২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কবি আবুল হোসেন স্মরণাঞ্জলি


প্রচারপ্রিয়তা বা খ্যাতির জন্য উন্মাদগ্রস্তের এই দেশে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। নীরবে-নিভৃতে সাহিত্য সাধনা করে গেছেন। বাংলাদেশের কবিতা যখন নতুন রূপ নিতে শুরু করেছে, সাতচল্লিশের পর এই ভূখ-ে আধুনিকতার সবে সূচনা চলছে, সে সময় আবুল হোসেন আজকের বাংলাদেশে, তৎকালীন পূর্ব বাংলায় প্রধান আধুনিক কবি হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, শামসুর রাহমান, শহীদ কাদরি, সৈয়দ শামসুল হকদের সবে উন্মেষ ঘটছে এমন একটি কালপর্যায়ে এই ঢাকায় তিনি হয়ে ওঠেন নবীনদের স্বজন, কাব্য-অভিভাবক, সহিষ্ণু শিক্ষক; তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে কবিতার নতুন ফসল। সে বিচারে তাঁর ভূমিকা ঐতিহাসিক তো বটেই। আজকের তরুণ কবিদের হয়ত কোন অগ্রজ বন্ধু, কবিতার সাথী বা অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের ভাবেন একেকজন ঈশ্বর। এখন চারপাশে হাত পাতলেই অঢেল কাব্য আলোচনা, বাঙালী কবিসমাজের বাইরে ইউরোপ-আমেরিকার বিরাট কাব্যভা-ার। আজ থেকে সত্তর-পঁচাত্তর বছর আগের কাব্যচারণভূমি এবং কবিজীবন বেছে নিয়ে দিশা খুঁজে বেড়ানো তরুণদের জীবনধারা আমাদের পক্ষে যথার্থ বিচারে হয়ত বুঝে নেয়াও অসম্ভব। সে সময় আবুল হোসেনদের মতো আধুনিক, কাব্যরসিক, কবিতাপ-িত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখেন। গত বছর জুনের ২৯ তারিখে কবি আবুল হোসেনের প্রয়াণের পর তাঁর সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সৈয়দ শামসুল হক আমাদের সামনে উন্মোচন করেছিলেন সে ইতিহাসের কিছুটা অধ্যায়। লিখেছিলেন, ‘কবিতার অতিরেকে তাঁর স্নেহ এবং আমাদের পঞ্চাশেরÑ বিশেষ করে শামসুর রাহমান ও আমার হয়ে উঠতে থাকার কালে তাঁর উপদেশ, পরামর্শ আর প্রবর্তনা পেয়ে যে কলম-সক্ষম হয়ে উঠছিলাম আমরা, সেই তাঁর আজিমপুর কলোনির ফ্ল্যাটে প্রতি সপ্তাহে আমাদের যাওয়া, সেই তাঁর সম্মুখে আমাদের সদ্য লেখা কবিতা পড়ে ওঠা, আর সেই সহযোগে অনুপম জলখাবারÑ তখন পর্যন্ত অবিবাহিত তিনিÑ তাঁর হাতে গ্রহণ করা, তাঁর লাল ছোট্ট ফ্রিজের সেই শীতল পানিÑ আমাদের প্রথম ফ্রিজ-পানি পান করে ওঠা, যুঁইগন্ধি সোনালি চা কাপের পর কাপ পান, আমাদের মতো হা-ঘরে যুবক ও যশঃপ্রার্থী তরুণদের জন্য সে ছিল স্বর্গীয় সন্ধ্যা। কেবল কি তাই? ততধিক আমাদের কবিতা সম্পর্কে তাঁর আলোচনা, আধুনিকতা ও সমসাময়িকতার তাঁর সেই পাঠদান, মাঝেমধ্যেই নির্মম কণ্ঠে তাঁর বলা যে, ওখানে তুমি অতিকথনের দোষ ঘটিয়েছ, এখানে তুমি চিত্রকল্প উদ্ভাবনে একটি কবিতায় একাধিক ক্ষেত্র থেকে ছবি তুলে এনে বাহুল্যমুক্ত রাখতে পারনি রচনাকে, আর এই যে তাঁর অবিরাম শাসন যে কাব্যভাষাÑ এটি যতটা মুখের কাছাকাছি হয় ততই তুমি সিদ্ধির পথে উঠে আসবে; ভুলতে পারি না।’

