২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জন্মনিবন্ধন


জন্মনিবন্ধন সনদ নাগরিকের সকল মৌলিক অধিকারকে নিশ্চিত করে। পৃথিবীর উন্নত দেশে জন্মনিবন্ধন সনদকে গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের দেশে এই সনদ গ্রহণের ব্যাপারে সমাজের একটি অংশ এখনও অসচেতন। ফলে সমাজের এই নাগরিকরা সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনও দূরে থাকছে, যা মূলত জাতীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটি তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে জন্মনিবন্ধন সনদে অসচেতনতার এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে জন্মনিবন্ধন করার ক্ষেত্রে বস্তির জনগোষ্ঠী এখনও পিছিয়ে আছে। বস্তিতে জন্ম নেয়া মাত্র ৩৭ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন করে থাকে এবং সিংহভাগ শিশুর পরিবার এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক শিশুর এই জন্মনিবন্ধন সনদ প্রক্রিয়া না হওয়ার পেছনে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বহীনতাও। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট জন্মনিবন্ধন সনদের ব্যাপারে উল্লিখিত জনগোষ্ঠী এখনও সচেতন হয়ে উঠতে পারছে না।

সরকার জন্মনিবন্ধন করার ক্ষেত্রে ২০০৪ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে জন্মনিবন্ধন করাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। বস্তির শিশুদের বেশিরভাগ অভিভাবক মনে করেন জন্মনিবন্ধন অনেক সমস্যার বিষয়। শতকরা ৪১ ভাগ শিশুর অভিভাবক বিষয়টির গুরুত্বই বোঝে না। এদের মধ্যে ৩২ শতাংশ অভিভাবক জানেনই না শিশু জন্মের পর কিভাবে জন্মনিবন্ধন করাতে হয়। বস্তি এলাকায় যে ৩৭ শতাংশ শিশুর জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয় তা সাধারণত হয় স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়। কারণ জন্মনিবন্ধন ছাড়া স্কুলে ভর্তি সম্ভব নয়। বস্তির শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হলে তারা সরকার প্রদত্ত নানা সুবিধা লাভ করে থাকে। বিনামূল্যে বই, বৃত্তিসহ নানা সুবিধা পেয়ে থাকে। প্রতিবেদনে আরেকটি চিত্র উল্লেখ করা হয়েছে বস্তিতে বসবাসকারী শিশুদের ৪৪ শতাংশ পোশাক কারখানায় কাজ করে, ২৪ শতাংশ বিভিন্ন দোকান ও ৯ শতাংশ ভিক্ষা বৃত্তির কাজে জড়িত। কর্মজীবী শিশুদের ৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার, ১২ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে।

বস্তি এলাকায় বাল্যবিবাহও আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৩-১৪ বছর হলেই কন্যা শিশুকে বিয়ে দিচ্ছে অভিভাবকরা। জন্মনিবন্ধন সনদ নাগরিক সুবিধার প্রয়োজনীয় শর্ত। এই সনদ ব্যবহার করে নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে থাকে। শিশুদের জন্মনিবন্ধন করা অভিভাবকদের দায়িত্ব। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাদের ওপর এ দায়িত্ব তাদেরও উচিত এ বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা।