ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১

ড. সেলিম মাহমুদ 

সেই সম্পাদকই দেশকে রাজনীতি শূন্য করতে চেয়েছিলেন 

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১২:৫০, ১ এপ্রিল ২০২৩

সেই সম্পাদকই দেশকে রাজনীতি শূন্য করতে চেয়েছিলেন 

ড. সেলিম মাহমুদ। ফাইল ফটো

দেশের স্বাধীনতা নিয়ে অবজ্ঞা ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্যের দায়ে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় সাংবাদিকদের একটি সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসে’র বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ‘সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য’ প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, বরং দেশের সংবিধান, আইন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সাংবাদিকতার নীতিমালা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এই মামলা হয়েছে। 

সেই বিদেশী সাংবাদিকরা হয়ত বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস জানেন না। বাংলাদেশের যে সম্পাদককে ভয় দেখানোর কথা বলা হচ্ছে, সেই সম্পাদক এক সময় রাষ্ট্রকেই ভয় দেখাতে তৎপর ছিলেন। বাংলাদেশকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তথা রাজনীতি শূন্য করতে চেয়েছিলেন। নিজের নামে তার পত্রিকায় ফলাও করে লিখেছিলেন, ‘দুই নেত্রীকে সরে যেতেই হবে’। 

পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো পত্রিকার সম্পাদক এ ধরনের ভূমিকা পালন করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি শুধু রাজনীতিবিদ কিংবা রাজনীতির বিরুদ্ধেই নয়, দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। তিনি সাংবিধানিক শাসনের পথ রুদ্ধ করে অসাংবিধনিক শক্তিকে ক্ষমতায় রাখতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হলে বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের মতো একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত হতো। তিনি সংগঠনটির প্রতি প্রশ্ন রাখেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অসংবিধানিক শক্তিকে টিকিয়ে রাখতে একজন সম্পাদকের এই ধরনের কার্যক্রম কি স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতির মধ্যে পড়ে?

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, একটা শিশুর হাতে ১০ টাকা ঘুষ দিয়ে তার নামে একটা সংবাদ পরিবেশন করা, তাও আবার স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতাকে অবজ্ঞা ও কটাক্ষ করে। এটি কি অপরাধ নয়? সাংবাদিক হলেই কি সবাই আইনের ঊর্ধ্বে? সব অপরাধ থেকে মাফ পাওয়া যায়? পৃথিবীর সকল সভ্য দেশেই শিশু অধিকার ও শিশু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইনে যথেষ্ট সংবেদনশীলতা রয়েছে। 
অর্থের বিনিময়ে শিশুকে ব্যবহার অমার্জনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপরাধ শিশুর জীবনকে শঙ্কিত করে তুলে। প্রথম আলো প্রথম শ্রেণির একটা শিশুকে অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে নিউজ করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে। এটি জঘন্য অপরাধ। যেসব বিদেশী সাংবাদিক বিবৃতি দিয়েছে, তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, তাদের নিজেদের দেশে কোনো শিশুকে যদি এভাবে ব্যবহার করা হতো, তারা কি করতেন? 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কয়েকটি উপাদানের মধ্যে একটি হচ্ছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার নামে আইনের শাসনের মূল ভিত্তিকে আঘাত করা যায় না। আইনের চোখে সকলের সমান  অধিকারের বিধান অনুসরণ করেই প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সম্প্রতি ফিলিপিন্সে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তিনি অসংখ্যবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন এবং বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। সাংবাদিকতার পেশার কারণে কারও বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না- এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। 

ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, প্রথম আলো ও তার সম্পাদক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলেন। তাদের পক্ষের কেউ দুর্নীতি, অর্থপাচার ও লুটপাট করলে তারা নীরব থেকে প্রকান্তরে দুর্নীতিবাজদের সমর্থন করেন। ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোতে একটা শিশুর বরাত দিয়ে যে বক্তব্য প্রকাশ করেছে তা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতি অবজ্ঞা ও কটাক্ষ, বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অপমান এবং রাষ্ট্রের ওপর আঘাত। এই সংবাদ সমগ্র জাতিকে ব্যথিত করেছে। 
 

এসআর

×