কবি আবুল হোসেনের জন্ম ১৯২২ সালে। তিনি আমাদের প্রথম আধুনিক কবি। আমাদের বলতে সাতচল্লিশোত্তর বাংলাদেশের মানুষের। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কবিতার বই নববসন্ত-ই আমাদের প্রথম আধুনিক কবিতাগ্রন্থ। সত্তর বছরেরও বেশি সময় ধরে কবিতা লিখে গেছেন। কবিতা অনুবাদও করেছেন ঢের। সান্নিধ্য লাভ করেছেন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দের। সরকারী চাকুরে ছিলেন, অবসর নেন যুগ্ম-সচিব হিসেবে। কবি আবুল হোসেনের গদ্যও উচ্চমানের। কবিতার মতো সেসবও অতিকথনমুক্ত, নির্ভার এবং স্বচ্ছ সংবেদী। চার খ-ে প্রকাশিত তাঁর আত্মস্মৃতি কালের অনবদ্য দলিল। আমার এই ছোট ভুবন (২০০৩), আর এক ভুবন (২০০৫), কালের খাতায় (২০০৮), স্বপ্ন ভঙ্গের পালা (২০০৯), অপরাহ্নের স্মৃতি (২০১৪)। তাঁর যাপিত জীবনের এবং ইতিহাসের অনুপম সাক্ষ্য হয়ে উঠেছে এই বইগুলো। সমকালীন কবি-সাহিত্যিকদের যে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা তার পরিচয় এই স্মৃতিকথাগুলোয় পাওয়া যাবে।

দীর্ঘায়ু পেয়েছিলেন কবি আবুল হোসেন, নব্বই পেরোন তিনি। বাঙালী আর কোন কবি কি এতটা আয়ু পান? শেষের দু-তিনটা বছর প্রায় কিছু লিখে ওঠা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চিরকালই অবশ্য কম লিখেছেন। এক লেখা বার বার করে কাটাছেঁড়া করেছেন। তাই তাঁর অনেক কবিতারই দু-তিনটা ভার্সন পাওয়া যাবে। এমনকি বই হয়ে বেরোনোর পরও সেখান থেকে কোন কোন কবিতার ওপর কলম চালিয়েছেন। এমনই শুদ্ধতাবাদী ছিলেন তিনি। শুধু কি কবিতার বেলা? লিখিত যে ক’টি সাক্ষাতকার দিয়েছেন সেই বক্তব্যের সম্পাদনা করাতেও তিনি মনোযোগ দিতেন। এ প্রবণতা বুঝিয়ে দেয় শব্দকে আরও শাণিত ও যথাযথ করার দিকেই ছিল তাঁর দৃষ্টি। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, শওকত ওসমানের সমসাময়িক এই কবি সান্নিধ্যলাভ করেছেন বাংলা ভাষার বহু কালজয়ী লেখকের। চল্লিশের দশকে তাঁর কাব্যযাত্রার সূচনাকাল থেকেই তিনি ভিন্ন পথের পথিক। কবিতাকে তিনি শিক্ষিত নাগরিক কথ্যভাষার কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। কবিতা কত সহজ, কাব্যিপনাবর্জিত, রহস্যরহিত, সাদাসিধা হতে পারে তারই সাধনা করে গেছেন এই কবি। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত নববসন্ত (দ্বিতীয় সংস্করণ বেরিয়েছিল ১৯৭৭ সালে) কাব্যের পর তিন দশক বাদে তাঁর দ্বিতীয় কবিতার বই বিরস সংলাপ বেরোয় ১৯৬৯ সালে। তৃতীয় কাব্য প্রকাশেও অনেকটা সময় নেন, তেরো বছর। বেরোয় ‘হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস’ (১৯৮২), এরপর আবার অনেকটা বিরতি। পনেরো বছর পর বেরোয় তাঁর পঞ্চম কবিতাগ্রন্থ ‘এখনও সময় আছে’ (১৯৯৭); পরবর্তী দুটি বই ‘আর কিসের অপেক্ষা’ (২০০০) এবং ‘রাজকাহিনী’ (২০০৪) কিছুটা কাছাকাছি সময়ে প্রকাশিত হয়। এরপর আবদুল মান্নান সৈয়দ ২০০৭ সালে আবুল হোসেনের ব্যঙ্গ কবিতা নামের একটি কবিতা সঙ্কলন সম্পাদনা করে তাঁর কবিতার আরেকটি ধারার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছিলেন। ‘যাবার আগে’ তাঁর সর্বশেষ কবিতাগ্রন্থ, প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ সালে। কবির জীবনসায়াহ্নের প্রগাঢ় উচ্চারণ সংবেদনশীল মনকে সিক্ত করে যাবে; সত্যের স্পষ্ট ঋজু অবয়ব এবং কল্পনাপ্রতিভার গভীরতর ইশারা জানিয়ে যাবে এই বদ্বীপের স্বকীয় কবিকণ্ঠস্বর। আজরাইলের ডানাকে থামিয়ে দিয়ে কোন কবি আর যাওয়ার আগে জানিয়ে যেতে পারেন এমন নিরাসক্তভাবে মানবজীবনের সারসত্য! বিদায়ের এক দশক আগে প্রকাশিত কবি আবুল হোসেনের কাব্যগ্রন্থ ‘রাজকাহিনী’ নিয়ে কিছু কথা বলার আছে। এ গ্রন্থের কবিতাগুলো প্রবলভাবে ধারণ করে আছে কবির চেনা বৈশিষ্ট্যই। তবে খেয়াল করার দিক হলো, বিষয় হিসেবে স্বয়ং কবি এর আগে অন্য কোন কাব্যে এতখানি প্রাধান্য বিস্তার করেননি। আয়ুর প্রান্তসীমায় পৌঁছে কবি যেন ফিরে তাকাচ্ছেন পেছনের দিনগুলোর দিকে। দু-একটি রচনায় তো ফিরে গেছেন পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেকার দিনে; তৎকালীন কাব্য-পরিবেশের স্মৃতিচারণ করেছেন। আরও লক্ষণীয় হলো, বার বার মৃত্যুর কামড়ের স্বাদ গ্রহণ করেও প্রত্যাবর্তনের আকস্মিকতার কথা বলেছেন, খুঁজেছেন সেই প্রত্যাবর্তনের অর্থ। জীবনের বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হয়ে বিনিদ্র রাত্রিযাপনের যন্ত্রণাকে দোজখের দহনতুল্য বলে অভিহিত করেছেন এবং পুনরায় প্রকাশ করেছেন নিজের কবিতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনাচিন্তা রীতিনীতির কথা। এক অর্থে এই গ্রন্থে কবি আত্মআলোচনা করেছেন; আপন আরশিতে বার বার নিজ অবয়ব দেখেছেন; কথা বলেছেন নিজেরই সঙ্গে। এই প্রবণতার ভেতর দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে একজন সহৃদয় প্রাজ্ঞ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব; সেই সঙ্গে প্রেমিক মনের আর্তি ও আকুলতা। তবে কোথাও কোন অসংযমী প্রকাশ নেই, অপরিমিত আচরণ নেই। সামান্যতম উচ্ছ্বাস নেই, ভাবাবেগ তো নয়ই। আছে সঙ্গত সংহত আবেগ।

