২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

জীবনের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই


ছোটবেলার স্বপ্নের কথা জানতে চাই-

একেবারে ছোটবেলার বথা বলতে পারছি না। তবে যখন একটু বড় হলাম, বই পড়তে শিখলাম তখন ভাবতাম এই যে বইগুলো পড়ছি যারা লিখেছেন তারা নিশ্চয়ই বড় মানুষ। তারা কেমন করে এত সুন্দর লিখতে পারেন? আমিও কি এমনভাবে লিখতে পারব? এই লিখতে পারার স্বপ্নটা মনের মধ্যে ছিল।

যে বই আপনার বার বার পড়তে ইচ্ছে করে?

আসলে চিরকালের জন্য একটা বই ভালো লাগে না। বার বার পড়ার ব্যাপারটা নির্ভর করে সম্পূর্ণ মনমেজাজের ওপর। যে বই একসময় খুব ভালো লেগেছে পরবর্তী সময়ে সে বই আর ভালো না-ও লাগতে পারে।

কবি-কথাসাহিত্যিক না-হলে কী হতেন?

এই পড়াশোনার মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতাম। অধ্যাপনাতেই জীবন দিতাম কাটিয়ে। বিশ্বের সব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন পড়িয়েছি; সেটিই নিয়মিত করে যেতাম।

নিজের যে লেখাটি বেশি আনন্দ দিয়েছে?

আমার সব লেখাই যেহেতু আমি নিজেই লিখেছি (হা হা হা ) সেহেতু সব লেখায়ই আমার কাছে আনন্দদায়ক। যে লেখাই লিখি তা স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গেই লিখি। সে কারণেই প্রতিটি লেখার সঙ্গেই আমার আনন্দ জড়িয়ে আছে।

নিজের যে লেখাটি বিষণœ করে?

সে অবস্থা কখনও সৃষ্টি হয়নি। তবে বিষণœতা থেকে আমার অনেক লেখা সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি অনেকবার বিষণœ হয়ে পড়েছি। সেই বিষণœতাই আমাকে আরও লিখতে, কাজ করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, মৌলবাদ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি ক্রোধান্বিত হয়েছি। এখনও সেই ক্রোধ আমার মধ্যে কাজ করে।

জীবনে প্রথম ভালোবাসার কথা জানতে চাইÑ

হা হা হা, আসলে আমার জীবনে ভালোবাসা এসেছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে। এই স্কুল জীবনে ছিল একরকম। কলেজে যখন পা দিলাম তখন বদলে গেল। আবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সেই ভালোবাসা দেখা দিলো আরেকভাবে। কর্মজীবনে সেটার রূপ দেখলাম অন্যভাবে। জীবনের একেক অধ্যায়ে ভালোবাসা এসেছে একেকভাবে।

যা সবচেয়ে অপছন্দ?

মৌলবাদের আস্ফালন দেখব না বলে দেশটা স্বাধীন করলাম। সেই স্বাধীন দেশে মৌলবাদকে দেখতে হচ্ছে, তারা দেশ-জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ বিষয়টি আমার অপছন্দের। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হলেও পাকিস্তান আমলে কিন্তু মৌলবাদের এমন আস্ফালন আমরা দেখিনি। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে এই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

রবীন্দ্রনাথ আপনার কাছে...

রবীন্দ্রনাথ আমার জীবনে এক অনিবার্য নাম। তার প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগই নেই।

একাকী থাকলে যে গানটি গুনগুনিয়ে গেয়ে ওঠেন...

আমি গান করি না, তবে গান আমার ভীষণ প্রিয়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ডিএল রায়, লালন, হাসন রাজার গান আমার বেশি ভালো লাগে। আজ সকালে যখন (আলাপনের দিন ছিল বৃষ্টিময়) বৃষ্টি হচ্ছিল তখন আনমনে গেয়ে উঠেছিলাম রবীন্দ্রনাথের ‘তুমি ডাক দিয়েছ কোন সকালে কেউ তা জানে না’ গানটি।

নদীর কাছে গেলে আপনার কেমন লাগে?

১৯৪৬ সালে ঢাকায় এসেছি, তখন যে বুড়িগঙ্গা দেখেছি এখন সেই নদী কোথায়? মোঘল, ইংরেজ কিংবা পাকিস্তানিরা নদীকে হত্যা করেনি অথচ আমরা নদীকে মেরে ফেললাম! ঢাকার চারপাশে যে নদীগুলো ছিল তার অস্তিত্ব এখন বিপন্ন। তিস্তাকে নিয়ে কম রাজনীতি হয়নি। তিস্তাপাড়ের মানুষকে অনেকে মানুষই ভাবেনি। সেই তিস্তাকেও হত্যা করা হয়েছে। নদী দখল করে ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি হচ্ছে। এসব লোভী মানুষের কা-। মানুষকে কখনও লোভী হতে নেই। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে কোনো নদী থাকবে কিনা সন্দেহ। নদীর কাছে নয়, ওর কথা ভাবলেই বিষণœ হয়ে পড়ি।

যে স্বপ্নটি আপনার পূরণ হয়নি?

আমার কোনো স্বপ্ন অপূর্ণ নেই। জীবন উপভোগ করেছি। দায়িত্ব নিয়েই বলছি, জীবনের বিরুদ্ধে আমার কোনো ক্ষোভ নেই।

ঘুম থেকে উঠে যদি শোনেন সব যুদ্ধাপরাধীর একযোগে মৃত্যুদ- কার্যকর হয়ে গেছে...

যারা যুদ্ধাপরাধী তারা পাপী। আমৃত্যু তারা পাপ করে গেছে। তাদের যদি একযোগে মৃত্যুদ- কার্যকর হয় তবে অবশ্যই প্রীত হবো।

পৃথিবীর বাইরে কোনো বাসযোগ্য গ্রহে কিছুদিনের জন্য বসবাসের সুযোগ পেলে সঙ্গে কোন তিনটি জিনিস নেবেন?

এমন সুযোগ যদি আসে তবে আমি খুশি হবো। তবে পৃথিবীকে ভালোবাসি, ভালোবাসব। পৃথিবী আছে বলেই ভিনগ্রহের কথা আসছে। পৃথিবীকে অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। সেই গ্রহে গেলে সঙ্গে নেব বইপত্র, আনন্দের জন্য দুই নাতি আর ঠা-া পানি হা হা হা...

কথোপকথন : সিরাজুল এহসান