ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ড্রেজিংয়েও কাজ হচ্ছে না 

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে নাব্য সংকট

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

প্রকাশিত: ২১:১৮, ২৫ মার্চ ২০২৪

বরিশাল-ঢাকা নৌপথে নাব্য সংকট

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ড্রেজিং করে নদীতেই ফেলা হচ্ছে বালু

বছর বছর ড্রেজিং করেও ঢাকা-বরিশাল নৌপথের নাব্য সংকট কাটানো যাচ্ছে না। ফলে বরিশাল-ঢাকা যাতায়াতের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত নৌপথ ধীরে ধীরে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি শুকনা মৌসুমের শুরুতেই বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চরম নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে যাত্রীবাহী লঞ্চ এবং মালবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সূত্রমতে, লঞ্চমাস্টাররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা সত্ত্বেও নদীর মাটি কেটে নদীতে ফেলার কারণেই প্রতি বছর একই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। তবে বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের মেঘনা ও গজারিয়ায় নদীর দুই জায়গায় ভাটার সময় পানি তলানিতে যাচ্ছে।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের বাগরজা থেকে বামনীর চরের গজারিয়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার পথ। এ ছাড়া চাঁদপুর থেকে হিজলার মেঘনার শাখায় দুই কিলোমিটার পথে নাব্য সংকট ও অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। যে কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ছে এই নৌরুট।
সূত্রের দাবি, প্রায়ই ডুবোচরে নৌযান আটকে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। ভাটার সময় সাধারণত পানির গভীরতা তিন-চার ফুটে নেমে আসে। যদিও লঞ্চ চলাচলে গভীরতা দরকার কমপক্ষে পাঁচ ফুট এবং মালবাহী জাহাজের জন্য সাত ফুট। এখানে জোয়ারের সময় নৌযান চলতে পারলেও ভাটায় লঞ্চ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এমভি শুভরাজ লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার আবুল কালাম জানিয়েছেন, হিজলার উলানিয়া কালীগঞ্জে প্রিমিয়ার-৫ মালবাহী জাহাজ ডোবার কারণে এবং ওই এলাকার তিন-চারটি স্থানে ড্রেজিং না করলে যাত্রীবাহী লঞ্চ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে জোয়ার-ভাটার সময় গুনে কোনোমতে লঞ্চ চলাচল করাতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুরভী-৭ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার শুক্কুর আলী বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলে আট থেকে ১০ ফুট গভীর পানি প্রয়োজন হয়। সেখানে কোনো কোনো জায়গায় ভাটার সময় তিন থেকে চার ফুট পানি থাকে। ফলে লঞ্চের তলা ঠেকে যায়। 
লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ড্রেজিং করার পর দেখা যায় দুই-চার মাস ভালো থাকে। এরপর আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে আসে। শুকনা মৌসুম শুরুর আগেই ইতোমধ্যে আমাদের লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। ভাটার সময় আমাদের কোনো লঞ্চ চলতে পারছে না। 
বরিশাল ড্রেজার বেজ, বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নাব্য সংকট দূরীকরণে আবেদনপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ, মালবাহী জাহাজ চলাচল করে।

যে যে পয়েন্টে ডুবোচর রয়েছে, সেটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পের মাধ্যমে খনন করা হবে। কারণ এই রুট দিয়ে নদীপথে তাদের মালামাল যাতায়াত করে। সে জন্য নদীপথ সচল রেখে তাদের মালামাল নির্বিঘেœ পরিবহন করতে ড্রেজিং করবে। এটি তাদের প্রকল্পে দেওয়া আছে।

শুষ্ক মৌসুমে বরিশাল-ঢাকা নৌরুট সচল রাখতে প্রতি বছরই বিভিন্ন স্থানে খনন করে থাকে ড্রেজার বেজ, বিআইডব্লিউটিএ। তবে এমন ড্রেজিং নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নৌযান শ্রমিক ও মালিকদের মতের ভিন্নতা রয়েছে। এভাবে বছর বছর অস্থায়ীভাবে খননকাজ না করে নৌপথে পরিকল্পিতভাবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী খনন করার দাবি করেছেন সচেতন বরিশালবাসী।

শুকিয়ে গেছে তিস্তা
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী থেকে জানান, উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। নেই নদীর সেই স্রোতধারা, যার শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে। এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি উজানের নদী তিস্তা। তবে  গত বছরের ৪ অক্টোবর উজান থেকে বানের পানি নেমে এসেছিল। সেই বানের পর বাংলাদেশ অংশে তিস্তায় এসেছে ফসলের মহাউপকারী পলি। আর সেই পলির কারণে তিস্তায় জেগে ওঠা চরের জমিতে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হয়েছে গমের। এখন চলছে কাটা-মাড়াই।

জমিতেই এক হাজার ৮শ’ টাকা মণ দরে গম বিক্রি হচ্ছে। এতে পাল্টে গেছে চরের অতীত চিত্র। খুশি চরাঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। শুধু গম নয় ভুট্টা, আলু পেঁয়াজ, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন তিস্তার চরের  কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার কমান্ড এলাকার কৃষক চাহিদামতো সেচ দিতে পারছে না বোরো ধানের জমিতে। রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেচ  ব্যবস্থায় টারশিয়ারি ক্যানেলগুলো খাঁ খাঁ করছে। 
এ বিষয়ে জেলা বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেকেন্দার আলী বলেন, বর্তমানে কৃষক বিকল্প ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এ পদ্ধতিতে কম সেচে ফসল আবাদ হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের  প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান এর ব্যাখ্যা দিয়ে উল্লেখ করে বলেন, প্রকল্প এলাকার কৃষক ফেব্রুয়ারি মাসে বোরো রোপণ করে।

×