কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পানির জন্য হাহাকার

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

নিরাপদ খাবার পানির সঙ্কট ক্রমশ বাড়ছে। প্রচ- দাবদাহ, খরার এই সময়টায় বিশুদ্ধ পানির জন্য এক ধরনের হাহাকার শুরু হয়েছে। দেশের গ্রাম ও শহর-নগর শুধু নয়, সারাবিশ্বই পানি সঙ্কটে জর্জরিত। প্রচার রয়েছে যে, আগামীতে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে, তবে তা পানির জন্যই হবে। এখনই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়া না হলে বিশ্ব বড় ধরনের পানি সঙ্কটে বিপর্যস্ত হবে। জাতিসংঘ এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, এর ফলে গ্রীষ্মম-লীয় দেশগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে পানির অপব্যবহারও একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে ৪০ শতাংশ পানি ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশ্বের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও ব্যবহার, ব্যবস্থাপনা ও ভাগাভাগির ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আসছে না। জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধি আসন্ন পানি সঙ্কটের অন্যতম প্রধান কারণ বলা হচ্ছে। এ হারে জনসংখ্যা বাড়লে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন। অতিরিক্ত এই জনসংখ্যার খাদ্য যোগাতে বিশ্বে কৃষি উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়াতে হবে। কৃষিখাতে বর্তমানে পানির মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০ শতাংশ। অথচ ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে পানির চাহিদা ৫৫ শতাংশ বাড়তে পারে। সঙ্কট তখন আরও ভয়াবহ হতে বাধ্য। বাংলাদেশ এখনই পানি সঙ্কটে আক্রান্ত। দেশের কোথাও সমস্যা লবণাক্ততার, কোথাও আর্সেনিকের আধিক্য, কোথাও বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে অস্বাভাবিক পর্যায়ে। তদুপরি বৃষ্টি না হওয়া, খরার ক্রমবিস্তার সঙ্কটকে ঘনীভূত করেছে। খাল, বিল, পুকুর, মৎস্যঘের, জলাশয় পানিশূন্য প্রায়। বিশেষত উত্তরবঙ্গ। সেখানে রোদে পুড়ে চৌচির হয়ে গেছে ফসলের মাঠ। তাছাড়া যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুকুরের মিঠা পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রচ- দাবদাহের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট তীব্রতর হয়ে উঠেছে। নিরাপদ পানি সংগ্রহে এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে এবং অর্থের বিনিময়ে পানি ক্রয় করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সুপেয় পানির অভাবের যেসব কারণ চিহ্নিত করেছেন, সেগুলো সমাধানের কোন পদক্ষেপ নেই। তাদের মতে, যত্রতত্র সেচ পাম্প বসানো, ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন হচ্ছে তার সমপর্যায়ের পানি রিচার্জ না হওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষ নিধন ইত্যাদির কারণে সঙ্কট বাড়ছে। রাজধানী ঢাকায়ও পানির অভাব রয়েছে। ওয়াসার সরবরাহ করা পানি অনেকখানি নিম্নমানের। তাদের সরবরাহ করা পানীয়জলের পরিমাণ কম হওয়ায় এবং মান খারাপ হওয়ায় নাগরিকদের বোতলের পানি কিনে পান করতে হয়। ঢাকায় গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে গভীর নলকূপগুলোর পানির উৎস কমে যাচ্ছে। পানির অপচয় রোধ করা যাচ্ছে না। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরুরী ভিত্তিতে পানির পরিমাণ, পর্যবেক্ষণ ও পদক্ষেপের বাস্তবায়ন জরুরী।

প্রকাশিত : ২৯ মে ২০১৫

২৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: