ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

আত্মগোপনে রোহিঙ্গা নারী

টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার ॥ দুই আসামির স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ০০:৪৯, ২৭ মে ২০২৩

টেকনাফে ট্রিপল মার্ডার ॥ দুই আসামির স্বীকারোক্তি

টেকনাফে ট্রিপল মার্ডারে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব

তিন বন্ধুকে হত্যাকা-ের পর তাদের নিশ্চিহ্ন করতে লাশের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা। এর আগে তিনজনকে মুক্তি দিতে সন্ত্রাসীরা ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছিল। দুজনের প্রায় ২ লাখ টাকা আদায়ও করেছিল। তবে রুবেলকে পরিকল্পনা মতে হত্যা মিশন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হওয়ায় তাদের খুন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত দুই সন্ত্রাসী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।
টেকনাফ থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, থ্রি মার্ডার মামলায় ধৃত আসামিদ্বয় শুক্রবার কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারা মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা অপহরণ ও হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়াও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে ধৃত আসামিরা। মামলা নেওয়ার পর পুলিশের ও র‌্যাবের একাধিক টিম অপহৃতদের উদ্ধারকল্পে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। অবশেষে আটক করা হয়েছে দুই সন্ত্রাসীকে। অপহরণকারীরা বারবার স্থান ত্যাগ করায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে টেকনাফ থানা পুলিশ।
এদিকে র‌্যাবের অভিযানে ধৃত দুই রোহিঙ্গারা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে, তিন বন্ধুর মরদেহ নিশ্চিহ্ন করতে তাদের মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। টেকনাফে পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহৃত ও পরে খুন হওয়া তিন বন্ধু হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত দুজনকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার টেকনাফ হাবিবছড়া গহিন পাহাড় থেকে অভিযান চালিয়ে  ছৈয়দ হোসেন ওরফে সোনালী ডাকাত ও এমরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঈদগাহ জালালাবাদ সওদাগরপাড়ার মোহাম্মদ ইউছুপ, শহরের নুনিয়াছড়ার ইমরান ও চৌফলদ-ীর জমিরুল ইসলাম রুবেল তিন বন্ধু মিলে টেকনাফে পাত্রী দেখতে গেলে গাড়ি থামিয়ে তাদের অপহরণ করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। পরে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি র‌্যাবকে অবগত করলে অভিযানে নামে র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক জানান, মরদেহগুলো যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে- সেখানে মানুষের আনাগোনা নেই। ডাকাত দলের লোকজন বারবার সিম পরিবর্তন করার কারণে তাদের শনাক্ত করতে একটু সময় লেগেছে। ধৃত দুজন প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তারা এই কাজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বিত্তশালীদের টার্গেট করে এসব অপহরণ করত তারা। দিনের বেলায় এই চক্রের সদস্যরা লোকালয়ে এসে সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশ ধরে থাকত। রাতের বেলায় পাহাড়ে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের নির্যাতন করত। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাদের পুঁতে রাখা হতো মাটির মধ্যে।
সূত্র জানায়, টেকনাফে পাত্রী দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় রুবেলের সাবেক স্ত্রী মিনা। রুবেলের ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী রোহিঙ্গা সুন্দরী মিনা দ্বিতীয় স্বামীর শেখানো কথা মতে রুবেলকে হত্যার ফাঁদ পাতে। রমজানের শেষের দিকে টেকনাফে পাত্রী দেখতে যেতে রুবেলকে প্রস্তাব দেয় মিনা। ঈদের কয়েকদিন পর রুবেল ও তার দুই বন্ধু পাত্রী দেখতে যান। রুবেল বিশ্বাস করেছিল তার প্রথম স্ত্রীকে। কিন্তু ডিভোর্সপ্রাপ্ত স্ত্রী মিনু আরা বেগম ওরফে মিনা তার সাবেক স্বামীর সঙ্গে যে এত বড় বিশ্বাস ঘাতকতা করবেÑ তা কল্পনাও করেননি রুবেল। এরপর অপহরণ হলো রুবেলরা।
মিনা ও তার বর্তমান স্বামী কথিত সাবেক ওসি রুবেলের বোনের কাছে মুঠোফোনে জানায়, মুক্তিপণের টাকাগুলো মিনার হতে দিলে রুবেলদের জীবিত ফেরত দেবে। নতুবা মেরে ফেলবে ইত্যাদি। এসব কথোপকথন অডিও রেকর্ড করেছে রুবেলের বোন। মোটা অঙ্কের টাকা না পেয়ে পরিশেষে মিনা পরিকল্পিতভাবে তার নিকটআত্মীয় রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে হত্যাকা-টি সংঘটিত করিয়েছে। এর পর থেকে ঢাকার ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে মিনা আত্মগোপনে চলে গেছে বলে জানা গেছে। অনেকে বলছে, রুবেল একজন পতিতা ব্যবসায়ী। কক্সবাজার মডেল থানায় একবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন।

×