ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বাকেরগঞ্জের চরাঞ্চলের তরমুজ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

নদী উপকুলে চরাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনা তরমুজ চাষ

নিজস্ব সংবাদদাতা বাকেরগঞ্জ বরিশাল

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১৪ মার্চ ২০২৬

বাকেরগঞ্জের চরাঞ্চলের তরমুজ যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় খুশি তরমুজ চাষিরা। ক্ষেত থেকেই পাইকারি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন কৃষকেরা। আবার কেউবা ট্রলার ও ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ভালো দামে বিক্রি করছেন তরমুজ। রমজানের শুরু থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রয় শুরু করেছেন। উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় ফলন নিয়ে সন্তুষ্ট কৃষকেরা। 

নদীবেষ্টিত বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি কিংবা তরমুজের মৌসুমে পরিত্যাক্ত জমি হিসেবে পড়ে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব চরভূমিতে তরমুজ চাষের সফলতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উর্বর পলিমাটি, সেচ ব্যাবস্থা, পর্যাপ্ত রোদ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি তরমুজ চাষের উপযোগী থাকলেও চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে মাত্র ৬৫০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ বিশাল একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, বীজ নির্বাচন, সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তারা এই লাভজনক চাষে যুক্ত হতে পারছেন না। এ সুযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বহিরাগত চাষিরা জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ আবাদ করছেন এবং মৌসুম শেষে মোটা অঙ্কের লাভ নিয়ে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় কৃষকরা সম্ভাব্য বাড়তি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাদের দাবি।

অনেক কৃষক জানান, সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং উন্নত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তারাও তরমুজ চাষে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। তাদের মতে, সঠিক দিক নির্দেশনা ও সহায়তা পেলে বাকেরগঞ্জের চরাঞ্চলই হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম তরমুজ উৎপাদন কেন্দ্র। যা বছরে কয়েক কোটি টাকা কৃষি থেকে বাড়তি আয় করা সম্ভব।

সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি ও বাজারজাতকরণে সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করে এই বছরও পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা, বরগুনা,আমতলি উপজেলার শতাধিক তরমুজ চাষিরা বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা,গারুড়িয়ার, নলুয়া, রঙ্গশ্রী, নিয়ামতি, ফরিদপুর, দুর্গাপাশা ইউনিয়নের নদীর চরাঞ্চলের জমি লিজ নিয়ে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে এই বছর বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন পাওয়ায় প্রতিবছর এই অঞ্চলে ঝুঁকছে তরমুজ চাষিরা। চলতি মৌসুমে বাকেরগঞ্জে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ভিক্টর সুগার, ওশেন সুগার, ব্লাক বেরী ও দেশীয় জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চরাঞ্চলে যুগের পর যুগ অনাবাদি অবস্থায় থাকা জনমানবশূন্য বিস্তীর্ণ ভূমি এখন তরমুজ চাষে সবুজে পরিণত হয়েছে। কৃষকরা তাদের মাঠ থেকেই তরমুজ বিক্রয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকের তরমুজের মাঠে পরিচর্যায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ কৃষকদের মাঠেই এখন তরমুজ বিক্রয় শুরু হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনীতি কুমার সাহা বলেন, বাকেরগঞ্জে তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের এই খাতে সম্পৃক্ত করা হবে।

 

রাজু

×