ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ১৮ মে ২০২০

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার,মুন্সীগঞ্জ ॥ দক্ষিনবঙ্গমুখী অব্যাহত জনস্রোত থামাতে অবশেষে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিকেলে ৩টা হতে সকল ধরণের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এ নৌরুটে। এমনকি পন্যবাহী কোন ট্রাকও পারাপার করা হবেনা। তবে ডেথ বডি বা মৃতদেহের কোন গাড়ী আসলে তা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পারাপার করা হতে পারে। বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কথা বলে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে সোমবার বিকেল ৩টা হতে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানের নির্দেশে এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘরমুখো মানুষজনের ঢল এমনই ছিল যে দিন দিন তা জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছিল। যা করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধির আশঙ্কা হয়ে দাড়ায়। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকেল ৩টা হতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। আপাতত কোন প্রকার ফেরিই চলাচল করবেনা। শুধু মাত্র মৃতদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেতে উর্ধতণ কর্তপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পারাপার করা যেতে পারে। এর পূর্বে এ নৌরুটে গত ২৬ মার্চ থেকে লঞ্চ সিবোটসহ সকল ধরণের নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘুর্নিঝড় আম্ফানের কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি সংখ্যা গতকাল সীমিত করা হয়। ৪টি বড় ফেরি দিয়ে সচর রাখা হয় ফেরি সার্ভিস। কিন্তু যাত্রীর ঢল আর ছোট ছোট গাড়ীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট এলাকায় মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট ও যাত্রীদের চাপে রো রো ফেরি বীর শ্রেষ্ট জাহাঙ্গীরকে আনলোড করাতে না পারায় ৩ নং ঘাট দিয়ে কোন যানবাহনও লোড করা যাচ্ছিল না। ফলে এ ঘাটের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। জনসমুদ্রে পরিণত হয় ঘাট এলাকা। যাত্রীরা মহাসড়ক ছেড়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে বিকল্পভাবে ঘাটের ২-১ কি.মি. দূরে নেমে পায়ে হেঁটে ঘাটে এসেছে। এতে করে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সরজমিনে দেখা যায়, গতকাল এ বছরের সবচেয়ে বেশী দক্ষিনবঙ্গমুখী মানুষের ঢল ছিল। তবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট থাকায় যাত্রীদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে চেকপোস্টগুলোতে। অনেক গাড়ীকে আবার সেখান থেকে উল্টোপথে ফিরিয়েও দেয়া হচ্ছে। তারপরেও করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে এসব যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট যানবাহনে করে শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে চলে আসছে গ্রামের ভিতর দিয়ে। এরপর সেখান থেকে ২-১ কিলো মিটার পায়ে হেঁটে অনেক কষ্ট করে ঘাটে এসে পৌঁছছে। এসময় শিশু বৃদ্ধ ও কোলের সন্তানকে নিয়ে মা, আর মাথায় করে ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ নিয়ে ঘাটে যেতে অনেককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। ঘাটে এসেও সেই একই অবস্থা। ফেরি সংকটে শত শত যাত্রীর পল্টুনের কাছে অপেক্ষা। এ সময় মানা হয়নি কোন সামাজিক দূরত্ব। বরং গাদাগাদি করে লাইনে থেকে লাইনে ভেঙে জটলা করে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয় শিমুলিয়া ঘাটে। দেশে যে করোনা মহামারি চলছে, যাত্রীদের দেখলে তা মনে হয়না। তাদের করোনার কোন খেয়ালই নেই। শুধু অপেক্ষা কতক্ষণে ফেরিতে উঠবে। সকালের দিকে যাত্রীর ঢল আরো বেশী ছিল। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রীর ঢল কিছুটা কমলেও চাপ কমেনি ফেরিতে। আবশেষে বাধ্য হয়ে বিকেল ৩টার দিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরিচলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মাওয়া নৌ পুলিশের আইসি পরিদর্শক সিরাজুল কবির জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান-এর কারণে নৌরুটে ফেরি সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়। মাত্র ৪টি ফেরি দিয়ে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল সচল রাখা হয়েছিল। আর ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ থাকায় ফেরির অভাবে ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরে যায়। এতে ওপার(কাঠালবাড়ি) থেকে ফেরি আসার পর উপচে পরা লোকজন আর ছোট ছোট গাড়ীর চাপে ফেরি থেকে যাত্রী ও গাড়ী অফলোড করাতে না পারায় ফেরিতে লোডও করা যাচ্ছিলনা । সকালে রো রো ফেরি বীর শ্রেষ্ট জাহাঙ্গীর এমন পরিস্থিতিতে পড়লে এখানে মারাত্মক পরিস্থিতি ধারণ করে। যাত্রীরাও করোনার কথা ভূলে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করতে থাকে ফেরির জন্য। অবশেষে বিকেল ৩টা হতে কর্তৃপক্ষ ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়।
×