ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

চট্টগ্রামে প্রার্থীদের হলফনামা

স্বতন্ত্র প্রার্থী সুমনের সম্পদের পাহাড়

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত: ২২:৪৭, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

স্বতন্ত্র প্রার্থী সুমনের সম্পদের পাহাড়

এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, মনজুর আলম ও জিয়াউল হক সুমন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করা চট্টগ্রামের অধিকাংশ প্রার্থীই বিপুল সম্পদ ও বিত্তের মালিক। এরমধ্যে বেশকজন প্রার্থী রয়েছেন যাদের স্ত্রীর অর্থ ও সম্পদ অনেক বেশি। অবাক করার বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার একসময় কিছুই ছিল না। দু’দফা কাউন্সিলর হওয়ার পর তিনি এখন ঠাসা অর্থবিত্তে। অল্প সময়ে এত সম্পদের নেপথ্যে কী রয়েছে, তা নিয়েও চলছে নানা রকমের আলোচনা। সম্পদের হলফনামায় তিনি যত সম্পদ উল্লেখ করেছেন তাতে সর্বমহলের চক্ষু চড়কগাছ।
মহানগরীর বন্দর-পতেঙ্গা আসন, যেটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। কারণ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন এ আসনে দল মনোনীত প্রার্থী এম এ লতিফের বিরুদ্ধে কাজ করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক সুমনের পক্ষ হয়ে। সুমনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সদলবলে অংশ নিয়ে তিনি হয়েছেন আলোচিত। এই সুমনের একসময় উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। ২০২১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে এ প্রার্থীর নিজ নামে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২১০। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এবার এমপি পদে লড়বার জন্য নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তার হাতে নগদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

শুধু তাই নয়, এখন ব্যাংকেই জমা আছে ১৫ কোটি টাকা ৪৮ লাখ টাকা। এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর কী এমন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেলেন, এমন প্রশ্ন পুরো নগরীতে। তার চাইতে স্ত্রী আরও বেশি অর্থবিত্তের মালিক। শুধু তার স্ত্রীর ব্যাংকেই আছে ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ১শ’ টাকা। তার কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে দেড় কোটি টাকা। আর নির্ভরশীলদের আয় দেখানো হয় ৩৫ লাখ টাকা। দোকানভাড়া, বাড়িভাড়া থেকে ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৩০ লাখ ৩৪ হাজার এবং তার স্ত্রীর ব্যবসা থেকে ৩০ লাখ এবং শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৩১০ টাকা।

স্ত্রীর ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার ডিপিএস এবং অন্যান্য আয়ের মধ্যে দেখানো হয়েছে তার স্ত্রীর ৯ লাখ এবং নিজের কাউন্সিলর বাবদ সম্মানী ভাতা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর অস্থাবর সম্পত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে তার নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৯ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ১০০ টাকা মূল্যের এভেন্স ৫ হাজারটি। স্ত্রীর নামে নগদ আছে ১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা। স্ত্রী ও নিজের নামে গাড়ি আছে ৪টি। কোটি কোটি টাকা এবং সম্পদের ঠাসা এ প্রার্থীর পেশা ব্যবসা উল্লেখ করলেও আয় বেশি দেখানো হয়েছে কৃষিখাত থেকে। আর দেনার মধ্যে ব্যাংক লোন ৩৫ লাখ ২২ হাজার ২৩৯ টাকা, বনফুল হতে অগ্রিম গ্রহণ ৩ লাখ টাকা, ওয়ালটন থেকে অগ্রিম গ্রহণ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
একই আসনের বর্তমান এমপি এম এ লতিফ নির্বাচন কমিশনের যে হলফনামা দাখিল করেছেন সেখানে তিনি তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয় ৭৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা, যা প্রতিদ্বন্দ্বী সুমনের থেকে অনেক কম। বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এমপি লতিফের জমা টাকার পরিমাণ দেখানো হয় ৪২ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ টাকা। স্ত্রীর নামে জমা ৭৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আর হাতে নগদ ২ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬১ টাকা, স্ত্রীর নামে ৫২ লাখ ১৯ হাজার ২৩০ টাকা দেখিয়েছেন।  
এমপি লতিফ হলফনামায় উল্লেখ করেন, তার গাড়ি রয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকার। কৃষি থেকে তিনি বার্ষিক আয় করেন ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৪৭ টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে আয় ২০ লাখ ৭২ হাজার ৩৪৪ টাকা, শেয়ার থেকে ২ হাজার ৩৬৫ টাকা, চাকরি এবং সম্মানী বাবদ ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৫ টাকা আয় করেছেন। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪১১ টাকা। লতিফের কাছে নগদ রয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬১ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫২ লাখ ১৯ হাজার ২৩০ টাকা। এছাড়া স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে আরও ৭৮ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৭ টাকা।

নিজের নামে বন্ড ঋণপত্র এবং শেয়ার রয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৫ টাকা। ২০১৮ সালে তার বার্ষিক আয় ছিল ৮২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। আর ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে ৭৪ লাখ ৮২ হাজার ২৮২ টাকা। ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৪৬৫ টাকার। আর ২০২৩ সালে সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৬ টাকা। তার একটি গাড়ির দাম উল্লেখ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বর্তমান এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। ৪ মাস আগে জমা দেওয়া হলফনামায় বাচ্চুর স্ত্রীর নগদ টাকা না থাকলেও এবার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ তিন হাজার ৫শ’ টাকায়। তখন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বাচ্চুর স্ত্রীর নামে জমা দেখানো হয়েছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এবার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা নেই। বাচ্চুর ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১৭ লাখ ৯৪ হাজার ৫শ টাকা। এবার বাচ্চুর নগদ টাকা ১১ লাখ ৩ হাজার ৪৮৪ টাকা দেখানো হয়েছে। তার দুইটি গাড়ি বাবদ সম্পদ দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। নিজের নামে ৩ কোটি ৫০ লাখ ৬১ হাজার ৫শ টাকার অকৃষি জমি এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকার ফ্ল্যাট দেখানো হয়েছে। 
আসনটিতে বাচ্চুর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মনজুর আলম পেশায় নিজেকে একজন শিল্পপতি হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ২০টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য উল্লেখ করে প্রবীণ এ রাজনৈতিক নেতা তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন কৃষিখাত থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্টে ৭২ লাখ ২২ হাজার ১৫৬ টাকা। এই খাতে স্ত্রীর আয় ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ টাকা। ব্যবসা হতে আয় উল্লেখ করেছেন ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত ৭৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০২ টাকা, পেশা হতে সম্মানি এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা, খালি জায়গার ভাড়া বাবদ ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। নির্ভরশীলদের বছরে আয় বাড়ি অ্যাপার্টমেন্টে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ টাকা ও শেয়ার, সঞ্চয়পত্রে আমানত ৯ লাখ ২০ হাজার ৮২৭ টাকা।
এছাড়া অস্থাবর সম্পদের মধ্যে মনজুর আলমের নিজ নামে নগদ টাকা ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৮ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ২০৬ টাকা। ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের একটি গাড়ি আছে তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া একটি ব্যাংকে ৯ কোটি ১৬ লাখ টাকার দায় আছে।  বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দুই হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। 

যশোরের এমপিদের সম্পদের হিসাব 
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ গত পাঁচ বছরে সব এমপির আয় ও সম্পদ বেড়েছে। আয় বেড়েছে যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ ও যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্যরে। আর সম্পদ বেড়েছে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের এমপি রণজিৎ রায় ও যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের এমপি শাহীন চাকলাদারের। দ্বাদশ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
দু’নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের গত পাঁচ বছরে আয় বেড়েছে। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৮ টাকা। পাঁচ বছর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার আয় ছিল ৩৬ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৪ টাকা। বেড়েছে তার সম্পদও। বর্তমানে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৪ কোটি ৪১ লাখ ৬১ হাজার ১৮৫ টাকা। পাঁচ বছর আগে শেখ আফিল উদ্দিনের সম্পদ ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ টাকার। সেই হিসেবে পাঁচ বছরে তার সম্পদ বেড়েছে ২২ কোটি ৬১ লাখ ৮২ হাজার ৮২৮ টাকার। শেখ আফিল উদ্দিনের আয় এবং সম্পদ দুটোই বেড়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের স্থাবর সম্পত্তি কমেছে। বেড়েছে আয় এবং অস্থাবর সম্পদ। পাঁচ বছর আগে তার স্থাবর সম্পত্তি ছিল ৭ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৯ টাকার। বর্তমানে তার স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩৬ টাকা। এখন তার বার্ষিক আয় ১৪ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫ টাকা। পাঁচ বছর আগে আয় ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার ৪২৯ টাকা। সেই হিসেবে এমপি নাবিল আহমেদের আয় বেড়েছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ টাকা। হলফনামার তথ্য বলছে, এমপি কাজী নাবিল আহমেদের অস্থাবর সম্পদও বেড়েছে। ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৯ টাকার সম্পদ ছিল পাঁচ বছর আগে। বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩২ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৪১০ টাকার।
যশোর-৪ আসনের এমপি রণজিৎ রায়ের আয় কমলেও বেড়েছে স্থাবর সম্পত্তি। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে তার আয় ছিল ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৫ টাকা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৬০ টাকা। সেই হিসেবে আয় কমেছে ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫ টাকা। কমেছে অস্থাবর সম্পদও। বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ১ হাজার ৯৩৪ টাকার। পাঁচ বছর আগে সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কমেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার ৬৬ টাকার সম্পদ। তবে, বেড়েছে স্থাবর সম্পত্তি। পাঁচ বছর আগে রণজিৎ রায়ের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকার। বর্তমানে এই সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার টাকা।

আয় বেড়েছে যশোর-৫ আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্য্যরেও। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮১ টাকা। পাঁচ বছর আগে আয় ছিল ১৫ লাখ। এই পাঁচ বছরে তার আয় বেড়েছে ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১ টাকা। তবে, তার স্থাবর সম্পদ কমেছে। পাঁচ বছর আগে স্বপন ভট্টাচার্য্যরে স্থাবর সম্পদ ছিল ৫৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকার। বর্তমানে এই সম্পদ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকায়।
আয় কমেছে যশোর-৬ আসনের এমপি শাহীন চাকলাদারেরও। পাঁচ বছরে তার আয় কমেছে ২ লাখ ১১২ টাকা। পাঁচ বছর আগে আয় ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা। বর্তমানে তার আয় ২ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৮ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, বেড়েছে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ। বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৭ টাকার। পাঁচ বছর আগে তার এই সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৬৮৭ টাকার। পাঁচ বছরে এমপি শাহীন চাকলাদারের ২ কোটি ২১ লাখ ৬ হাজার ৭৫০ টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে বলে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে।

×