ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজশাহীতে সমতল ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি সমারোহ শুরু

প্রকাশিত: ২০:৩২, ২৫ জানুয়ারি ২০২৫

রাজশাহীতে সমতল ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি সমারোহ শুরু

রাজশাহীতে সমতল ও পাহাড়িদের নৃত্য পরিবেশনা

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামে সমতল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি সমারোহ শুরু হয়েছে। তারুণ্যের উৎসব শিরোনামে দেশব্যাপী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামে শনিবার দু দিনব্যাপী সমতল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্প্রীতি সমারোহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজনে ছিল রাজোয়াড় জাতিগোষ্ঠীর আলপনাচিত্র প্রদর্শন ১৩ জনগোষ্ঠীর নৃত্য-গীত নাট্যানুষ্ঠান।

বিকেলে অনুষ্ঠানের শুরুতে নেচে গেয়ে অতিথিদের মঞ্চে তোলা হয়। মাদল আর করতালে আওয়াজে একদল নারী ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে অতিথিদের বরণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা শেষে নৃত্য পরিবেশন করেন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি বান্দরবানের চাকমা মারমা, পাংখোয়া, ত্রিপুরা এবং রাজশাহী অঞ্চলের সমতলের সাঁওতাল, ওরাঁও, পাহাড়িয়া, রাজোয়াড়, মুণ্ডা, মাহাতো, ভূমিজ, গড়াৎ মাহালী শিল্পীরা।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহীর পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় অনগ্রসর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপ-পরিচালক এসএম শামীম আকতার।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ বলেন, ‘একটি ভাষা হারিয়ে গেলে উপলব্ধিটাই হারিয়ে যায়। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই রাজোয়াড় ভাষাটা যেন হারিয়ে না যায়। তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের জমি যাতে ফেরত পাওয়া যায় সেজন্য কাজ করবেন। আপনারা লেখাপড়া করবেন আপনাদের পাশে আমরা থাকব।

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, এখন বলা হয় অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে। আমি বলব এটা হারিয়ে যাওয়া নয় এক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরেক সম্প্রদায়ের মিশে যাওয়া। তবে মিশে গেলেও নিজস্ব কৃষ্টি কালচার সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে। আপনারা আপনাদের বাপ দাদার এলাকা ছেড়ে কোথাও মাইগ্রেট করার চিন্তাও করবেন না। আমরা আগেও যেভাবে মিলেমিশে ছিলাম এখনো সেভাবে থাকব। দুএকজন দুর্বৃত্ত যেটা আগেও ছিল হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। যেভাবে শান্তির সাথে সমৃদ্ধির সঙ্গে বসবাস করতে চান সেটা করবেন। কোন সমস্যা হলে আমাদের জানাবেন। আমরা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে থাকতে চাই।

অনুষ্ঠানে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, ‘একা একা ভালো থাকা যায় না। সবাই মিলে ভাল থাকতে হয়। এই যে আমরা ভালো আছি, এই ভালো থাকাটা ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতা রাজ কুমার শাওআদিবাসীদেরসাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানান। বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রধান সমস্যা জমি উল্লেখ করে বলেন, তাদের অনেক জমি বেহাত হয়ে যায়। এগুলো যেন না হয় সে জন্য সবাইকে নজর রাখতে হবে।

সাজিদ

সম্পর্কিত বিষয়:

×