ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

কুড়িগ্রামে আরও ৩ জন গ্রেফতার তদন্ত শুরু

দিনাজপুরে এসএসসির স্থগিত ৪ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

দিনাজপুরে এসএসসির স্থগিত ৪ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল আল মামুন, পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক সুজন মিয়া

দিনাজপুর বোর্ডের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় দুই শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে বুধবার প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এনিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত করা চারটি বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ১০, ১১, ১৩ ও ১৫ অক্টোবর গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিবর্তিত সময়সূচী প্রকাশ করা হয়। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, গণিত (আবশ্যিক) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ অক্টোবর, কৃষিশিক্ষা (তত্ত্বীয়) ১১, রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১৩ ও পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ১৫ অক্টোবর। সব বিষয়ের পরীক্ষা হবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
শিক্ষা বোর্ডের ওই সূচীতে জানানো হয়, পূর্বের সময়সূচী অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর গণিত, ২৪ সেপ্টেম্বর পদার্থবিজ্ঞান, ২৫ সেপ্টেম্বর কৃষিশিক্ষা ও ২৬ সেপ্টেম্বর রসায়ন বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গণিত, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষিশিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

এ ছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষার পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী ছিল ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর। নতুন সময়সূচী দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষার সব কেন্দ্রের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন সময়সূচী শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্র ও বিদ্যালয়গুলোতে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
নতুন করে সময়সূচী নির্ধারণের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ছাপানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ড। বুধবার রাতেই শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ নতুন প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কয়েক কর্মকর্তা ঢাকাতেও গেছেন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের যাতে কোন সমস্যা না হয় এবং টেনশনে থাকতে না হয় যে পরীক্ষাগুলো কবে হবে, এ জন্য দ্রুত নতুন সময়সূচী দেয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এসএসসির গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, কৃষি ও রসায়নের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। বুধবার সকালে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নোটিসের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমানসহ তিন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে ছয় বিষয়ের প্রশ্নপত্র উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মঙ্গলবার এসএসসির ইংরেজী দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ওঠায় নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মার নজরে আনেন। এর পর পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ট্যাগ কর্মকর্তা।

প্রথমে প্রধান শিক্ষক সদুত্তর না দিলেও পরে অধিকতর জিজ্ঞাসায় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র রয়েছে। এর পর তিনি তার রুমের বুকশেলফের নিচের তাক থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে প্যাকেটে রাখা কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করে দেন।
ব্যাগের ভেতর থেকে গণিত, উচ্চতর গণিত, রসায়ন, কৃষি, জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র বের করা হয়। এর মধ্যে একটি প্যাকেট ছাড়া বাকি সব প্যাকেটের মুখ খোলা ছিল।

তখন ট্যাগ কর্মকর্তার নির্দেশে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এসআই সাঈদ মোঃ আতিক নুর উল্লেখিত এসব বিষয়ের প্রশ্নপত্রের জব্দ তালিকা করেন। সেই সঙ্গে প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান শিক্ষক জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিষয়ের সহকারী শিক্ষক আবু হানিফের সহায়তায় কৌশলে পূর্বের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে করে জব্দ করা প্রশ্নপত্রগুলো নিয়ে আসেন তারা। এরপর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের খ-কালীন সহকারী শিক্ষক জোবায়ের হোসেন ও অফিস সহকারী আবু হানিফসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের সহযোগিতায় প্রশ্ন ফাঁস করেন।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আরও ৩ গ্রেফতার, শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত শুরু ॥ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে চলতি এসএসসি পরীক্ষার চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষক এবং এক অফিস সহায়ককে  গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হলেও বৃহস্পতিবার তাদের প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।  গ্রেফতারকৃতরা হলো  নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল আল মামুন, পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক সুজন মিয়া।

এর আগে বুধবার একই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৬জনে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন করে গ্রেফতারকৃত ৩জনকে  কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে  প্রেরণ করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের  চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রের বরাতে জানান, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকের পক্ষে আমি (জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ শামছুল ইসলাম) বৃহস্পতিবার নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয় পরীক্ষা  কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। সহকারী  প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষকের জবানবন্দী রেকর্ড করেছি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত শিক্ষা বিভাগের কারো কোন দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে শিক্ষা বিভাগ বিভাগীয় ব্যবস্থা  নেবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম আরও জানান, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কুড়িগ্রাম  পৌঁছেছেন। এ কমিটির আহ্বায়ক দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মোঃ ফারাজ উদ্দিন তালুকদার। তদন্ত টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উমা) প্রফেসর মোঃ হারুন অর রশিদ ম-ল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ আকতারুজ্জামান। তারা তাদের তদন্ত কার্যক্রমও শুরু করেছেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) আজাহার আলী জানান, প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত মামলায় নতুন করে তিনজনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক সোহেল আল মামুন, পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হামিদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক সুজন মিয়া। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬জনকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। একজন আসামির রিমান্ড আবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে করা হয়েছে।
এক আসামির রিমান্ড আবেদন ॥ কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভূরুঙ্গামারী  কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) সিরাজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত ) আজাহার আলী এক নম্বর আসামি নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের ৩দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন।