প্রতিটি কাব্যেই কবি আবুল হোসেন দেশপ্রেমের পরিচয় রেখেছেন নানাভাবে, এমনকি দেশের দুর্দশার চিত্র এঁকেও। ‘দেশকাল’ কবিতায় বলছেন : যায় যায়, সব যায়Ñ/ ধর্ম, সত্য, নীতির কঙ্কাল আজ ধুলোয় লুটোয়।/ মানুষের বেশে ঘুরে বেড়ায় হায়েনা সারা দেশে/ দারুণ দাপটে। ‘রাজকাহিনী’ গ্রন্থটি প্রকাশের পর টেংরাটিলার গ্যাসকূপ বিপর্যয়ের ভেতর পড়ে। তার আগুনের উচ্চতা ৫০০ ফুট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ এক ভয়াবহ জাতীয় বিপর্যয় এবং অবশ্যই মানবিক বিপর্যয়ও। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি কবি আবুল হোসেন ‘তারা ফিরে আসে’ কবিতায় ‘অন্য লেবাসে এশিয়া আফ্রিকায় হাভাতে লুটেরা তেল আর গ্যাসের ব্যাপারীদের ফিরে আসার’ কথা বলছেন। ওই কাব্যের আরেকটি প্রধান বিষয় হচ্ছে ভোগসর্বস্বতা ও অপক্ষমতার দাপটের বিপরীতে সাহসী সুন্দরের বিদ্রƒপ এবং তির্যকতা; গ্রন্থের নামকরণের নেপথ্যেও রয়েছে এই বিষয়টি। কোন বৈপ্লবিক বাণী বা সেøাগান অনুপস্থিত এখানে; আছে শব্দের চাবুক, স্বরের দৃঢ়তা, বাচনের বিশিষ্টতা। ‘তুমি ও আমি’, ‘রাজাবাবা’, ‘রাজকাহিনী’, ‘শেষ ফায়সালা’Ñ এই দলভুক্ত কবিতা। ‘তুমি ও আমি’ এমন নামে রচিত কবিতার বিষয় নর-নারী অর্থাৎ প্রেমিক-প্রেমিকা নয়Ñ এটাই প্রথম চমক। এলিট ক্লাসের একজন কেউকেটা ও একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনচরিত সহজ ও অল্প কথায় এই কবিতায় উপস্থাপিত। ‘তুমি ও আমি’ কবিতাটিতে ছন্দের কাজও আলাদাভাবে নজর কাড়ার মতো। এটি সনাতন স্বরবৃত্তে নাকি নিরীক্ষাধর্মী মাত্রাবৃত্তে লেখা সেই ধাঁধায় পড়ে যাবেন পাঠক।

