ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

আজ ঢাকায় শুরু সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ, অপর ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-ভুটান

নেপালকে হারিয়ে শুরুর প্রত্যাশা বাংলাদেশের

রুমেল খান

প্রকাশিত: ০১:১৬, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নেপালকে হারিয়ে শুরুর প্রত্যাশা বাংলাদেশের
728 x 90 and 300 x 90
728 x 90 and 300 x 90

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে অনুশীলনে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা

আজ শুক্রবার থেকে মাঠে গড়াচ্ছে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসরের খেলা। এতে অংশ নিচ্ছে চার দেশ। এগুলো হলো : স্বাগতিক বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান। ভেন্যু ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মুহাম্মাদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। টুর্নামেন্টের প্রথমদিনে আজ চার দলই মাঠে নামছে। বেলা ৩টায় প্রথম ম্যাচে একবারের চ্যাম্পিয়ন (২০২২) ভারত মোকাবিলা করবে ভুটানকে। সন্ধ্যা ৭টায় দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে খেলা সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী শীর্ষ দুদল আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি হবে। 

এই আসরের সর্বাধিক দুবারের (২০১৮ ও ২০২১) চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এছাড়া গত বছর সিনিয়র সাফেরও শিরোপা জেতায় আজ থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টেও ফেভারিট দল বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক শামসুন্নাহার জুনিয়র বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালকে একই কাতারে রাখছেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনের সম্মেলন কক্ষে টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শামমুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের এই দলটাই দুটো টুর্নামেন্ট খেলেছে (সাফ অ-১৫ ও অ-১৮)।

ওই টুর্নামেন্টে খেলা দলটিই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এবার অ-২০ দল হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আমরা করব। কাল (শুক্রবার) যেহেতু নেপালের সঙ্গে আমাদের ম্যাচ, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব। নেপাল, ভারত, বাংলাদেশ... প্রতিটি দলই আসলে সমানে-সমান। যে দল যখন ভালো কিছু করতে পারবে, সেই দলই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে পারবে।’ শামসুন্নাহার আরও বলেন, ‘বরাবরই মতো এবারও আমাদের টার্গেট ফাইনাল। আপাতত প্রথম ম্যাচ নিয়ে ভাবছি।

অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে আমরা শুরু করেছি। একসঙ্গে অনেকদিন খেলেছি। সাফল্য-ব্যর্থতা ভাগাভাগি করেছি। এবার অনূর্ধ্ব-২০ ট্রফিটাও জিততে চাই।’ বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন জানিয়েছেনÑ আগের অংশ নেয়া সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোর চেয়ে এবার বাংলাদেশ দল আরও ভালো ফল করবে, ‘একটা টুর্নামেন্ট থেকে আরেকটা টুর্নামেন্টে গিয়ে কতটা উন্নতি করছে, মাঠে কি পারফরম্যান্স করছে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এটা যেহেতু টুর্নামেন্ট, এখানে তো জয়-পরাজয় থাকবেই।

আমাদের মেয়েরাও উপলব্ধি করতে পারছে যে তাদের প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আশাকরি সবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। ঢাকার মাঠে তারা যে সর্বশেষ দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছে, তার চেয়েও এবার তারা ভালো করবে বলে আশাবাদী।’ এই কমলাপুরেই গত বছরের নভেম্বরে নেপালের কাছে হেরে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সিনিয়র সাফে আবার এই নেপালকেই হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে তাই ‘প্রতিশোধ’ নেয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নেপাল কোচ ইয়াম প্রসাদ গুরুং বলেন, ‘আগের টুর্নামেন্টে কি হয়েছে, সেটা আমাদের মাথায় নেই। শুধু জানি, এই প্রতিযোগিতায় জিততে এসেছি।’ সিনিয়র সাফে বাংলাদেশের কাছে ফাইনালে হারার সেই ম্যাচে নেপাল দলে ছিলেন এই দলের অধিনায়ক প্রীতি রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ? না এমনটা মনে করছি না। সেটা এখন অতীত।’ 
গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত সিনিয়র সাফে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি ভারত। ওই আসরে খেলেছিলেন মার্টিনা থকচম, যিনি ভারতের বর্তমান দলের অধিনায়ক। বাকি সবাই বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলার। বিশেষ করে গত বছর অক্টোবরে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ^কাপ খেলা ১২ ফুটবলার আছেন এবারের দলে। ভারত কোচ মায়মল রকি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে নিজেদের ফেভারিট মানছি না। বরং বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখব। কারণ সমর্থকরা তাদের ™^াদশ খেলোয়াড়। আমাদের এই দলটি তারুণ্য নির্ভর। বিশ দিনের প্রস্তুতিতে আমরা খেলতে এসেছি। মূলত আমাদের লক্ষ্য হলো এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ।’ 
একমাত্র ভুটান দলই টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের কথা বলেনি। দলটির কোচ কর্মা দেমা বলেন, ‘প্রস্তুতি ভালো নিতে পারিনি। অনেক সমস্যা ছিল আমাদের। বলতে গেলে এই টুর্নামেন্টটি আমাদের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের। শিরোপা জয়ের কথা বলতে পারছি না, তবে এটুকুই বলবÑ ভালো খেলার চেষ্টা করব।’
এই আসরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দল কোন আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ থেলেছে। দুটিই সিনিয়র জাতীয় দলের বিরুদ্ধে। একটিতে জিতেছে (২-১), অপরটিতে হেরেছে (০-৩)। দুই. এই দলে বয়সের কারণে সার্ভিস পাওয়া যাবে না মারিয়া, মনিকা, আঁখি, নীলা, আনাই, স্বপ্না, নার্গিস, শিউলি, মাসুরা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, ঋতুপর্ণাদের। বর্তমান দলে তাদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কম।    
দলে নতুন মুখ দুজনÑ আফরোজা খাতুন ও আইরিন খাতুন। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দলের ছয় সদস্যও আছেন অনূর্ধ্ব-২০-এর এই দলে। তারা হলেন রূপনা চাকমা, ইতি রানী, সাথী বিশ্বাস, শামসুন্নাহার জুনিয়র, স্বপ্না রানী ও সোহাগী কিসকু।
গত আট বছরে নারী দল সিনিয়র ও জুনিয়র দল মিলিয়ে ১১টিতে ফাইনাল খেলে ৯টিতেই শিরোপা জিতেছে ছোটনের শিষ্যারা। দশম শিরোপা জিততে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই ঠিকই। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ঘাটতিÑ এই দুটি ফ্যাক্টরকে সামাল দিয়ে শেষ পর্যন্ত কি আবারও শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে পারবে শামসুন্নাহার-রূপনারা?

×