ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাগে মাটি ভরে আদা চাষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর

প্রকাশিত: ২১:৩২, ১৭ আগস্ট ২০২২

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাগে মাটি ভরে আদা চাষ

মাটি ভরে আদা চাষ

রংপুরে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যাগিং পদ্ধতি অর্থাৎ বস্তায় মাটি ভরাট করে আদা চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এই পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। শুধু কৃষকদের মাঝেই এই আদা চাষ সীমাবদ্ধ নয় বরং বাড়ির ছাদে কিংবা আঙ্গিনায় এবং বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে ব্যাগিং পদ্ধতিতে বস্তায় মাটি ভরাট করে আদা চাষ করছেন অনেকেই।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। এছাড়াও অনেকেই ব্যাগিং পদ্ধতিতে আদা চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় দিন দিন এই পদ্ধতিতে আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে আদার। 

তাই এর চাহিদাও থাকে বছরজুড়ে। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় এবং বাড়ির আশপাশের ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার করে ব্যাগিং পদ্ধতিতে বস্তায় মাটি ভরাট করে আদা লাগিয়েছেন জেলার অনেকেই। তাদের মধ্যে একজন সাংবাদিক নিতাই রায়।

নিজের শ্রমেই নিতাই এখন গড়ে তুলেছেন সাড়ে চার হাজার বস্তাসম্বলিত একটি আদার ক্ষেত। তিনি জানান, অবসর সময়ে বসে না থেকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ির চারপাশে বস্তায় করে আদার গাছ লাগিয়েছেন। 

এতে ব্যয় হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। ৫০ থেকে ৬০ দিন বয়সী প্রতিটি বস্তায় ১০ থেকে ১৫টি আদার গাছ জন্ম নিয়েছে। তিনি আশা করছেন, সাড়ে চার হাজার বস্তায় প্রায় সাড়ে ৪টন আদা উৎপাদন হবে। এতে তার আয় হবে প্রায় চার লাখ টাকা।

আদা চাষ নিয়ে কথা হয় স্বপন চৌধুরী নামের আরেকজনের সঙ্গে। তিনি বাড়ির উঠানে এবং বাগানের গাছের ফাঁকে ফাঁকে প্রায় শতাধিক বস্তায় আদা চাষ করেছেন। জানালেন, কয়েক বছর ধরে এই পদ্ধতিতে আদার চাষ করছেন তিনি। ‘এর জন্য আলাদা জমিরও প্রয়োজন নেই। 

এতে নিজেদের আদার চাহিদা ভালোভাবেই পূরণ হয়। বাজার থেকে আর কিনতে হয় না।’ ছাদবাগান চাষি হাফিজুল ইসলাম হাফিজ জানান, একজনের ছাদে আদা চাষ দেখে তিনিও গত বছর থেকে আদা চাষ করছেন। বাড়ির চাহিদার উপর নির্ভর করে ব্যাগে আদা চাষ করেছেন তিনি। জানালেন, এর জন্য আলাদা সময় শ্রম দেওয়া লাগে না।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, বস্তায় ভরে আদা চাষ রংপুরের মিঠাপুকুর, কাউনিয়া, গংগাচড়ায় কিছু সৌখিন মানুষ করেছেন। এটি একটি বিকল্প পদ্ধতি। যেখানে মাটি ভালো নাই, কিংবা সংকট রয়েছে সেখানে এটি কার্যকর। অনেকে এখন ছাদে বস্তায় ভরে আদা চাষ করছেন। এটি ভালো দিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।