ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

মহিলা টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

এবার আরও ভাল করতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

এবার আরও ভাল করতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুই বছর আগে যখন মহিলা টি২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপ হয়, সেটি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক হওয়ায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। কিন্তু গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘বি’ তে সবার নিচে বাংলাদেশ মহিলা দলের অবস্থান হয়। চার ম্যাচের মধ্যে জয় মিলে মাত্র ১টি। এবার এরচেয়েও ভাল কিছু করে দেখাতে চায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারের অধিনায়ক জাহানারা আলমই যেমন বললেন, ‘এবার আরও ভাল করতে চাই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পুরো ক্রিকেট দলকে নিয়েই। আলাদা পুরুষ কিংবা মহিলা বলে কথা না। ক্রিকেট দল, এটাই আসল কথা। বাংলাদেশের সবাই প্রত্যাশা করে পুরুষ আর নারী দল ভাল একটা রেজাল্ট করুক। আমাদের কাছে সবার প্রত্যাশা হয়ত একটাই। ভাল ক্রিকেট খেলে আসি, ভাল কিছু যেন অর্জন করে নিয়ে আসি। আমাদের বিশ্বাস, আমরা এবার অনেক ভাল ক্রিকেট খেলব এবং অনেক ভাল কিছু অর্জন করব।’ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও শ্রীলঙ্কা। এবারও ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত আছে গ্রুপে। শুধু শ্রীলঙ্কার স্থানে যুক্ত হয়েছে পাকিস্তান। এবার বাংলাদেশ বাছাইপর্ব অতিক্রম করে যোগ্যতা বলেই খেলছে বিশ্বকাপে। ১৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে, ১৭ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ও ২৪ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এবার দলগুলো শক্তিশালী। এরপরও ভাল কিছুর আশা করছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা। ভাল কিছু করা মানে অন্তত ২ ম্যাচে জয়। সেই দিকেই মনোযোগী জাহানারারা। দ্বিতীয়বারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ খেলবেন; টার্গেট কী থাকবে? জাহানার বলেন, ‘প্রথমবার আমরা যখন বিশ্বকাপ খেলেছিলাম, তখন আয়োজক হিসেবে খেলেছিলাম। আর এবার আমার নিজস্ব যোগ্যতায় বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছি। আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্য র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭-৮ মধ্যে থাকা। আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’ গত বছর সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের পরে আপনারা কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি; এখানে কোন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে কি না? অধিনায়ক জানান, ‘ম্যাচ খেললে উন্নতি হওয়ার অনেক সুযোগ থাকে। এটাকে আমি ঘাটতি বলব না। আমার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি শুধু অনুশীলনে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের আগে আইসিসির অনুশীলন ম্যাচগুলো খেলব। বিশ্বকাপের আগে দুটি অনুশীলন ম্যাচ আছে আমাদের। আশা করছি বিশ্বকাপের আগে এটা যথেষ্ট।’ বেশি ম্যাচ খেললে ভাল হতো কি না? সবার মতো জাহানারাও তাই চান। তবে বলেছেন, ‘আমরা যেহেতু র‌্যাঙ্কিংয়ে আটের (১০ নম্বরে বাংলাদেশ) মধ্যে নেই। এ জন্য আইসিসির আন্ডারে আমরা সেভাবে ম্যাচ পাই না। বিসিবি অনেক চেষ্টা করেছে ম্যাচ আয়োজন করার জন্য। অন্য দেশগুলো নিজেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। এ জন্য আমাদের কিছুই করার নেই। এজন্য আমাদের লক্ষ্য নিজেদের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করে আইসিসি আন্ডারে ম্যাচ খেলার। আমরা আশা করি আমাদের যে উন্নতি হয়েছে ওটা বিশ্বকাপে দেখাতে পারব।’ এবার জাহানারা খেলবেন অধিনায়ক হিসেবে। অনুভূতির বিষয়টি জানাতে গিয়ে বললেন, ‘অবশ্যই অনেক ভাল অনুভূতি। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতাম একজন খেলোয়াড় হিসেবে, এবার একজন অধিনায়ক হিসেবে করতে যাচ্ছি। এবং পুরো দলের লিডার হয়ে। অনেক ভাল অনুভূতি। তারপরও আমি বলব আলাদা করে আমার অতিরিক্ত কোন চাপ নেই। আমাদের দলে বেশিরভাগ সিনিয়র খেলোয়াড়। যারা একেক জন প্রত্যেকে অধিনায়ক। সঠিক সময় সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হয়। এটার জন্যই আমি। আমার দলের সবাই অনেক হেল্পফুল, সবাই খুব সাহায্য করে আসছে, আশা করি ভবিষ্যতেও করবে। আমি সবার সাপোর্টটা পাব।’