ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১

হবিগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ বাড়ায় চাষিরা লাভবান

স্টাফ রিপোর্টার,হবিগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪:৫১, ২৫ মার্চ ২০২৩

হবিগঞ্জে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ বাড়ায় চাষিরা লাভবান

সূর্যমুখী আবাদ 

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লক। এ ব্লকের পূর্ব শিমুলিয়াম গ্রামে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। এর চাষ করেছেন চাষি মোঃ ওয়াহিদ মিয়া। তার চাষকৃত ফুল দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এর মধ্যে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। তিনি সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদে লাভবান। 

একই ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে চাষি আজিজুর রহমান, জসিম উদ্দিন, ইউনুছ মিয়া, দিদার হোসেন, দুলাল মিয়া, আমির আলীসহ আরও কয়েকজন চাষি সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেও লাভবান। তাদের সফলতা দেখে অন্যান্য স্থানের চাষিরাও সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহী হয়েছেন।  

একইভাবে জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ, লাখাই, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, চুনারুঘাট উপজেলার গ্রামে গ্রামে চাষিরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। তারাও চাষ করে আশানুরুপ ফলন পেলেন।  

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে প্রায় ৪৫৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন ১৫০০ চাষি। যেখানে এক সময় জেলায় শখের বসে কেউ কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় সূর্যমুখী ফুল গাছ রোপণ করে সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। আর্থিকভাবেও লাভবান হতেন না। এখানে বর্তমানে কৃষি বিভাগের তৎপরতায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ বেড়ে চলেছে। তাতে লাভবান চাষিরা। সখ পূরণের পাশিপাশি আসছে অর্থ। 

চাষি মোঃ ওয়াহিদ মিয়া বলেন, সূর্যমুখী ফুল চাষ সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিলনা। বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম মাঠে এসে পরামর্শ প্রদান করেন। আমি উৎসাহিত হয়ে জমি আবাদ করে এ ফুলে চাষ করেছি। ক্ষেতে আছে হলুদ বর্ণের সূর্যমুখী ফুল। যে দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় না করার কোনো উপায় নেই। যাই হোক চাষ করে ফলন পেয়েছি। আগামীতেও চাষ করার ইচ্ছা আছে। 

বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, এ ব্লকের মধ্যে প্রায় ১ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ১০ জন চাষিকে জনপ্রতি ২ কেজি বীজ ও ২০ কেজি করে সার সরকারিভাবে প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সার ও বীজ দিয়ে চাষিদের উৎসাহিত করা হয়। যার ফলে চাষিরা ফুলের চাষ করে লাভবান। চাষিদের মুখে হাসি দেখতে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দ লাগছে। 

বাহুবল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেধা আচার্য্য বলেন, ২০২১-২২ সালে প্রণোদনার মাধ্যমে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ হয়েছে। এখানে ৯০ জন চাষিদের মধ্যে জনপ্রতি ২ কেজি করে বীজ ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও কৃষকদেরকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে সহজে উন্নত মানের তেল ও খৈল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও সূর্যমুখী জনপ্রিয়। তাছাড়া এই ফুলের মাধ্যমে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মধু উৎপাদন করা সম্ভব। স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ জীবাণু প্রতিরোধে এই ফুলের উৎপাদিত তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আশেক পারভেজ বলেন, জেলাজুড়ে এক সময় সূর্যমুখী ফুল চাষ হতো সখের বসে। উদ্যোগ নিয়ে উপহসকারী কৃষি অফিসারদের গ্রামে গ্রামে পাঠাই। তারা চাষিদের পরামর্শ প্রদান করছে। সরকারিভাবে দেয়া হয়েছে বীজ ও সার। চাষিরা উৎসাহিত হয়ে সূর্যমুখী ফুলের ব্যাপক চাষাবাদ করে সফল।  

তিনি বলেন, এক দশক আগেও সূর্যমুখী তেলের বোতল দেখা যেত সুপারশপ আর অভিজাত দোকানের তাকে। শহরের অভিজাত শ্রেণী ছিল এই তেলের মূল গ্রাহক। এখন বাড়ির পাশের দোকানের তাকেও ঠাঁই পাচ্ছে এই তেল। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অভিজাত শ্রেণির পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে রান্নার তালিকায় রাখছেন এই তেল। প্রচলিত তেলের চেয়ে হৃদরোগে ঝুঁকি কমায় পুষ্টিবিদদের এমন পরামর্শেও রান্নার তেল হিসেবে তা জায়গা করে নিচ্ছে। নতুন নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়ে বেড়ে যাচ্ছে এই তেলের চাহিদা। 

তাসমিম

×