অপরদিকে আসামি পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয় আদালতে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভূরুঙ্গামারী  কোর্টের বিচারক মোঃ সুমন আলী রিমান্ড এবং জামিন শুনানির জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজী ১ম এবং ২য় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে।
অভিনব কায়দায় প্রশ্ন ফাঁস এবং যেভাবে রহস্য উদ্ঘাটন করা হয় ॥ ভূরুঙ্গামারী থানায় প্রশ্ন বাছাইয়ের (সর্টিং) সময় ভূরুঙ্গামারী নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ঐ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আব্দুর রহমানের যোগসাজশে বাংলা ১ম পত্রের প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের  ভেতর বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজী ১ম ও ২য় পত্রের প্রশ্নপত্রের একটি করে খাম ঢুকিয়ে নেন এবং প্যাকেট সীলগালা করে তার ওপর স্বাক্ষর করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান। বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষার দিন যথানিয়মে থানা থেকে বাংলা ১ম পত্রের প্যাকেট এনে তা খুলে বাংলা ২য় পত্র, ইংরেজী ১ম ও ২য় পত্রের খামটি কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বোর্ডের দেয়া তালিকা অনুযায়ী পাঠানো প্রশ্নেপত্রের খাম গণনা করার নিয়ম থাকলেও তারা দায়িত্ব অবহেলা করে তা করেননি।

পরে প্রধান শিক্ষক কয়েক শিক্ষকের সহায়তায় ফাঁস করা প্রশ্নপত্রের উত্তরমালা তৈরি করে ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে (চুক্তিতে সব সেট) ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। পরীক্ষার আগের রাতে ফাঁস হওয়া উত্তরপত্রের সঙ্গে পরের দিন পরীক্ষার প্রদত্ত প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পরে সামাজিক মাধ্যমে এসব উত্তরপত্র ছড়িয়ে পড়ায় তা  নেবার জন্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণ  ছোটাছুটি করেন। প্রতিটি উত্তরপত্রের কপি ২শ’ হতে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয় গোপনে।
প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে এলে বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হলে তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে ইংরেজী ২য় পত্র পরীক্ষার  প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইংরেজী ২য় পত্র পরীক্ষার দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা, সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অভিযান চালিয়ে গণিত, কৃষি বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়নের প্রশ্নপত্র পায়।  যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা এখনও হয়নি।

উল্লেখ্য, পুলিশ জানতে পারে একইভাবে ইংরেজী ১ম পত্রের পরীক্ষার প্যাকেটে এই প্রশ্নগুলো  ঢোকানো ছিল। আর এ প্রশ্নগুলো প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রয়েছে নিশ্চিত হয়ে তারা অভিযান চালায়। পরে বিকেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানকে থানায় আনলেও রাতে প্রধান শিক্ষককে আটক করা হয় এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে ইংরেজী শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক জোবায়ের হোসাইনকে আটক করে এবং বুধবার ভোরে হামিদুল ইসলাম, সোহেল আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

মামলার অপর আসামি ক্লার্ক আবু হানিফ পালিয়ে যায়। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে তিন ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এর পরই সিদ্ধান্ত হয় মামলা করার এবং প্রশ্ন ফাঁস হওয়া চারটি পরীক্ষা স্থগিত করার।
কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ॥ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও যথাসময়ে পরীক্ষা শেষের দাবিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিউল ইসলাম, মাহিন হাবীব, রাফিউল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, পরীক্ষায় কোন প্রশ্ন ফাঁস হবে না বলে শিক্ষামন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, কিন্তু কার গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে ভূরুঙ্গামারীতে প্রশ্ন ফাঁস হলো তা দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে।  শোনা যায় সেখানে সবজির দামে প্রশ্ন পাওয়া গেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার কারণে এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে।