ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

সৈয়দপুরে নকল প্রসাধনীর জমজমাট বাজার

সংবাদদাতা, সৈয়দপুর, নীলফামারী

প্রকাশিত: ১৬:২০, ২৫ মার্চ ২০২৩

সৈয়দপুরে নকল প্রসাধনীর জমজমাট বাজার

নকল প্রসাধনী

সৈয়দপুরে ভেজাল ও নকল প্রসাধনীর ব্যবসা জমে উঠেছে। সকল বয়ষীদের পছন্দের শীর্ষে এসব প্রসাধনী অবাধে কেনা বেচা হলেও দেখার কেউ নেই। এতে প্রতারনার পাশাপাশি শিশুসহ উঠতি প্রজন্মরা জটিল চর্মরোগে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকলেও দেখার কেউ নেই।  

সৈয়দপুর শহরের চুরিপট্টির এলাকার কতিপয় প্রসাধনী ব্যবসায়ী দির্ঘদিন ধরে ঢাকার চকবাজর ও অন্যন্য এলাকা থেকে নকল প্রসাধনী আনছে। এরপর প্রসাধনীগুলো দিনাজপুর, পার্বতীপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, হাতিবান্ধাসহ  উত্তরের সকল জেলার বিলাসবহুল বিপনী বিতান ও মফস্বলের পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি  করা হচ্ছে। 

এতে গোটা উত্তরাঞ্চলের হাট-বাজার সয়লাব হচ্ছে। এ সকল প্রসাধনীর প্যাকেট বা মোড়কে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, অনুমোদন, বিএসটিআই এর লোগো, ব্যাচ নং, এমআরপি, এমএফজি, ট্যাক্স এ্যান্ড ভ্যাট, মেয়াদ, তারিখ সবকিছুই উল্লেখ রয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি আসল, না নকল। আর এ সকল নকল প্রসাধনীর বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে এ শহরে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই বাজারের সাদ্দাম, সনু, চান্দ, আমির, রতন, সুজন, সাদরে আলম, সাকিল তালা, জগন্নাথ, রানা, মাসুম, আহমেদ, কাঞ্চন মিলে ২৫ জন পাইকারী বিক্রেতা এ সকল নকল প্রসাধনী বিক্রি করছেন। বিশ্বমানের নামকরা কোম্পানির মোড়কে মেইড ইন জার্মানির জায়গায় মেইড অ্যাস জার্মানি স্টিকার লাগিয়ে আবার কখনও ইউনিলিভার কোম্পানির ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির আদলে ফেজার অ্যান্ড লাভলি, ফুয়ার অ্যান্ড লাভলি ইত্যাদি নামে রং ফরসাকারী ক্রিম , শেভিং ফোম, ফেইস ওয়াশ, আফটার সেইভ লোশন, এপ্রিকট, স্পিডি ন্যাচারাল ব্লাক কালার, গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড এ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, এ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নিভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান। সুগন্ধির মধ্যে ফগ, হুগো, রজনী গন্ধা, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা। অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন, জনসন বেবি লোশন, জনসন তেল, জনসন ক্রীমসহ এই কোম্পানির শিশুদের সকল ধরনের প্রসাধনী। সঙ্গে ভিট হেয়ার রিমুভার, ক্লিন ক্লিয়ার, স্কিন সাইন বডি লোশন, ক্লিন ক্লিয়ার ফেস ওয়াস, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিক প্রোভি ও হারবাল এ্যাসেনশিয়াল লোশন, সেভিং ফোম, সেভিং লোশন বা ক্রিম, পারফিউম, টেলকম পাউডার, সুগন্ধি কেশ তেল, বিউটি ক্রিম, স্যাম্পু ও কন্ডিশনারের চাহিদা বেশি। 

এগুলো বিভিন্ন পার্লার, সেলুন ও হেয়ার ড্রেসিং এর দোকানগুলোতে বেশি ব্যবহার হচ্ছে। আবার যুবকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। বিএসটিআই কিংবা সংশ্লিষ্টরা অভিযান পরিচালনা না করায় প্রতিনিয়ত সাধারন মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতিসহ পাশাপাশি শরীরে চর্মরোগের ঝুঁকিও বাড়ছে তাদের। তারপরেও দেখার কেউ নেই।

বছরে দু-একটি অভিযান পরিচালনা করেন জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর। সেখানে শুধু জরিমানা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর শহরের শহীদ ডা. শামমসুল হক সড়কের ৩টি প্রসাধনীর দোকানে অভিযান চালানো হয়। এতে অনুমোদনহীন আমদানিকৃত ও  নকল প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ৩ জনকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এতে নকল প্রসাধন বিক্রেতাদের ব্যবসা জমজমাট ভাবেই চলছে। আর পবিত্র রমজান মাসে দুরান্তের ব্যবসায়ীরা ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক হারে কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

ফারজানা ইয়াসমিন নামে এক বিউটিশিয়ান জানান, তার পার্লারে অনেকেই মুখে কালো দাগ, র‌্যাশ, গোটা, এলার্জি সমস্যা নিয়ে আসে। তাদের কাছে এ সকল সমস্যার জানতে চাইলে তারা বলেন, ক্রিম, লোশন ব্যবহারে এমন হয়েছে। পরে তাদেরকে আমরা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, নকল প্রসাধনী ত্বকের উজ্জলতা নষ্ট করে। এতে এলার্জি, ডারমাটাইসিস, ক্ষত, চামড়া কালো, একজিমাসহ স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অধিক কেমিক্যালে নকল প্রসাধনী তৈরী করা হয়। 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নীলফামারীর সহকারী পরিচালক মো: শামসুল আলম বলেন, আমরা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে তদন্তের পর অভিযানে যাব। 

এসআর

×