ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প

রাঙ্গাবালীতে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা লোপাট

প্রকাশিত: ২১:১৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

রাঙ্গাবালীতে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা লোপাট

স্টাফ রিপোর্টার, গলাচিপা ॥ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভাতার সাড়ে ১৫ লাখ টাকা লোপাট হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজারের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সভাপতি ও ম্যানেজারদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম তা আত্মসাত করেছেন। জানা গেছে, ২০১৪-২০১৭ তিন অর্থবছরের আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের (পূর্বের নাম একটি বাড়ি একটি খামার) সভাপতি-ম্যানেজারদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণের ভাতা না দিয়ে প্রকল্পের সমন্বয়কারী সে টাকা আত্মসাত করেছেন বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গনি গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার রেদওয়ানুর রহমান এ অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগটি উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী সাতদিনের তদন্তে অর্থ লোপাটের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের গ্রাম উন্নয়ন সমিতি পরিচালনা করার জন্য দুই বছর সম্মানী ভাতা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু উপজেলায় কর্মরত ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজারের কেউ সেই সম্মানী ভাতা পাননি বলে লিখিতভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬ লাখ ৭২ হাজার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৭ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা কলাপাড়া হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতেরও তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সমিতির ৪৫ জন সভাপতি ও ম্যানেজারদের কেউ কোন প্রশিক্ষণ কিংবা প্রশিক্ষণের ভাতা পাননি। বিল ভাউচার যাচাই করে দেখা যায়, প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৪ জুন ৪৯ হাজার, ২০১৬ সালের ১৯ জুন দু’টি বিলে ১ লাখ ৭৬ হাজার ও ২০১৭ সালের ২০ জুন তিনটি বিলে ৮৭ হাজার টাকা কলাপাড়া হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে উত্তোলন করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম এসব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। বিল ভাউচারের স্বাক্ষর যাচাই করে দেখা যায়, সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের স্বাক্ষরের সঙ্গে কোন মিল নেই। তদন্ত চলাকালীন আরও জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কার্যালয়ে ইন্টারনেট হাব স্থাপনের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তদন্তকালীন কার্যালয় পরিদর্শন করে এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে প্রমাণাদি সংযুক্ত করে তা প্রকল্প পরিচালকের কাছে (পিডি) পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রিপন খন্দকার জানান, সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানী, প্রশিক্ষণভাতা ও ইন্টারনেট হাব বাবদ বরাদ্দকৃত মোট ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৪শ’ টাকা প্রকল্পের সমন্বয়কারী গোলাম আযম আত্মসাত করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম আযমের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাশফাকুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পিডিকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
monarchmart
monarchmart