১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আজকের শিশুরা ডাংগুলি চেনে না


আধুনিকতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের পাতা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য অজপাড়াগাঁয়ের কন্যাশিশুদের বউ-পুতুল, কিশোরদের চিরচেনা ডাংগুলি, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছিসহ অসংখ্য খেলা। এসব খেলাধুলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত। এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘরে ঘরে ভিডিও গেমের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী খেলাধুলা। শৈশবে যেসব খেলাধুলায় দিন কাটিয়েছেন আজকের বয়োবৃদ্ধরা, তারাও এখন ভুলতে বসেছেন সেইসব খেলার নাম।

গ্রামবাংলার চিরচেনা খেলাধুলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তার মধ্যে ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গোশত তোলা, কুতকুত, হাড়িভাঙা, পাতা আনো, বৌছি, দড়ির লাফ, চেয়ার সিটিং, রুমাল চুরি, বালিশ বদল, কানামাছি, ওপেন্টি বায়োস্কোপ, এলাটিং বেলাটিং, ইচিং বিচিং, হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, নোনতা বলরে, কপাল টোকা, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, ষোলোগুড্ডি, মোরগ লড়াই অন্যতম। হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা এখন আর তেমন কোথাও চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই দম ফাটা হাসি হাসে। প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, গ্রামের এসব খেলার মধ্যে বউ-পুতুল, হা-ডু-ডু, ডাংগুলি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌছি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠে এসব খেলা শুধুই স্মৃতি। একসময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে জানত। তার স্থান দখল করেছে লুডু, কেরাম, ক্রিকেট, টিভি ও কম্পিউটার। আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন গঠন করা দরকার। এতে করে আগামী প্রজন্ম আমাদের এসব খেলাকে জানতে পারবে। ভুলে যাবে না শত বছরের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট ষোলো শতকের দিকে বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। তখন বিলেতের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন ক্রিকেটকে বাঁচাতে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয় মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এ ক্লাবটিই ক্রিকেটকে অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যে কোন অখ্যাত খেলাও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। একসময় গ্রামের শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলায় মেতে উঠত। বিকেলে খোলা মাঠে দলবেঁধে খেলত সবাই। শৈশবের দুরন্তপনায় মেতে থাকত ছেলেমেয়ের দল।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে