ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

ভেজাল রোধে হটলাইন

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ভেজাল রোধে হটলাইন

সম্পাদকীয়

নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রুটিনমাফিক আলোচনা হয়। ভালো ভালো কথা শোনা যায়। বাস্তবে কাজের কাজ তেমন হতে দেখা যায় না। তবে এবার কিছুটা ভিন্ন আয়োজন তা প্রত্যক্ষ করা গেল। চালু করা হলো একটি টোল ফ্রি নাম্বার, যে নাম্বারে ফোন করে যে কেউ নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক যে কোনো পরামর্শ বা অভিযোগ জানাতে পারবেন। হটলাইন নাম্বারটি হলো ১৬১৫৫।

এটি সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথাও বলা হয়েছে। আশা করা যায় হটলাইনটি কাজে দেবে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কেউ খাদ্যে ভেজাল মেশালে এবং কারও চোখে তা ধরা পড়লে সহজেই কল করে অভিযোগ করা যাবে। কারও কাছে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ছবি কিংবা ভিডিও থাকলে তা-ও পাঠানো যাবে। জানা যাবে কোন্ খাদ্য কিভাবে নিরাপদ রাখা সম্ভব এবং খাদ্যের গুণাগুণ নিশ্চিত করতে কোথায় কিংবা কোন্ ল্যাবে পরীক্ষা করা যাবে।
নিরাপদ খাদ্য দিবসের আলোচনায় দেশে খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্নও উচ্চারিত হয়েছে এবং এও বলা হয়েছে যে, খাদ্যমান বজায় না রাখার কারণে অনেক দেশে আমাদের সার্টিফিকেট গৃহীত হয় না। ফলে, আমরা বিশ্ববাজারে রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকছি। শুধু তাই নয়, কোনো কোনো দেশ আমাদের পণ্য ফিরিয়েও দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যও উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, যারা খাদ্যে ভেজাল দেয় তারা সাইলেন্ট কিলার। এই কাজটা যারা করছে, তাদের কাছে আমাদের যেতে হবে। সবাই মিলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
সবার জন্য নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া সহজ কাজ নয়। ভেজাল ও অন্যান্য দূষণের ফলে আমাদের খাদ্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে প্রতিদিন। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়াও নানা কারণে খাদ্য দূষিত হতে পারে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, খাদ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ার যে কোনো পর্যায়ে খাদ্য খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত খাদ্যের গুণগতমান নিশ্চিত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষিজমিতে কী পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে, সেই খাদ্যের প্রক্রিয়াজাতের বেলায় উদ্ভূত সংকটগুলো কী উপায়ে মোকাবিলা করা হয় এবং ওই খাদ্যের মান নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে কিনাÑ এই তিনটি বিষয়ের ওপর মূলত নির্ভর করে খাদ্য নিরাপদ কি না সেটি।
সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি করে সরকার। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর এই আইনের আওতায় ২ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে শুধু আইন ও কর্তৃপক্ষই শেষ কথা নয়, প্রত্যেক মানুষকে সচেতন হতে হবে নিরাপদ খাদ্য ক্রয় ও গ্রহণের বিষয়ে। শুধু সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমেই খাদ্যের সর্বাধিক নিরাপদ বলয় নিশ্চিত করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে চালুকৃত হটলাইন মানুষের উপকারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সমর্থ হবে।

×