ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সংস্কৃতি সংবাদ

মানব অভিব্যক্তির প্রতিচ্ছবিময় প্রদর্শনী ‘আত্ম-অনুপস্থিতির সাক্ষ্য’

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৫১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মানব অভিব্যক্তির প্রতিচ্ছবিময় প্রদর্শনী ‘আত্ম-অনুপস্থিতির সাক্ষ্য’

লালমাটিয়ার গ্যালারি কলাকেন্দ্রে আত্ম-অনুপস্থিতির সাক্ষ্য শীর্ষক প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন অতিথিরা

প্রতিটি ক্যানভাসে ধরা দিয়েছে মানুষের মুখাবয়ব। আর মুখচ্ছবিসমূহে মূর্ত হয়েছে বিচিত্র অভিব্যক্তি। বহুমুখী আবেগের প্রকাশ ঘটেছে। সেই সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে ভয় পাওয়া থেকে যন্ত্রণাদগ্ধ কিংবা বিস্মিত হওয়ার অনুভূতি। ওঠে এসেছে শোকাভিভূত  হওয়া থেকে ক্রুদ্ধ হওয়ার অভিব্যক্তি। 
চিত্রকর্মগুলো সৃজন করেছেন ফারজানা আহমেদ উর্মি। সেসব ছবি নিয়ে রাজধানীর লালমাটিয়ায় শিল্পীদের দ্বারা পরিচালিত গ্যালারি কলাকেন্দ্রে চলছে প্রদর্শনী। শিল্পায়োজনটির শিরোনাম ‘আত্ম-অনুপস্থিতির সাক্ষ্য। প্রদর্শনীটির কিউরেট করেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী ওয়াকিলুর রহমান।
প্রদর্শনীটি প্রসঙ্গে কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ফারজানা আহমেদ উর্র্র্মির চিত্র নির্মাণ, বি-নির্মাণে, শারীরিক-মানসিক চাক্ষুষ ক্ষুধা, উচ্ছ্বাসতাকে এ সময়ের শিল্পচর্চায় উদ্যমী শিল্পীতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চিত্রকলার মৌলিক ভিত্তির উপর তার সীমাহীন আস্থা, যা ইচ্ছেমত যে কোনো কিছু চিত্রিত করার স্বাধীনতা দেয়। 
এই শিল্পী স্থান, উপকরণ, বিষয় ভাবনা, উপস্থাপনা, দৃষ্টিভঙ্গি, যৌক্তিক মাপ-ঝোক তোয়াক্কা করে-না করেই মুক্ত, আবেগ, কোলাহলপূর্ণ মেলামেশার মধ্যে শিল্পচর্চায় নিমজ্জিত হতে পারেন। আমাদের ভরা মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে থাকে তার চিত্রপটে; যার মাঝে ব্যক্তি উর্র্র্মির মানসিক, শারীরিক, পরিবেশের, অস্থিরতা, সহিংসতা সেই সঙ্গে সৌন্দর্যেরও প্রকাশ ঘটে। ফারজানা উর্মির কাজ নিয়ে ওয়াকিলুর  রহমানের ভাষ্য হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে করা মানব অবয়ব রূপ নিয়ে চিত্রিত-বিমূর্ত কাজগুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে উর্র্র্মির এবারের প্রদর্শনী। মানব অবয়ব বা প্রতিকৃতি অংকন, উদ্যাপন, স্মরণ, পূজার ইতিহাস, শিল্পের ইতিহাসের মতোই প্রাচীন ও এখনো পপুলার। 
সামাজিক মনোবিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক অধ্যায়নে, সমাজের সম্মিলিত আবেগ, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, পরিবেশের কাঠামোগত অবস্থান, শারীরিক আচরণ, ভাবমানব অবয়বে গ্রন্থিত, মেনে নেওয়া হয়। শিল্পী তার নিজস্ব আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে বিষয়ের উপর প্রক্ষেপণ করেন। আঁকা এবং কোলাজ করা উপকরণগুলো তার চিত্রকর্মসমূহকে একটি বিস্তৃত সামাজিক এবং ঐতিহাসিক সময়ের অংশ করে তোলে। 
চিত্র রচনার জন্য পাটাতন, উপকরণ নির্বাচন, সময়, মুহূর্ত, শিল্পীর শারীরিক, মানসিক মিথস্ক্রিয়ায় যা ঘটে তাই উর্র্র্মির চিত্রকলা। শিল্পীর আবেগ, রস, বোধ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নান্দনিক বোঝাপড়া, শক্তির শারীরিক অংশগ্রহণে চিত্রে বিশেষত্ব তৈরি হয়। বিশাল আকৃতির, মানব অবয়ব রূপে-অরূপে, চিত্রিত-বিমূর্ত রূপে আমাদের জানা-চেনা- অচেনা রূপের-অরূপের বিচিত্রতা বিস্ময় তৈরি করে। যা কি না প্রতাপশালী প্রভুদের, প্রয়াতদের প্রতিকৃতি অংকনের ইতিহাস আর ‘সেলফি’ নির্মাণে আত্মমগ্নসভ্যতার চালকদের প্রতিকৃতি বিষয়ক চিন্তাকে একটু প্রশ্ন করতে চায়- মনে হয়। 
আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্যানেল হু

×