সোমবার ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

জাপান পরীক্ষিত বন্ধু, আগামীতে বন্ধুত্ব আরও গভীর হবে ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপান পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি। অপরদিকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে আগামী দিনেও গভীর বন্ধুত্ব বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে। শনিবার গুলশানে জাপান রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।

জাপানের সম্রাট আকিহিতোর জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার জাপান দূতাবাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আসিয়ান প্রতিবেশী ও কাছের বন্ধু হিসেবে জাপানের অর্থনৈতিক উন্নতিতে বাংলাদেশ গর্ব বোধ করে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ জাপানকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে মনে করে। তাদের এই মডেল দেখে অনেক দেশই অনুপ্রাণিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন-২০২১’ ঘোষণা করেছেন। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে চায়। আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে জাপান বাংলাদেশের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গঠনে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভিশন নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে জাপানের সহায়তা প্রত্যাশা করেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। জাপানের উন্নয়ন সহায়তা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে। আশা করি বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিগ-বি) উদ্যোগের ফলে দুই দেশের মধ্যে আরও অর্থনৈতিক অগ্রগতি হবে।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ব্যাপক ও বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের মে মাসে জাপান সফর করেছেন। ওই সফরের ৫ মাসের মধ্যেই ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ঢাকা সফর করেন। এই দুই শীর্ষ পর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধন জোরালো হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের মে মাসে জি-সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিনজো আবের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানই প্রথম দেশ যারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাপান স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। সে সময় থেকেই দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপান সম্রাটের স্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বিরাজ করছে। দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বও তৈরি হয়েছে। আগামী দিনেও এই বন্ধুত্ব বজায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন তিনি। এছাড়া সম্রাটের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন জাপানের রাষ্ট্রদূত।

শীর্ষ সংবাদ: