১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বেলাল খানের এ্যালবাম ‘আর একটিবার’


খুব ভাল আছি। আমি সব সময় ভাল থাকার চেষ্টা করি। তার স্বভাবসুলভ সুন্দর হাসি হেসে আমাকে জানালেন। এরই মধ্যে নিজের কণ্ঠে ও সুরে বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন বেলাল খান। বিশেষ করে তার প্রথম একক ‘আলাপন’ ছিল ব্যবসায়িকভাবে সফল একটি এ্যালবাম। তবে প্লেব্যাক, অন্যের এ্যালবাম ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নতুন এককের কাজ আস্তে ধীরেই করেছেন তিনি। এবার রোজার ঈদ উপলক্ষেই এ্যালবামটি নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। এ্যালবামের নাম রেখেছেন ‘আর একটিবার’। লেজারভিশনের ব্যানারে কয়েক দিনের মধ্যে এ্যালবামটি প্রকাশ পাচ্ছে। তার এ এ্যালবামে গান থাকছে মোট ৮টি। গান লিখেছেন জুলফিকার রাসেল, জাহিদ আকবর, রবিউল ইসলাম জীবন, সোমেশ্বর অলি, মাহমুদ জুয়েল, ইকবাল খন্দকার, জীবন মাহমুদ ও আবদুল কাদের মুন্না। এ্যালবামের সব গানের সুর করেছেন বেলাল খান। সঙ্গীতায়োজন করেছেন মুশফিক লিটু, জেকে, ইমন চৌধুরী (চিরকুট) ও প্রীতম হাসান। তার সঙ্গে এ্যালবামের দুটি দ্বৈতগানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবা ও উপমা। এছাড়া ‘দোজখ’ শিরোনামের গানটি তার সঙ্গে গেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ শোয়েব। এ্যালবামের গানগুলোর শিরোনাম হলো- বাজি, দোজখ, আর একটিবার, নিশি করি ভোর, একটা বিকাল, যদি একটা দিন, নাছোড়বান্দা ও মেঘলা দুপুর। এর মধ্যে ‘একটি বিকাল’ গানটির ডিজে ভার্সন তৈরি করেছেন ডিজে রাহাত। আর কয়েকদিনের মধ্যে ‘নিশি করি ভোর’-এর ভিডিও প্রকাশ করবেন বেলাল। এর পরপরই আসবে ‘বাজি’ ও ‘দোজখ’ গানের মিউজিক ভিডিও। এ বিষয়ে বেলাল খান বলেন, তিন বছর পর এ্যালবাম নিয়ে আসছি। অনেক পরিকল্পনা করে গানগুলো করেছি। আর এবার বেশিরভাগ গানের ভিডিও করার ইচ্ছা রয়েছে। আশা করছি এ্যালবামের গানগুলো ভাল লাগবে সবার। এদিকে বেলালের ছোট বেলার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি টাঙ্গাইলের ছেলে আমার ছোট বেলাটা কেটেছে চমৎকার পরিবেশে। আমার ছোট বেলায় এমন হতো আমি আমার পাঠ্যবইযের কবিতাগুলো সুর করে পড়তাম। আমাদের গ্রামে যেখানে গানের আসর হতো আমি রাত কিংবা দিন হোক সেথানে ছুটে যেতাম। আমি ছোট বেলা থেকে সব সময় সুরে ছিলাম। আমার গানের প্রতি সব সময় অন্যরকম ভাল লাগা ছিল। ছোট বেলার স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছোট বেলা থেকেই আমি গান করতাম। খুব ছোট বেলায় আমার গান শুনে অনেকে খুব পছন্দ করতেন। আমার বন্ধুবান্ধব ও কাছের মানুষদের উৎসাহের কারণে আমার গানের প্রতি লেগে থাকা ছিল। খুব ছোট বেলায় থেকেই আমার বিশ্বাস ছিল আমি বড় হয়ে গান করব। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি গানটাকেই আমি আমার সঙ্গী করে নিয়েছিলাম। তিনি ভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে সব সময় গান দিয়ে আড্ডা জমাতেন। বন্ধুরা মিলে গান করতেন। একদিন গানের আড্ডার মাঝে পরিচয় হয় পরিচালক মঈন বিশ্বাসের সঙ্গে। তখন তিনি তাকে বললেন আমার ছবির জন্য একটা গান লাগবে আপনি করতে পারেন। তখন তিনি এক বন্ধুর প্রেমের গল্প শুনে প্রথম দুটি লাইন সুর করে ফেলেন ‘পাগল তোর জন্যরে পাগল এ মন’ এভাবেই শুরু। আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি বর্তমান সময়ে ব্যস্ততম সুরকার ও শিল্পী তিনি। বর্তমান সময়ে এখন নিয়মিতভাবে সিনেমায় প্লেব্যাক করছেন। সিনেমায় গানের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে জিঙ্গেলের কাজ করছেন। এছাড়া বর্তমানে স্টেজ, টিভি লাইভ শো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আপনি গান করার পাশাপাশি সুরকার হিসেবে কাজ করছেন কেমন লাগছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার গান সুর করার প্রতি একটা ভাল লাগা ছিল। আমার জীবনের প্রথম গানটা ছিল আমর সুর করা। শ্রোতারা গানের সুরটা ভালভাবে নিয়েছিল এবং সেই গানের জন্যই আমি আজকের বেলাল খান। আমি অনেক এ্যালবামের জন্য গানের সুর করছি ও নিয়মিতভাবে করছি। আসলে আমি গান করার পাশাপাশি একজন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালনার কাজও করতে চাই। আপনি কোন মাধ্যমে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন? বেলাল খান হেসে উত্তরে জানান, একজন সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে সব মাধ্যমেই কাজ করতে ভাল লাগে। তবে আমি বলব আমার এক মাধ্যমের চেয়ে অন্য মাধ্যমে একটু আলাদা লাগে। অডিও এ্যালবামে একটু নিজের মতো করে সময় নিয়ে করা যায়। স্টেজে দর্শকদের অনুভূতি সরাসরি বুঝা যায়। সিনেমায় কাজ করতে আমার বেশি ভাল লাগে কারণ এখানে কাজটা করতে হয় অনুভূতির ওপর। বেলাল খান গান নিয়ে তার স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি গান নিয়ে সারাক্ষণ নানা স্বপ্ন দেখি। শ্রোতারা আমার যে ধরনের গান শুনে আমাকে বেলাল খান বানিয়েছে সে সব গান আরও বেশি বেশি করতে চাই। আমি ভালমানের কিছু কাজ করতে চাই। শ্রোতারা যেন কাজগুলো শুনে বলে এটা আমি করেছি। আর আমার স্বপ্ন হলো সবার ভালবাসা নিয়ে সারা জীবন কিছু ভাল গান করে যেতে চাই। উল্লেখ্য, তার সলো প্রথম এ্যালবাম বাজারে আসে ‘আলাপন’ ২০১১ সালে লেজার ভিশনের ব্যনারে। এছাড়া তার কয়েকটি মিশ্র এ্যালবামও বাজারে আছে।