২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্মৃতির নিবিড়ে আমি


মানুষের জন্ম চিৎকারের সঙ্গে মায়ের একটা সংযোগ থাকে। মা সেই চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি সন্তানকে দুধ খাওয়াতে থাকেন, শান্ত করতে থাকেন- এটা হচ্ছে আমাদের জীবনধারা। শুরু থেকে এই জীবন সবাই পাই কমবেশি, আমি পাইনি। কারণ আমার মা খুব অসুস্থ ছিলেন। খাওয়াতে পারেননি। ডাক্তারের নিষেধ ছিল তিনি যেন আমাকে জন্মের পর দুধ না খাওয়ান। আমি সেইভাবে বেড়ে উঠলাম। কী খেয়ে? ভাতের ফ্যানের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে সেইটা আমাকে খাওয়ানো হলো। এটাই আমার জন্মের পরিচয়। সেই পরিচয় ধরেই যখন আমি আস্তে আস্তে বড় হলাম বিভিন্ন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলাম তখন এক সময় আমরা জানলাম ১৯৭১ সাল। সেই ১৯৭১ সাল আমাদের জীবনে অন্য একটা অধ্যায়ের সূচনা করল। সেই অধ্যায়টা কী? এই মার্চ ১৯৭১ সাল। তার আগে যে জীবনটা গেল ১৯৭১ সালের প্রথম থেকে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও আমরা এগুতে থাকলাম। তখনকার পাকিস্তান, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পাকিস্তানের মানুষ আমাদের সঙ্গে বিরোধিতা করল। কারণ আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীনতা, আমরা চেয়েছিলাম যুদ্ধ, আমরা চেয়েছিলাম বিজয়, আমরা চেয়েছিলাম বাংলাদেশ আলাদা একটা ভূখ- হবে। সেই চাওয়াগুলোর প্রেক্ষিত নিয়ে আমি যখন স্বাধীনতার কথা মনে করি তখন আমার মনে পড়ে যায় ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের কথা। যে ভাষণ দিয়ে আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী মহাকবি, আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চারণ করলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ আমি আবার বলছি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’। আমি আবারও বলছি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। যেখানে আমরা সকল মানুষ রেসকোর্স ময়দানে থাকলাম, বুঝলাম, জানলাম, এ এক ধরনের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হলো। আমরা তড়িঘড়ি তখন থেকেই মনে মনে তৈরি হতে লাগলাম, যে কথাটা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যার যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। আবার সেই মার্চ মাস আবার এলেই, আবার যখন মার্চ মাসের কাছাকাছি আসি তখন সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা আমার মনে হয়। আমি তখন দারুণভাবে নিজেকে অন্যরকম মনে করি। আমার তখন যুদ্ধে যাওয়ার বয়স হয়েছিল।

আমি সেই যুদ্ধে যাবার জন্য তৈরি হয়েছিলাম এবং সেই যুদ্ধের স্মৃতি দু-একটা ভীষণভাবে আমাকে মনে করিয়ে দেয়। সেই যুদ্ধ এমন যুদ্ধ যা মনে করলে এখনও পর্যন্ত শিউরে উঠি আমি, একটুখানি বলি সেই যুদ্ধের কথা। কিছু শুকনো রুটি আর মিষ্টি কুমড়ো ভাজি নিয়ে গোল হয়ে বসে আছি আমরা ক’জনা। বড় বড় কাঠবাদামের গাছের নিচে আরও ক’জন শরণার্থীর ভিড়। খাওয়া যাচ্ছে না-তবু খেতে হবে। সবার আগে মুখে তুলে নিল একজন মুক্তিযোদ্ধা। নিন শুরু করুন। শরণার্থী হয়ে বসে থাকলে চলবে না। চটপট এগোতে হবে সামনের ব্রিজটা পর্যন্ত। ওখানেই অপারেশন। অপেক্ষমাণ সবাই।

