো যানজট হচ্ছে না।

সওজের এক প্রকৌশলী বলেন, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটির ব্রিজ ও কালভার্টগুলো ফোর লেন করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এ সড়কটি ফোর লেন করলেও ব্রিজ ও কালভার্টগুলো আর সম্প্রসারণ করতে হবে না। তিনি আরও বলেন, পদ্ম সেতু পার হয়ে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর দিয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পার হয়ে অনেক যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উঠে সিলেট কিংবা চট্টগ্রাম বিভাগীয় জেলায় যাতায়াত করতে পারবে। এতে কয়েকঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন বলেন, মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি প্রায় ৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। এরমধ্যে সড়কের উভয় পাশ প্রশস্তকরণ, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ ছাড়া সড়কের সব ধরনের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। তবে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। সড়কটি উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, মদনগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু চালু হওয়ায় এ সড়কের যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় বড় যানবাহনের চাপও বাড়বে। এ কারণে এ সড়কটি উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে।

×