ছন্দ নিয়ে সব সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন কবি। কবিতার আঙ্গিক সংগঠনের ক্ষেত্রে তিনি পরীক্ষা করেছেন ছন্দ নিয়ে, অন্ত্যমিলে এনেছেন অভিনবত্ব; অন্ত্যমিলে, মধ্যমিলে তাঁর কারুকাজ লক্ষণীয়। কবি আবুল হোসেন শিল্পের যে কাজগুলো করেছেন তা তাৎপর্যপূর্ণ; বিশেষ করে অন্ত্যমিল, মধ্যমিলের যে জাদু রয়েছে তা আকর্ষণীয়। জমি-কমই, ঘরকুনো-কক্ষনো, ছলনা-হলো নাÑ এরকম আশ্চর্য সব মিল দিয়েছেন। মধ্যমিলের চমৎকার দৃষ্টান্ত হয়েছে মাত্রাবৃত্তে রচিত ‘হার মানি’ কবিতাটি। লক্ষ্য করা যাক :

সাধ ছিল যত, ছিল না সমান সাধ্য

আরাধ্য তাই

বেশিটাই বাকি রয়ে গেল।

এলোমেলো কাজ যেখানে যা রেখে যাই

তা নিয়ে বড়াই করিনি, করিনি আমি।

জানে অন্তর্যামী।

(নিম্নরেখ ও বাঁকা হরফ দিয়ে শব্দের মিলগুলো দেখানো হয়েছে।)

কবির প্রবল প্রেমানুভূতির কথা না বললে অবিচার করা হবে। সেই সঙ্গে বলতে হবে বাৎসল্যের কথাও। ‘হলুদের দিনে’ কবিতায় কন্যার হলুদের উৎসবের নেপথ্যে পিতা-পুত্রীর গভীরতম কষ্টের অভিব্যক্তি কবিতাটি ধারণ করে আছে, যা আত্মজার বিয়েতে শিক্ষিত নগরবাসী সকল জনকের হৃদয়ানুভূতিরই শিল্পিত প্রকাশ হয়ে উঠেছে। প্রয়াত স্ত্রীর জন্য কবির ভালবাসা ও নির্ভরতার প্রকাশও ঘটেছে একাধিক কবিতায়। প্রেমাস্পদার জীবনাবসান ঘটলেও প্রেমের মৃত্যু নেইÑ এমন জোরালো ধারণা দেয়া হয়েছে ‘সহযাত্রী’ কবিতাটিতে। তবু প্রিয়জনের সান্নিধ্যলাভের তীব্র আকাক্সক্ষায় প্রেমিকের হাহাকার ভরা অসহায় উচ্চারণÑ ‘তুমি কি স্বপ্নেও আর আসবে না?’ (স্বপ্নেও আসবে না)।

আবুল হোসেন বাংলা কবিতাঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কয়েকটি কারণে। বাংলাদেশের নবপর্যায়ের আধুনিকতার কালে তাঁর অভিভাবকত্বের কথাটি শুরুতেই উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয়ত, কবিতার ভাষা ও বিষয়বস্তুতে তিনি আলাদা হয়ে যানÑ ডাইনামো বা ট্রেন নিয়ে কবিতা লেখা যেতে পারে এমন অভিনব ভাবনা তিনি ভেবেছিলেন একটি অনগ্রসর সমাজে। তৃতীয়ত, কবিতার জন্য চাই একটি গীতময়, ভাবাবেগ-ভারাতুর ভাষা, যা দৈনন্দিন জীবনের ভাষা থেকে বহু দূরেরÑ এমন প্রথাবদ্ধ ধারণাকে অস্বীকার করে বরং স্বাভাবিক জীবনে ব্যবহৃত ভাষা ও শব্দকে নিয়ে কবিতা ভাষার নতুন পথ তৈরিতে সচেষ্ট ছিলেন। কবিতায় সুরুচি, বুদ্ধিমত্তা, মনন-যুক্ততা, সর্বোপরি দায়িত্বশীল সামাজিক মানুষের শিক্ষিত কণ্ঠটিকে কথা বলতে দিয়েছেন। দ্রোহ ও প্রতিবাদের সনাতন প্রকাশভঙ্গি থেকে পৃথক হয়ে গভীর সংবেদনশীলতা জাগাতে চেয়েছেন। তাঁর কবিতা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হলেও এখনও তাঁর কৃতিত্ব ও আন্তরিক সাধনার বিষয়টি সঠিকভাবে শনাক্ত হয়নি। সম্ভবত কবিতার সে ধরনের পাঠকও এখন পর্যন্ত অপ্রতুল। কবির উচ্চারণ এখনও কানে বাজে। তিনি বলতেনÑ সবাই কবিতার পাঠক নয়, কেউ কেউ পাঠক।