হালকা চাঁদের আলো ঢাকা পড়লো যেন এক টুকরো গভীর মেঘের আড়ালে গা ছম ছম অন্ধকার নেমে এলো। কেউ কারও ছায়াও দেখতে পাচ্ছিলাম না। মিশমিশে কালো যেন আমরা সবাই। একজনকে ছুঁয়ে আর একজন-এরপর আরও ক’জন-ওপেনটি বায়োস্কোপ খেলার মতো জনে জনে এগিয়ে গেলাম ব্রিজের তলদেশ পর্যন্ত। কে কীভাবে সেদিন পজিশন নিয়েছিল আজ আর মনেই পড়ে না। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচ- বিকট শব্দে ব্রিজটা উড়িয়ে দিয়েছিল মুক্তিবাহিনী। ব্রিজের উপর চলমান জিপের চিহ্নিত শত্রুদের মরণ যন্ত্রণা ছিল এমনই যা আজও সে স্মৃতি ভুলতে পারিনি।

এরকম অসংখ্য স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়। তারপর যখন নাকি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেলাম। যখন সেখানে শব্দ সৈনিক হলাম, যখন সেখানে কবিতা পড়লাম, তখন আর যাঁরা ছিলেন তাঁদের কথা এখনও মনে পড়ে। হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি আসাদ চৌধুরী এবং আরও কয়েকজন কবি যাঁদের কথা আমার এখনও মনে আছে। আমি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কবিতা পড়েছি, শব্দ সৈনিক হয়েছি শুধু তাই নয়, শীত পড়েছিল একটু একটু। মুক্তিযোদ্ধাদের গরম কাপড় কিনে দিতাম, কিনে দিতাম শুকনো রুটি। ওদেরকে চিড়ে মুড়ি এসব কিনে দিতাম যাতে ওরা খেয়ে, পানি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ওদের জন্য এই ধরনের কাজ আমরা করেছি যাতে ওরা সুস্থ থাকে, ওরা যেন যুদ্ধ করতে পারে, ওরা যেন আমাদের স্বাধীনতা এনে দিতে পারে। ওদেরকে এগুলোর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি জিনিস দিয়ে দিলাম যেটা হলো ওষুধ এবং পথ্য। ওষুধের দোকানে গিয়ে গিয়ে বলতাম, দিবেন না? আমাদের মুক্তি ভাইদের জন্যে? ওষুধের কোম্পানি ও দোকানগুলো আমাদের হাতে ওষুধ তুলে দিত। এই যেমন-জ্বর, বমি, ব্যথা এই ধরনের হাত থেকে বাঁচার জন্য। নানান ওষুধ নিয়ে আমরা মুক্তি ভাইদের কাছে দিয়ে আসতাম ।

একটু একটু করে দিন চলে গেছে, অনেকগুলো দিন। সবার জন্য মন বার বার খারাপ হয়েছে। কে কোথায় হারিয়ে গেল বুঝতে পারিনি। দেশের সংবাদ কিছু পাচ্ছিলাম না ওখান থেকে। কোথায় মা, কোথায় বাবা, কোথায় ভাই, কোথায় বোন, কোথায় আত্মীয়-স্বজন, কোথায় আমার সেই আপন বন্ধুগণ। কারও খবরই জানতে পাচ্ছিলাম না। শুধু এটুকু মনে হচ্ছিল আমরা একদিন ফিরে যাবই, আমাদের স্বাধীনতা পাবই। এই বিশ্বাসটা ছিল ভেতরে ভেতরে। ওই যে তখন গানগুলো বার বার করে শুনলাম এই ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা’ বাংলার স্বাধীনতা যেন সেই এলো। বার বার মনে হচ্ছিল ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে। আমরা কজন নবীন মাঝি হাল ধরেছি শক্ত করে রে।’ এই যে আমাদের ভেতরটা কাঁদতো, ভেতরটায় কথাগুলো আমাদের এখনও মনে পড়ে।

আমি আরও একটা কথা বলতে চাই, ২৬ মার্চ কিংবা এই মার্চ মাস এলে স্বাধীনতার যে সুখ, স্বাধীনতার যে আনন্দ, স্বাধীনতার যে সমগ্র চেতনাটা উদ্বুদ্ধ করে। মনে পড়ে আমাদের কাছে যারা ছিল, অনেক রকম কাজ করতেন, যারা আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায় যুক্ত ছিলেন। হয়তো ৭ কোটি, সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ইচ্ছে করলেই যুদ্ধে কিংবা সমরে যেতে পারেনি। কিন্তু বিভিন্নভাবে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন, যারা অন্যদের সহায়তা করেছেন একজন আরেকজনকে, সেটাও আমি মনে করব এক ধরনের মুক্তিযুদ্ধ। এই প্রেক্ষিতে একটু বলা যায়, আমাদের দেশে সংগ্রামী নারীদের কথা তাঁদেরকে বীরমাতা কিংবা বীরাঙ্গনা যাই আমরা বলি না কেন তারা অনেক সময় ক্যাম্পে আটকা ছিল এবং যেখানে তারা পাচক হয়ে রান্না করে ওদেরকে খাইয়েছে, বাধ্য হয়ে নিজেদের সম্ভ্রম দিয়েছে। এই সম্ভ্রমের বিনিময়ে এবং আমাদের ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করলাম। এটার মূল্যায়ন আমরা দিতে থাকলাম, দিতে থাকলাম। একদিন ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীনতা পেয়েছিলাম তার আগেই তো মার্চ মাসের ২৬ তারিখ আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি। স্বাধীনতা দিবস বলছি স্কুল-কলেজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমরা ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস বলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠান করে থাকি। সেগুলো এখনও আমার মনে পড়ে।

আরেকটা জিনিস মনে হয় মার্চ এলে ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। এগুলো আমাকে মনে করতে হয়, আমাদের মনে আসে এগুলো। কারণ একই মার্চে কতগুলো অভ্যুদয়, এই মার্চ মাসকে ভেতরে ধরে রাখি সারাক্ষণ। প্রতিটি দিন আমার কাছে মনে হয় যেন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ১৭ মার্চ শুধু না। এই যে একটা অনুভূতি এই অনুভূতিটা আমাদের সকলের কাছে চলে যাক আমি সেটাই চাই।

আরেক কথা বলতে হয় যারা সেই সময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মানুষ ছিলেন, যারা বিভিন্ন পর্যায় দেশের জন্য কাজ করেছিলেন সেই ’৭১-এ, তাদেরও আমরা সাধুবাদ দেব, ধন্যবাদ দেব। বলব তারাও মুক্তিযোদ্ধা যারা শহীদ হয়েছিল শুধু তারাই না। যারা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে মেরেছে তাদেরকে দেব ধিক্কার। তারা ধিকৃত মানুষ। আমাদের দেশের জন্য সেই মানুষগুলো যারা কষ্ট করে জীবন দিয়ে চলে গেছেন ওদের সঙ্গে (রায়েরবাজার বধ্যভূমিসহ) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমস্ত মানুষ শুয়ে আছে তাদের হাড় কংকাল, তাদের সমস্ত ভেতরে থেকে বলা ‘আমরা ছিলাম বলেই আজ তোমরা স্বাধীন’। কষ্ট লাগে, বিভিন্ন পর্যায়ে বড্ড কষ্ট লাগে যে তাদের জীবনের বিনিময়েই তো আমরা স্বাধীনতাটা পেয়েছি। ১৪ ডিসেম্বর আমার মনে পড়ে যেদিনটাকে আমরা বলি বুদ্ধিজীবী দিবস। এই ১৪ ডিসেম্বরে আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। কত সন্তানরা এই কথাটা বলেছিল, ‘আমার বাবা তুমি কোথায় তুমি স্বাধীনতা দেখবে না, স্বাধীন পতাকা দেখবে না, মানুষের বিজয় উল্লাস দেখবে না। ‘আমরা কি কেবল শুধু কাঁদবো, না আমরা সেই দিনটাকে স্মরণ করবো কাঁদার জন্য না। সেইসব দিনগুলোকে স্মরণ করছি ভেতর থেকে উদ্বেল আনার জন্য, উৎসাহ আনার জন্য, সাহসিকতা আনার জন্য, উজ্জীবিত করার জন্য। সেই ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীনতা পেলাম তখন বিজয়ের আরেক অধ্যায়, সেই অধ্যায় অন্যজীবন, সেই অধ্যায় আলোকিত জীবন, সেই অধ্যায় মানুষের ভেতরের যে মূল্যবোধ সেই মূল্যবোধ স্বীকারের জীবন। আমরা বাঙালীরা যে স্বীকার করছি, আমরা বাঙালীরা যে পেয়েছি অনেক কিছু, আমরা বাঙালীরা যা কিছু পেলাম তার বিনিময়ে শুধু একটি কথা বলব, একটি লাল সবুজের পতাকা একটি জীবন অন্যরকম ধারা এনে দেয়। আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চলে গেছেন ১৯৭৫ সালে। তারপরও আমরা বলবো তাঁর আত্মা, তাঁর চিন্তা তাঁর আদর্শ সমস্ত বাংলাদেশকে সোনার বাংলা করার জন্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ছায়া আমাদের কাছে আছে, তাঁর চলমান জীবনটা আমাদের কাছে আছে। তিনি কখনও মরতে পারেন না, তিনি অমর। বঙ্গবন্ধু, তিনি আমাদের সবার ভেতরে ভেতরে অনেকভাবে রয়ে গেছেন। আমরা সেই মানুষটাকে আজও মনে করছি। যখন ২৬ মার্চ আসে, ১৭ মার্চ পেরিয়ে যায় তখন তাকে বারবার মনে হয় এই দিন তাঁর জন্য ছিল।

