৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

মহাস্থানগড়সহ প্রত্নস্থানে বনভোজন হৈ-হুল্লোড়ে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার মহাস্থানগড়সহ উত্তরাঞ্চলের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে বনভোজন, রান্না, উচ্চ শক্তির শব্দযন্ত্র (লাউড স্পীকার, স্টেরিও সাউন্ড, মাইক) ব্যবহার, অযথা হইহুল্লোরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে মামলা দায়ের করা হবে। তবে পর্যটক ও দর্শনার্থীগণের কোন অসুবিধা হবে না। তাদের নিরাপত্তা দেবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, প্রাচীন পুন্ড্রবর্ধনভুক্তির রাজধানী পুন্ড্রনগরী খ্যাত মহাস্থানগড় ইউনেস্কোর বিশ^ ঐতিহ্যে (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) স্থান পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। প্রতœ নিদর্শন এই এলাকা থেকে প্রতœ জাদুঘর, রেস্ট হাউস ও প্রতœবহির্ভূত অবকাঠোমো অন্যত্র নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধায় মহাস্থানগড় সংলগ্ন করতোয়া নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের সেতু ও আরেকটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ওপর মহলে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির অর্থায়নে মহাস্থানগড়কে পর্যটক আকর্ষণে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের ইতিহাস অনুসন্ধানের কাজ চলমান। বর্তমানে বগুড়ার ভাসুবিহারে প্রতœখনন কাজ চলছে। এদিকে পর্যটক আকর্ষণে অধিকতর ব্যবস্থা নিয়ে পরবর্তী বছর ২০২১ সালকে শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটক বছর ঘোষণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তিনটি স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন বিশ^ ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর সূত্র জানায়, মহাস্থানগরের চারপাশে প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে প্রতœসম্পদ। নওগাঁর পাহাড়পুর বিহার, জগদ্দল বিহার দিনাজপুরের কান্তজিউর মন্দির, নাটোরের রাজবাড়ী, রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়ি, রাজশাহীর বড়কুঠি, পুঠিয়া জমিদার বাড়ি, সিরাজগঞ্জের শাজাহাদপুরে ও নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথের কাছারিবাড়ি বড় প্রতœ এলাকা। দেশের প্রতœ সমৃদ্ধ সম্পদ রক্ষায় দ্য এ্যান্টিকুইটিজ প্রিজার্ভেশন রুলস ১৯৮৬’র ১০ ও ১১ নম্বর বিধি অনুযায়ী প্রতœস্থলে উচ্চ শক্তির

শব্দযন্ত্র ব্যবহার, উপদ্রব, নাচগান, হইহুল্লোরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১২ নম্বর বিধিতে সকল ধরনের ফেরি করা ১৬ ও ১৭ নম্বর বিধিমতে বনভোজন আয়োজন ও রান্নার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই আইন অমান্য করা হলে প্রতœ এলাকায় প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিধান আছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত মহাস্থানগড়ে বনভোজন ও উচ্চ শক্তির শব্দযন্ত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার একটি চিঠি পেয়েছেন। প্রতœ সম্পদ সংরক্ষণে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

২৭/০২/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: