১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইটি ডট কম প্রতিবেদক


সৈয়দ মাহাবুব হাসান

২০০০ সালের দিকে একটা বিদেশী টেলিকম ম্যাগাজিনের জরিপ দেখেছিলাম, বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোন সব থেকে বেশি যে কারণে ব্যবহার হয় তা হলো মোবাইলের স্ক্রিনে ঘড়ি দেখা! অবশ্য তখনকার ইউজারদের দোষই বা দেব কিভাবে, দেড় ইঞ্চি সাদাকালো মনোক্রমিক স্ক্রিনে এর থেকে আনন্দদায়ক আর কিবা করার ছিল।

আজ ১৫ বছর পরে এসে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের শীর্ষে আরোহণ করা মোবাইলফোনগুলোয় করা যায় না এরকম ফিচার খুঁজে বের করাই বরং কঠিন। বাজারের লিস্ট, ক্যালরির হিসাব, টিভির রিমোট, মশামাছি তাড়ানো, বিয়েবাড়ির ফটোগ্রাফি কিংবা পাশের বাড়ির বারান্দার দূরত্ব হিসাব করার মতো সবই করা যায় এখন মোবাইলফোন দিয়ে। (শুনেছি বাজারে আসছে প্রোমাগ্যানেট নাম নামক মোবাইলফোন যাতে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে দাড়ি-গোঁফও শেভ করা যাবে!) এই মুহূর্তে এ্যান্ড্রয়েড এবং এ্যাপেল স্টোর মিলিয়ে বাজারে মোবাইল এ্যাপ্লিকেশনের সংখ্যা প্রায় ২৯ লাখ, যার সঙ্গে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে অন্তত কয়েক শ’ নতুন এ্যাপ। সমস্যা হলো এই লাখখানেক মোবাইল এ্যাপ্লিকেশনের ভেতর কাজের থেকে অকাজের জিনিস বহুগুণ। এই অকাজের এ্যাপ্লিকেশনের ভিড়ে চমৎকার কিছু এ্যাপ্লিকেশন আছে যেগুলো খুঁজে বের করতে পারলে দৈনন্দিন জীবনের জটিল সব কাজ হবে আশ্চর্য রকমের সহজ। এরকমই ৮টি এ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে আজকে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব।

ক্যাম স্ক্যানার

ভেবে দেখুন তো এরকম সমস্যায় কখনও পড়েছেন কিনা, হঠাৎ করেই কোন একদিন রাতে খেয়াল করলেন আজকেই অনলাইনে কোন একজায়গায় রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন, কিন্তু আপনার কাছে স্ক্যান করা পাসপোর্ট সাইজ ছবি নাই কিংবা এডুকেশনাল সার্টিফিকেটগুলো স্ক্যান করা নাই। আমার মতো ভুলো মনের মানুষ হলে অবশ্যই বহুবার পড়েছেন। এসব সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান হলো এই ক্যাম স্ক্যানার এ্যাপ্লিকেশনটি। এর সাহায্যে আপনার মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করা যাবে স্ক্যানারের মতো করে। আপনার ফোনের ক্যামেরা যত খারাপই হোক না কেন কিংবা আপনার ছবি তোলার হাত যতই খারাপ হোক না কেন এ্যাপ্লিকেশনটি স্ক্যানকৃত ডকুমেন্ট বা ছবি নিজে থেকেই রিসাইজ করে নেবে। স্ক্যান করার পর আপনি খুশিমতো ডকুমেন্টটি এডিট করতে পারবেন, ক্লাউডে সেভ করতে পারবেন, ই-মেইল করতে পারবেন কিংবা সরাসরি প্রিন্ট করতে পারবেন।

গুগলের টপ ডেভেলপার সারিতে স্থান করে নেয়া এই এ্যাপটি এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটিবার ডাউনলোড করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ২০০টি দেশে।