যুদ্ধকালীন পাকিস্তানে বন্দীদশায় থেকেও তিনি বলেছিলেন, যদি তোমরা আমাকে মেরে ফেল আমার কোন দুঃখ নেই। শুধু আমার লাশটা তোমরা বাংলার মাটিতে দিয়ে এসো, এই কথাটা আসলে একজনের কথা না, এই কথাটা ভেতর থেকে উঠে আসা জীবনের আসল কথা। তিনি কখনই বাংলার মাটি ছাড়া কোথাও থাকতে চান না। সেই ধারণাটাই যখন ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলায় ফিরে এসলেন তাঁর ভিতরে একটাই চেতনা ছিল, ‘আমার বাংলার মাটি সোনার মাটি, আমার বাংলার ছেলে সোনার ছেলে’। এই ছেলেরাই একদিন সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। আমি সেটাই মনে করি, সব সময় সেটা মনে করি। আজকে ২৬ মার্চের এই দারুণ দিনে, এই অগ্নিঝরা দিনে আমাদের সাফল্যের দিনে আমি শুধু এটুকুই বলব, আমরা যেন আজকে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য তাঁর হাতকে সবাইকে নিয়ে। তিনি ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ তৈরি করবেন। ২০৪১ সালে সোনার বাংলা তৈরি করবেন। এই আশা নিয়েই তিনি আছেন তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। এখনও তিনি আমাদের সেই আদর্শে বড় করছেন যে আদর্শকে আমরা সেখানে যেন পৌঁছাতে পারি। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে পৌঁছাতে পারি তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে। বিশেষ করে নারী জাগরণের কাজ, শিশু জাগরণের কাজ, প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ, আদিবাসীদের জন্য কাজ, এসব তিনি দিনের পর দিন করে যাচ্ছেন। তিনি তো নিশ্চয়ই একটা জায়গায় পৌঁছাবেন সেটা সোনার বাংলা। আমি সেই সোনার বাংলাকে চোখে দেখতে চাই। আমি জানি না ততদিন বাঁচবো কিনা, তবে যদি বেঁচে থাকি আমার সোনার বাংলার এক মুঠো মাটি যেন আমার কবরের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়। জয় হোক ২৬ মার্চ, জয় হোক আমাদের ভূখ-ের, জয় হোক আমাদের বিজয় পতাকার।