কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিটিভি হোক জনগণের মুখপত্র

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

ঘরে বসে সারা দুনিয়াকে চেনা-জানার, সর্বশেষ খবরাখবর পাবার মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন হয়ে ওঠে শক্তিশালী গণমাধ্যম। কিন্তু এই মাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার না হলে তা সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। নেতিবাচক চেতনাকে ধারণে হয়ে ওঠে সহায়ক। বাঙালীর চেতনা ও শিক্ষাদীক্ষার বিকাশে এবং সংস্কৃতি লালনে টিভির ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ এই মাধ্যমটি অপব্যবহারে হয়ে উঠতে পারে গণবিরোধী প্রচারণার হাতিয়ার। এমনটাই দেখে এসেছে এদেশের মানুষ।

যে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টেলিভিশন কেন্দ্রটি ঢাকায় চালু হয়েছিল, তার ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তী চলছে। এই অর্ধশত বছরে কতদূর এগিয়েছে বিটিভি সেই প্রশ্ন উত্থাপন স্বাভাবিক। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে, তরঙ্গের ওঠানামাতেও টিভি তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এমনটি বলা যাবে না। সামরিক জান্তা শাসক আইয়ুব খান ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় এই টিভি স্টেশন চালু করেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সামরিক জান্তার ক্ষমতা বহাল রাখার জন্য জনগণের কাছে তার ‘সুকীর্তি’ তুলে ধরা এবং প্রচারে প্রসার বাড়ানো। সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও জনগণের হয়ে ওঠার কাজটি গত ৫০ বছরেও পুরোপুরি করতে পারেনি এই গণমাধ্যমটি। মাঝখানে ব্যতিক্রম ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৭২ থেকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সময়কাল পর্যন্ত গণমানুষের মুখপত্র হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় উঠে আসতে পেরেছিল। কিন্তু পঁচাত্তরপরবর্তী টিভি আবার হয়ে ওঠে জান্তা শাসকের প্রচার মাধ্যম। ক্ষমতা দখলের কাজে টিভিকে ব্যবহার করা হয় ন্যক্কারজনকভাবে। এমনকি ’৭৫-এর ৭ নবেম্বর বিপ্লবের নামে টিভির ৪ মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাকে হত্যা করে জান্তা ও তার সহযোগীরা। ‘বোকা বাক্স’ বিটিভি হয়ে ওঠে কখনও ‘সাহেব-বিবি-গোলামের বাক্স’, কখনও ‘সাহেব-বিবির বাক্স’ হিসেবে। জনগণকে দূরে সরিয়ে রেখে শাসক শ্রেণীর মিথ্যাচার, অপপ্রচারের মাধ্যমে পরিণত হয়ে ওঠে বিটিভি। গণচেতনা বা জনগণের চাহিদার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বেতার-টিভির স্বায়ত্তশাসনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা মাঝপথে থেমে যায়। বেসরকারী চ্যানেল চালু হবার পর বিটিভি যেন মুখ থুবড়ে পড়ে। বিটিভি গণমুখী অনুষ্ঠানমালা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ জনজীবন সম্পৃক্ত বিষয়াদি না থাকায় দর্শক আবেদন পূরণ করতে পারছে না। বিশ্বব্যাপী বাঙালী সংস্কৃতির পরিচিতি, প্রসার ও ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নিতে পারছে না। বেসরকারী চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে আছে।

বিটিভির সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিটিভিকে জনগণের মুখপত্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন, যা জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে যদি অদক্ষ, অযোগ্যদের দিয়ে গণমাধ্যম পরিচালনা করা হয় তা গণমুখী হয়ে ওঠার পথে প্রতিবন্ধকই হবে। সৃজনশীল, সংস্কৃতি চেতনাসম্পন্নদের দিয়ে পরিচালনা করলে হতে পারে জনমুখী। যা সবার কাম্য।

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪

২৮/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: