ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, একসময় সুরমা নদী ছিল স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত। কিন্তু বর্তমানে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার সিলেটের উদ্যোগে সুরমা নদীর চাঁদনীঘাট এলাকায় আয়োজিত ‘সুরমার দূষণ’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, সুরমা নদীকে দূষণমুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অনেক সময় কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে যাওয়ায় তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যয় নিয়েছি—এই শহরকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলব। প্রধানমন্ত্রীও সিলেটের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শহরটিকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সুরমা নদীর দুই তীরে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি সিলেট শহরের ছোট-বড় অন্তত ৫০টি খাল ও ছড়া ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরের প্রতিটি মানুষ যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, তাহলে সিটি কর্পোরেশন সকাল-বিকাল পরিষ্কার করেও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে না। এ জন্য নগরজুড়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালু করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সকল পেশা ও মতের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে এখন থেকেই ড্রেন কিংবা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা—ধরা সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, পরিবেশকর্মী অ্যাডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী এবং অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী প্রমুখ।
এম.কে








