ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

‘বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলীর নাম চিরস্থায়ী’

প্রকাশিত: ১১:১৭, ৩০ জানুয়ারি ২০২০

‘বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত আলীর নাম চিরস্থায়ী’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘আমাদের কথাসাহিত্যে শওকত আলীর স্থান চিরস্থায়ী। তার ‘প্রদেশে প্রকৃতজন’ একটি অসাধারণ উপন্যাস। সেন রাজাদের রাজত্ব যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং তুর্কী আক্রমণ অত্যাসন্ন সেই সময়ে একটা ক্রান্তিকালের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত। বড় ঝড় যেমন বড় গাছকে আঘাত করে, তেমনি অনেক সময় ছোট গাছও এই ঝড়ে নূইয়ে পড়ে। কাজেই কেবল যে রাজকীয় ব্যাপারই তখন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল তা না, সাধারণ মানুষের জীবনকেও তা গভীরভাবে প্রভাবান্বিত করেছে। এই উপন্যাসে শওকত আলী অনেক গবেষণা করে তার উপকরণ সাজিয়েছেন। তিনি যে একটি ভাষা নির্মাণ করেছেন ওই পুরাকালের কথ্য ভাষা, সে ভাষার ব্যবহার অসাধারণ’-কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহিদ হাসান মিলনায়তনে বুধবার বিকেলে এ স্মরণসভার আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা গণপ্রকাশন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক রবিউল হুসাইন, কথাশিল্পী শওকত আলীর ছেলে আসিফ শওকত কল্লোল, কবি মোস্তফা আহমেদ প্রমুখ। প্রধান অতিথি জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, শওকত আলী বয়সে আমার এক বছরের বড় ছিলেন। কিন্তু আমরা দুজনেই একই সময়ে ম্যাট্রিক পাস করেছি। মনে হয় তিনি বিএ পাস করার পরে কোন কারণে তার পড়াশোনার এক বছরের জন্য বিঘœ ঘটে। কাজেই তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হন ১৯৫৬ সালে এমএ প্রথম বর্ষে আমি তখন এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র। প্রথম দিকেই আমাদের মধ্যে একটা যোগাযোগ ঘটে। শওকত আলী তখন খুবই লাজুক স্বভাবের ছিলেন। পরপর যে দু’চার জনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমি ছিলাম তাদের একজন। পরে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করে তার লাজুক সভাব দূর হয়েছিল হয়তো কিন্তু তিনি বরাবরই সংযত মানুষ ছিলেন। কম কথা বলতেন, সবকিছু গভীরভাবে দেখা ও বোঝার চেষ্টা করতেন। তার ‘দক্ষিণায়নের দিন’ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। তার উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পের বই ‘শুন হে লক্ষিন্দর’। আমার বিশ্বাস তার রচনা সমাদ্রিত হয়েছে পাঠক সমাজে। তিনি যে আমাদের মধ্যে বিশিষ্ট এটি সর্বজনের স্বীকার করতে হবে। আজকে যখন তিনি নেই তবুও তার রচনা সকলে সমাদর করবে। তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে যে ভূমিকাটি পালন করেছেন সেজন্যে সব সময় বাংলাদেশের পাঠক শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরণ করবে।