ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

অনেকে বালিয়াড়িতে রাত কাটিয়েছেন ॥ খাওয়ার হোটেলে গলাকাটা দাম

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পর্যটকের প্রচণ্ড ভিড় রুম ভাড়া বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ও নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান

প্রকাশিত: ০০:২৯, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পর্যটকের প্রচণ্ড ভিড় রুম ভাড়া বৃদ্ধি

বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের ভিড়

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি উপলক্ষে পর্যটন শহরে পর্যটকের ঢল নামে। পর্যটন মৌসুমের পাশাপাশি ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটিতে কক্সবাজার লাখো পর্যটকের পদচারণায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের নগরীতে পরিণত হয়। তবে রুমভাড়া ও খাওয়ার হোটেলে গলাকাটা বাণিজ্য হওয়ায় পর্যটকরা নাখোশ হয়ে ফিরে গেছেন। 
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের ধারণা, ২০ ফেব্রুয়ারি সৈকতে সমবেত হন প্রায় লাখের অধিক পর্যটক। বুধবার এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত সাড়ে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের প্রায় রুম পর্যটকে ভরপুর থাকবে। স্থানীয়রা বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের ধারণা ঠিকই ছিল, তবে হোটেল কক্ষে থাকতে না পেরে বৃহস্পতিবার পর্যটকদের অধিকাংশ পরিবারের সদস্য ফেরত গেছেন।

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বেলা ১২টা অবধি দেখা যায়, হোটেলে রুম ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে অনেক পর্যটক বালিয়াড়িতে অবস্থান করছেন। অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন সাগরতীরে। কেউ কেউ সড়কে পায়চারি করে সময় পার করছেন। হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁ ও যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন পর্যটকরা।

পর্যটক নূরুল হক বলেন, বুধবার সকালে বাস থেকে কলাতলীতে নামি। এরপর অনেক হোটেল খুঁজেও সস্তায় একটা রুম পাইনি। তবে একটি কটেজে রুম পেয়েছি সেটার দাম ৭ হাজার টাকা। অথচ রুমের অবস্থা ভালো না। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির নেতারা জানান, কক্সবাজার সৈকতের নিকটবর্তী ৫ শতাধিক হোটেলে-মোটেলে কোনো রুম খালি নেই। হোটেলের কক্ষ খালি না পেয়ে অনেকে ছুটছেন শহরের দিকে।

অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানান, এটি আমার জানা নেই। তবে যেসব হোটেলের বিরুদ্ধে পর্যটক অভিযোগ করবে অভিযোগের প্রমাণ মিললে সদস্য পদ বাতিল করা হবে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিওনের অধিনায়ক আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর আছে। পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।  

বান্দরবান ॥ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি উপলক্ষে পর্যটকে মুখরিত হয়েছে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। গত বছরের শুরু থেকে পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট কেএনএফের সন্ত্রসী কর্মকা- ও চলমান পরিস্থিতিতে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকার পর হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। চলমান সংকট কাটিয়ে পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা খুশি। 
সরেজমিনে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি উপলক্ষে ২১-২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনদিনের টানা সরকারি ছুটিতে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম, বান্দরবান সদরের নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক, শৈল প্রপাত’সহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে গেল কয়েক বছরে জেলার পর্যটন খাতে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্টরা ব্যবসায়ীরা এবং ভ্রমণপ্রত্যাশী পর্যটকদেরও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা যায়। 
জানা গেছে, অপরূপ সন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে বছরজুড়ে কম বেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও বিশেষ ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের পদচারণা বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। এতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন জেলার কয়েক হাজার পাহাড়ি বাঙালি।
এদিকে আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি বান্দরবান জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়াতে চাঁদের গাড়ির যাত্রীদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাঁদের গাড়ি চালকরা। চাঁদের গাড়িতে যাত্রী পাওয়ায় খুশি পরিবহন ব্যবসায়ীরাও। 
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারির তিনদিনের টানা ছুটিতে বান্দরবনে পার্বত্য জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপ্রত্যাশীদের আনাগোনা বেড়েছে। এছাড়াও জেলার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ ছুঅনেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন পর্যটকরা। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতি গুনতে গুনতে ছুটির কারণে করে পর্যটকের আগমন ঘটায় খুশি সকল স্তরের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। 

বান্দরবানের হোটেল হিলটনের ম্যানেজার মো. আক্কাস উদ্দিন জানান, এবারের ছুটিতে আমাদের হোটেলের শতভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। পাহাড়ের চলমান পরিস্থিতির কারণে আমরা যে পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তা বলে বুঝানো যাবে না বলে জানান তিনি।
মেঘলা এলাকার হোটেল নাইট হ্যাভেনের ম্যানেজার মো. ওমর ফারুক বলেন, সরকারি ছুটির কারণে পর্যটক আসায় আমাদের অনেক খুলাগছে। পর্যটকরা আমাদের অতিথি তারা না আসলে আমাদেরও ভালো লাগে না। বিগত দিনের ক্ষতিগুলো আগামীতে পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছেন তিনি। 
হোটেল অরণ্যের মালিক ও বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি উপলক্ষে তিনদিনের টানা সরকারি ছুটিতে তার হোটেলসহ জেলা সদরের অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ খালি নেই। বান্দরবানে আগত পর্যটকদের সেবার মান আরও উন্নত করার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভিড় জমিয়েছেন দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকেও কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টিম প্রত্যেকটি স্পষ্টে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মুজাহিদ উদ্দিন দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেন, বান্দরবান জেলায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নীলাচলের রিসোর্টগুলোকে সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। বান্দরবানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে পর্যটক আসছে বলে জানান তিনি।

×