শেয়ারিট

বাজারে আসার পর থেকেই নিজেদের আভিজাত্য বজায় রাখার জন্য এ্যাপল যেই কাজটি করে আসছিল তা হলো ‘গরিবের ফোন’ এ্যান্ড্রয়েডের স্পর্শ থেকে তার ইউজারদের দূরে রাখা। এ্যাপল ডিভাইস থেকে অন্য একটি এ্যাপল ডিভাইস ছাড়া কোন ডকুমেন্ট, ছবি, কন্টাক্ট কিংবা অডিও শেয়ার করা যেত না। কিন্তু এ্যাপ ডেভেলপারদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার কারণে এ্যাপলের কপালে এই সুখ বেশিদিন সইল না। ক্রস-প্ল্যাটফর্ম ডাটা ট্রান্সফার এখন আর স্বপ্ন নয়।

ক্রস-প্ল্যাটফরম ডাটা ট্রান্সফারের জন্য অসাধারণ একটি এ্যাপ্লিকেশন এই শেয়ারিট। এর মাধ্যমে নিমিষেই যে কোন ডিভাইসে ফাইল শেয়ার করা যায়। ফাইল শেয়ারের জন্য দুটি ডিভাইসের মধ্যে ওআইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই এ্যাপটি। যার ফলে ডাটা ট্রান্সফার রেট প্রায় ২০ মেগাবিট/সেকেন্ড যা ব্লুটুথের গতির প্রায় ২০০ গুণ। এর মাধ্যমে যে শুধু ডকুমেন্ট, ছবি, কন্টাক্ট, অডিও ফাইল নয় বরং ডাউনলোডকৃত বিভিন্ন এ্যাপও শেয়ার করা যায়। জনপ্রিয় এই এ্যাপটি এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটিবার ডাউনলোড করা হয়েছে।

সাউন্ডহাউন্ড

ধরুন প্রেমিকার হাত ধরে আবেগঘন মুহূর্তে রেস্টুরেন্টে বসে আছেন কিংবা ঈদের শপিংয়ের জন্য সারাদিন দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বাসায় এসে হঠাৎই খেয়াল করলেন সেই রেস্টুরেন্টে কিংবা জুতার দোকানে অথবা রাস্তায় জ্যামে বসে ঘামতে ঘামতে পাশের গাড়িতে বাজতে থাকা একটা গান আপনার মাথায় ঢুকে গেছে। মাথার ভেতর ক্রমাগত গানের কয়েকটা লাইন বেজে চলেছে। এমন অবস্থা যে গানটা আরেকবার না শুনতে পাড়লে যেন দম বন্ধ হয়ে আসবে। চিন্তার কিছু নাই, সাউন্ডহাউন্ড এ্যাপটি এখনই ডাউনলোড করে আপনার হেঁড়ে গলায় গানের ২ লাইন গেয়ে ফেলুন, গানের কথা মনে না থাকলে শুধু ‘নানা-নানা’ করে সুর করুন। আপনাকে অবাক করে দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে গানটি খুঁজে বের করে দিবে এ্যাপটি। পেয়ে যাবেন গানের নাম, এ্যালবামের নাম, ভিডিও এবং ডাউনলোড লিঙ্ক। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? এখনই চেষ্টা করে দেখুন।

ড্রপবক্স

বাসার কম্পিউটারে হার্ডডিস্ক ক্রাশ করে কিংবা মোবাইলফোন হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট বা মূল্যবান ছবি হারিয়ে ফেলেননি জীবনে একবারও, এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পাওয়া যাচ্ছে ড্রপবক্স এ্যাপ্লিকেশান্টি। ইন্সটল করেই ফ্রি পাচ্ছেন ৫ গিগাবাইট স্পেস। আপনার মোবাইল ফোনটি দিয়ে যে কোন ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে তা ড্রপবক্সে জমা হয়ে যাবে। পরে আপনি যে কোন সময় যে কোন ডিভাইস (ফোন, ল্যাপ্টপ, ট্যাব) দিয়ে এই ছবি নামিয়ে দেখতে পাড়বেন। নিরাপদে থাকার জন্য সব গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র স্ক্যান করে ড্রপবক্সে জমা রাখুন, নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই আপানার এ্যাকাইন্ট ছাড়া কেউ এই ডকুমেন্ট দেখতে পারবে না, আর ফোন যতবার খুশি হারিয়ে যাক কিংবা ল্যাপ্টপে আগুন লাগুক আপনার ডকুমেন্ট ইন্টারনেট ক্লাউডে নিরাপদ থাকবে।

ক্যামকার্ড

দেখা হলেই বন্ধুবান্ধব নতুন চাকরিতে পাওয়া ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দেয়, দোকান থেকে বের হওয়াার সময় দোকানি একগাল হেসে দোকানের একটা কার্ড ধরিয়ে। বহুদিনের অভ্যাসের কারণে কিংবা ভদ্রতা করে কার্ডটি ফেলে দিতে পারেন না, মনে হয় যদি কোনদিন দরকার হয় তাই মানিব্যাগে ভরে রাখেন। দিনে দিনে মানিব্যাগটি এমনই ঢাউস সাইজ হয়েছে যে এখন বসতে গেলে বামে কাত হয়ে বসতে হয়। আর কষ্ট করতে হবে না, আজই ক্যামকার্ড এ্যাপটি ইন্সটল করে কার্ডের জঞ্জাল ফেলে দিয়ে একটু আরাম করে বসুন। আশ্চর্য এই এ্যাপটি দিয়ে যে কোন ভিজিটিং কার্ডের ছবি তুললে তা নিজে থেকেই নাম-ঠিকানা ই-মেইল এ্যাড্রেস ফোনের কন্টাক্টলিস্টে জমা করে রাখে। এমনকি কোম্পানির নাম, লোগো পর্যন্ত নিজে নিজে চিনে ফেলে এ্যাপটি। কার্ডে ঠিকানা লেখা থাকলে তা গুগল ম্যাপ থেকে তাও খুঁজে বের করে দেবে আপনাকে।

কিপার

আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চই আপনি চার-পাঁচটা ই-মেইল এ্যাকাউন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং, ওয়েবসাইটের মেম্বারশিপ পাসওয়ার্ড, ফেসবুক, স্কাইপের পাসওয়ার্ড মুখস্ত করে রাখেন অথবা কাগজে পাসওয়ার্ডগুলো লিখে যতœ করে রাখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেন। এই ঝামেলা এড়াতে চাইলে আপনার জন্য আছে কাজের একটা এ্যাপ্লিকেশন, কিপার। ফোনে এই এ্যাপটি ইন্সটল করা থাকলে আপনার শুধুমাত্র এই একটি পাসওয়ার্ড মুখস্ত রাখতে হবে, বাকি এ্যাপটি আপনার হয়ে মুখস্থ করে রাখবে। যে কোন জায়গায় লগইন করতে গেলেই কিপার আইকনটি দেখা দেবে, সেখানে প্রেস করলেই সেটা নিজে থেকে পাসওয়ার্ডটি টাইপ করে দেবে। আর যদি কিপারের পাসওয়ার্ডটিই ভুলে যান তাহলেও চিন্তা নাই, সিকিউরিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সহজেই তা উদ্ধার করে নিতে পাড়বেন।

প্রে এ্যান্টি থেফ্ট

নাম শুনেই নিশ্চই বুঝে ফেলেছেন এটি একটি সিকিউরিটি এ্যাপ। আপনার ফোনটি হারিয়ে গেলে প্রে এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গুগল ম্যাপে ফোনটির অবস্থান বের করে ফেলতে পাড়বেন।

এছাড়াও ফোনটি লক করে দিতে পাড়বেন যে কোন জায়গায় বসে, কিংবা ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে দেখে নিতে পাড়বেন কার হাতে পড়েছে আপনার ফোনটি। সবচেয়ে মজার ফিচারটি হলো ফোনটি খোয়া যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি যে কোন ডাইভাইস থেকে একটা এ্যালার্ম এ্যাক্টিভেট করে দিতে পারেন যা আপনার সাইলেন্ট করে রাখা ফোনেও তার স্বরে বাজতে থাকবে ব্যাটারি শেষ হওয়া পর্যন্ত।