ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

চোখের আলো নিভে গেল স্কুল ছাত্রী রোবিনার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ 

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

চোখের আলো নিভে গেল স্কুল ছাত্রী রোবিনার

স্কুল ছাত্রী রোবিনা

সানজিদা আক্তার রোবিনা (১৪) ছিল ক্লাসের মেধাবী ছাত্রী। সে মুশুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর নিয়মিত শিক্ষার্থী। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল পড়াশুনা করে মেয়ে দেশের জন্য কাজ করবে। এক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। স্কুলের শিক্ষক ও মা-বাবার প্রিয় রোবিনা এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছে। তার দুই চোখের আলো নিভে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাত-পা। গত ২৯ আগষ্ট স্কুলে যাওয়ার পথে এমকে সুপারের একটি বাসের ধাক্কায় তার এই করুণ পরিণতি।

জানা গেছে, রোবিনার বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ধরগাঁও গ্রামে। সে ওই গ্রামের রুবেল মিয়ার কন্যা। রুবেল মিয়া একজন দিনমজুর। সংসারে নুন আন্তা ফুরায় অবস্থা। হঠাৎ মেয়ের এই করুণ অবস্থায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন তিনি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থানরত রোবিনার বাবা রুবেল মিয়াকে মেয়ের শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করতেই ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমি দরিদ্র হলেও সংবারে সুখ ছিল। 

মেয়েকে নিয়ে বুক ভরা স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে ছুরমার হয়ে গেল। রুবেল মিয়া জানায়, হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে মেয়ে যখন প্রশ্ন করে স্কুলে কি আমার নাম কেটে দিছে। আমি কি আর কখনো স্কুলে যেতে পারব না। সামনেত ফাইনাল পরিক্ষা, চোখে না দেখতে পেলে পড়াশুনা করবো কিভাবে। তখন মনে হয় আকাশটা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়েছে। 

এসময় তিনি কথা বলতে না পারায় ভাতিজা আরিফুর রহমানের কাছে মুঠোফোন দিয়ে দেয়। রোবিনার শরীরের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে আরিফ বলেন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান উনস্টিটিউটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছে রোবিনার চোখের অপটিমাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে চোখের আলো আর ফিরবেনা। তার ডান হাত ও বাম পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেছে। দুইটা অপারেশন হয়েছে। বর্তমানে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে রেফার করা হয়েছে। 

এখন পায়ে প্লাস্টিক সার্জারি করার জন্য অপেক্ষায় আছে। নাকের হাড় ভেঙ্গে গেছে। কপাল ফেটে যাওয়ায় চিকিৎসকরা ২০টি সেলাই করেছেন। মাথায় আঘাত লাগায় কপাল ও মাথায় ক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া উঠে গেছে। 

উল্লেখ্য, ২৯ আগষ্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রোবিনা বাড়ি থেকে ইজিবাইকযোগ বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। এসময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের উত্তর মুশুলী নামক স্থানে এমকে সুপারের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংর্ঘষ ঘটে। এতে ইজিবাইকে থাকা মুশুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী রোবিনা গুরুতর আহত হয়। 

এই ঘটনায় চপই দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম (৩৮) ও মুশুলী কলেজের শিক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তার (১৯) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। দুর্ঘটনার কথা জানাজানি হলে ৩১ আগষ্ট রোবিনার চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ শিক্ষক ও ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনার বিচারের দাবিতে মুশুলী উচ্চ বিদ্যালয় ও মুশুলী কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ৩ ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তখন এমকে সুপার কম্পোনির দুইটা বাস ভাঙচুর ও সড়কে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারিরা।

 

এস

×